দ্রুত করোনা-ভ্যাক্সিন চান বিল গেটস, প্রয়োজনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিতেও রাজি

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ধনকুবের বিল গেটস করোনা ভাইরাসের ভ্যাক্সিন দ্রুত উদ্ধাবনের জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অনুদান দিতে প্রস্তুত আছেন। এদিকে গত কয়েক মাসে করোনা ভাইরাসে আক্রা’ন্ত হয়েছে বিশ্বব্যাপী ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৩শ ৯০ জন এবং মা’রা গেছে ৫৯ হাজার ১শ ৫৯ জন। তবে করোনা চিকিৎসার ও’ষুধ কিংবা ভ্যাক্সিন এখন পর্যন্ত নেই। বিষয়টি নিয়ে সারাবিশ্বের মানুষ এখন আত’ঙ্কে রয়েছে।

সারাবিশ্বের বিজ্ঞানিরা করোনার ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। অনেকেই আশার আলো দেখালেও এখন পর্যন্ত কেউ নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি যে- সফলতা পেয়েছেন। করোনার ভ্যাক্সিন বাজারে আসতে এক থেকে দেড় বছর সময় লাগার কথাও বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে বিল গেটস সময় ন’ষ্ট করতে চান না। মার্কিন টেলিভিশনের এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, তার দাতব্য সংস্থার অর্থায়নে ভ্যাক্সিন তৈরির জন্য ফ্যাক্টরি তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে অন্তত ৭ জন বিশিষ্ট বিজ্ঞানি নিরলসভাবে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি আরো বলেছেন, আমরা চাইলেই কেবল ২ জনকে বাছাই করতে পারতাম। কিন্তু আমরা সময় ন’ষ্ট করতে চাই না। সে কারণে ৭ জনকেই কাজে লাগাচ্ছি। এজন্য বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করতে রাজি থাকার কথাও জানান তিনি।

দ্রুত ভ্যাক্সিন চান বিল গেটস, বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচেও রাজি

চীনে প্রথমবার করোনা ভ্যাক্সিন নেওয়া ব্যক্তিরা ১৪ দিন কোয়ারান্টাইনে থাকার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। মোট ১০৮ জনের মধ্যে এই পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। এর মধ্যে মোট ১৮ জন তাদের কোয়ারান্টাইনের পর্ব শেষ করে বৃহস্পতিবার বাড়ি ফিরে গেছে বলে জানা গেছে। চীনের উহানে তারাই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি, যাদের দেহে পরীক্ষা করা হয়েছিল এই সম্ভাব্য করোনা ভাইরাসের ভ্যাক্সিন।

বিশেষজ্ঞদের দল আরো ৬ মাস ওই ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি চালাবে বলে জানানো হয়েছে। আগামী ৬ মাস ওই ব্যক্তিদের রক্ত নিয়ে তাতে নিয়মিতভাবে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হবে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ভ্যাক্সিন কার্যকর এবং নিরাপদ প্রমাণিত হলে, তারা বিদেশে অতিরিক্ত পরীক্ষা করার পরিকল্পনা করছেন।

১৭ মার্চ এই ভ্যাক্সিনের পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে বয়স এমন মোট ১০৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি স্বেচ্ছায় এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। চীনা মিডিয়া জানিয়েছে, তাদেরকে মোট ৩ ভাগে ভাগ করে পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। এদেরকে উহানে হাসপাতালে আইসোলেশনে রাখা হয়েছিল।

পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এক ব্যক্তি জানিয়েছে, এই পরীক্ষা চলাকালীন তার শরীর সম্পূর্ণ রূপে ঠিক ছিল। তার কোনো অসুবিধা হয়নি। তবে প্রথম দিকে হালকা ব্যাথার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

তিনি জানিয়েছেন, এই সম্ভাব্য করোনা ভ্যাক্সিন-এর ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী। অন্য এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, তিনি ওই ভ্যাক্সিন নেওয়ার পরেও সুস্থা ও স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন।

চীনের গবেষকরা জানান, প্রথম পরীক্ষাটি যদি সফলভাবে এগিয়ে যায় তবে তারা আন্তর্জাতিকভাবে ভ্যাক্সিন পরীক্ষা বাড়িয়ে দেবে। এই এপ্রিলেই সমস্ত পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে চীনা গবেষকরা। সূত্র: ডেইলি মেইল

শেয়ার করুন !
  • 1.6K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!