মাস্ক নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আবারও বিপরীত বক্তব্য

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মাত্র কয়েকদিন আগেও গণহারে মাস্ক না পরার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। করোনা ভাইরাস প্র’কোপের শুরু থেকেই তাদের পরামর্শ ছিল আক্রা’ন্ত আর তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি বাদে আর কারও মাস্ক পরার দরকার নেই। সেই অবস্থান থেকে ইউটার্ন নিয়েছে সংস্থাটি। এখন তারা সবাইকে মাস্ক পরতে বলছে।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার (৪ এপ্রিল) এমন পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। জরুরি স্বাস্থ্য কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক ডা. মাইকেল রায়ান বলেছেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মাস্ক ব্যবহার করে সংক্র’মণ কমিয়ে আনছে। তাই করোনা প্রতিরোধের অংশ হিসেবে মাস্ক ব্যবহারকে আমরা সমর্থন জানাচ্ছি।

তবে সর্বসাধারণের মাস্ক ব্যবহারের ফলে বিশ্বজুড়ে সার্জিক্যাল মাস্কের সং’কট দেখা দিতে পারে; সেই শ’ঙ্কার কথাও আবার জানিয়েছে সংস্থাটি। করোনা সংক্র’মণ ঠেকাতে মাস্ক ব্যবহারের কথা বললেও আগের মতো ঘন ঘন হাত ধোয়া, নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব রক্ষা ও বারবার মেডিক্যাল টেস্ট করানোকে করোনা ঠেকানোর প্রধান পদক্ষেপ হিসেবে আবারও বর্ণনা করেছে ডব্লিউএইচও।

এর আগে গত ২৯ মার্চের সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার জরুরি স্বাস্থ্য কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক মাইক রায়ান বলেন, গণহারে মাস্ক পরার কারণে বিশ্বজুড়ে এই সরঞ্জামের ব্যাপক স’ঙ্কট দেখা দিয়েছে। যেসব স্বাস্থ্যকর্মী সামনে থেকে করোনায় আক্রা’ন্ত রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত, বর্তমানে তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁ’কিতে রয়েছেন। কেননা তারা প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে ভাইরাসটির সংস্পর্শে আসছেন। তাদের মাস্ক না থাকার বিষয়টি ভ’য়াবহ।

চীনে করোনার ভ্যাক্সিন দেওয়া ব্যক্তিরা সুস্থ, ফিরলেন বাড়ি

চীনে প্রথমবার করোনা ভ্যাক্সিন নেওয়া ব্যক্তিরা ১৪ দিন কোয়ারান্টাইনে থাকার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। মোট ১০৮ জনের মধ্যে এই পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। এর মধ্যে মোট ১৮ জন তাদের কোয়ারান্টাইনের পর্ব শেষ করে বৃহস্পতিবার বাড়ি ফিরে গেছে বলে জানা গেছে। চীনের উহানে তারাই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি, যাদের দেহে পরীক্ষা করা হয়েছিল এই সম্ভাব্য করোনা ভাইরাসের ভ্যাক্সিন।

বিশেষজ্ঞদের দল আরো ৬ মাস ওই ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি চালাবে বলে জানানো হয়েছে। আগামী ৬ মাস ওই ব্যক্তিদের রক্ত নিয়ে তাতে নিয়মিতভাবে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হবে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ভ্যাক্সিন কার্যকর এবং নিরাপদ প্রমাণিত হলে, তারা বিদেশে অতিরিক্ত পরীক্ষা করার পরিকল্পনা করছেন।

১৭ মার্চ এই ভ্যাক্সিনের পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে বয়স এমন মোট ১০৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি স্বেচ্ছায় এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। চীনা মিডিয়া জানিয়েছে, তাদেরকে মোট ৩ ভাগে ভাগ করে পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। এদেরকে উহানে হাসপাতালে আইসোলেশনে রাখা হয়েছিল।

পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এক ব্যক্তি জানিয়েছে, এই পরীক্ষা চলাকালীন তার শরীর সম্পূর্ণ রূপে ঠিক ছিল। তার কোনো অসুবিধা হয়নি। তবে প্রথম দিকে হালকা ব্যাথার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

তিনি জানিয়েছেন, এই সম্ভাব্য করোনা ভ্যাক্সিন-এর ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী। অন্য এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, তিনি ওই ভ্যাক্সিন নেওয়ার পরেও সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন।

চীনের গবেষকরা জানান, প্রথম পরীক্ষাটি যদি সফলভাবে এগিয়ে যায় তবে তারা আন্তর্জাতিকভাবে ভ্যাক্সিন পরীক্ষা বাড়িয়ে দেবে। এই এপ্রিলেই সমস্ত পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে চীনা গবেষকরা। সূত্র: ডেইলি মেইল

শেয়ার করুন !
  • 40
  •  
  •  
  • 0
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply