চীনে করোনার ভ্যাক্সিন দেওয়া ব্যক্তিরা সুস্থ, ফিরলেন বাড়ি

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

চীনে প্রথমবার করোনা ভ্যাক্সিন নেওয়া ব্যক্তিরা ১৪ দিন কোয়ারান্টাইনে থাকার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। মোট ১০৮ জনের মধ্যে এই পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। এর মধ্যে মোট ১৮ জন তাদের কোয়ারান্টাইনের পর্ব শেষ করে বৃহস্পতিবার বাড়ি ফিরে গেছে বলে জানা গেছে। চীনের উহানে তারাই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি, যাদের দেহে পরীক্ষা করা হয়েছিল এই সম্ভাব্য করোনা ভাইরাসের ভ্যাক্সিন।

বিশেষজ্ঞদের দল আরো ৬ মাস ওই ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি চালাবে বলে জানানো হয়েছে। আগামী ৬ মাস ওই ব্যক্তিদের রক্ত নিয়ে তাতে নিয়মিতভাবে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হবে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ভ্যাক্সিন কার্যকর এবং নিরাপদ প্রমাণিত হলে, তারা বিদেশে অতিরিক্ত পরীক্ষা করার পরিকল্পনা করছেন।

১৭ মার্চ এই ভ্যাক্সিনের পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে বয়স এমন মোট ১০৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি স্বেচ্ছায় এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। চীনা মিডিয়া জানিয়েছে, তাদেরকে মোট ৩ ভাগে ভাগ করে পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। এদেরকে উহানে হাসপাতালে আইসোলেশনে রাখা হয়েছিল।

পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এক ব্যক্তি জানিয়েছে, এই পরীক্ষা চলাকালীন তার শরীর সম্পূর্ণ রূপে ঠিক ছিল। তার কোনো অসুবিধা হয়নি। তবে প্রথম দিকে হালকা ব্যাথার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

তিনি জানিয়েছেন, এই সম্ভাব্য করোনা ভ্যাক্সিন-এর ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী। অন্য এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, তিনি ওই ভ্যাক্সিন নেওয়ার পরেও সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন।

চীনের গবেষকরা জানান, প্রথম পরীক্ষাটি যদি সফলভাবে এগিয়ে যায় তবে তারা আন্তর্জাতিকভাবে ভ্যাক্সিন পরীক্ষা বাড়িয়ে দেবে। এই এপ্রিলেই সমস্ত পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে চীনা গবেষকরা। সূত্র: ডেইলি মেইল

নৌকা বা জঙ্গল, বাঙালির যত ‘হোম কোয়ারান্টাইন’

গোটা বিশজুড়ে চলছে করোনার প্রা’দুর্ভাব এরই মধ্যে করোনা মোকাবেলায় হোম কোয়ারান্টাইনে সময় কাটাচ্ছে মানুষ। নিজ নিজ বাড়িকেই বেছে নিয়ে সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা হিসেবে। তবে সেল্ফ আইসোলেশনের জন্য অদ্ভুত কিছু জায়গার খোঁজ করেছে ভারতের বেশ কয়েকজন মানুষ।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অনেকে নিজেদের পচ্ছন্দমত জায়গায় কোয়ারান্টাইনে আছেন। মালদা জেলার নিরঞ্জন হালদার লকডাউনের কারণে বাড়ি ফিরে যেতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত নৌকায় আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।

নিরঞ্জন বলেন, গ্রামবাসী করোনা আত’ঙ্কে কেউ তাদের বাড়িতে থাকার জায়গা দেয়নি। তবে একটি নৌকার ব্যবস্থা করেছে এবং সেই সাথে খাবার। এরকম আরো ৩ জন অভিবাসী তাদের বাড়িতে যেতে পারেনি। গেল মঙ্গলবার থেকে একজন কাঠুরে জায়গা নিয়েছেন জঙ্গলের ভিতরে। তাঁবু বানিয়ে সেখানেই কোয়ারান্টাইনে আছেন তিনি। নিজ পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতেই ১৪ দিনের এমন আইসোলেশনে গেছেন তারা।

পুরুলিয়া জেলার ৭ জন অভিবাসী যারা চেন্নাই থেকে এসেছেন তারা গাছে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অনেকে আবার বাঁশের মাচা করে সেখানে রাত দিন পার করছে। বিষয়টি প্রশাসন জানার পর জরুরী ব্যবস্থা নিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্বের মত বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরছেন সরকারী বেসরকারী এনজিও। পূর্ব বর্ধমান জেলার একটি অঞ্চলে লুডু বোর্ড এবং ডাইস বিতরণ করছে একটি এনজিও যাতে মানুষ বাড়ির ভিতরে থেকে সময় কাটাতে পারে।

শেয়ার করুন !
  • 137
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply