❝মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ব্যর্থ মন্ত্রীদের সরিয়ে দিন, প্লিজ❞

0

মুক্তমঞ্চ ডেস্ক:

বাংলাদেশ করোনা সং’কট ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। মা’রা গেছেন ৩ জন। এ নিয়ে দেশে করোনা রোগীর সংখ্যা হলো ১২৩ জন। আর মৃ’তের সংখ্যা ১২ জন। নতুন করে আর কেউ সুস্থ হয়ে ওঠেনি।

করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার পিছনে আমাদের সমন্বয়হীনতা, আমাদের ব্যক্তি পর্যায়ের দায়িত্বহীনতা এবং সরকারের সমন্বয়হীনতা ও কিছু কিছু ব্যর্থতা অবশ্যই দায়ী। এই সং’কট মোকাবেলার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রয়োজন একটি দক্ষ, কর্মক্ষম, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে পারঙ্গম একটি টিম। বর্তমানে যে মন্ত্রিসভা বা টিম নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কাজ করছেন, এই টিমের অনেকেই অ’যোগ্যতা, ব্যর্থতা এবং দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছেন। এখন প্রয়োজন তাদেরকে অপ’সারণ করে যোগ্যদেরকে সামনে নিয়ে আসা।

প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন করোনা হলো একটি যু’দ্ধের মতো, এতে জয়ী হতেই হবে। এজন্য প্রয়োজন দক্ষ সৈনিক। প্রধানমন্ত্রীর দক্ষতা, দুরদৃষ্টি, দিনরাত এক করা পরিশ্রম- নজিরবিহীন এবং অবশ্যই অনুসরণীয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সহযো’দ্ধা যারা, তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগ ও পরিকল্পনাগুলোকে বিভিন্ন পর্যায়ে বাস্তবায়ন করবেন যারা, তাদের অনেকের যোগ্যতা, দায়িত্বহীনতা নিয়ে গত ১ মাসে অসংখ্য প্রশ্ন উঠেছে। এ কারণে তাদেরকে দিয়ে এখন বাংলাদেশ করোনা মহামা’রী কীভাবে ঠেকাবে, সেই কথাটা এখন জনমনে উঠছে।

বিশেষ করে ব্যর্থতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করলে দেখা যাবে, সবার আগে নাম আসবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির। স্বাস্থ্যবিধি মেনে গার্মেন্টস খোলা রাখার ফতোয়ার কারণে বাংলাদেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ার শ’ঙ্কা দেখা দিয়েছে। একজন ব্যক্তির জন্য বাংলাদেশে আজ আত’ঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে সরকার ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সবকিছু বন্ধ ঘোষণা করেছে, সেখানে বাণিজ্যমন্ত্রী গতকাল রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে গার্মেন্টস খোলার সিদ্ধান্ত দেন কিসের ভিত্তিতে?

প্রধানমন্ত্রী, আমরা জানি যে আপনি অতি ক্ষমাশীল, আপনি উদার এবং কেউ ব্যর্থ হলেই আপনি তাকে সরিয়ে দেন না। কিন্তু বাণিজ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত কোনো ব্যর্থতা নয়, এটা অ’মার্জনীয় অপরাধ। এই অপরাধের জন্য তার শা’স্তি পাওয়া উচিৎ।

আমরা দেখেছি যে যখন করোনার প্র’কোপ শুরু হলো চীনে, তখন থেকেই আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা। দেশে যখন প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হলো, তখনও পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনার প্রস্তুতি শুধুমাত্র মুখের কথাতেই। এক আইইডিসিআর এর শ’খানেক রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা দিয়েই আমরা করোনা মোকাবেলার চেষ্টা করলাম। তারপর ধাপে ধাপে ১ মাস পার হওয়ার পর আমরা দেশে ১৪টির মতো ল্যাব প্রস্তুত করতে পেরেছি। আবার সেই ল্যাবগুলোর কার্যক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

এখনো দেশের হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত করার কথা মুখে বলা হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত করোনা পরীক্ষা এবং চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট কিছু হাসপাতালের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু আমরা জানি সেই হাসপাতালগুলোর অনেকগুলোই এখনো প্রস্তুত নয়।

এখানেই শেষ নয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে যে সমন্বয়হীনতা, সেটা সবসময় চোখে পড়ছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরেও করোনা পরীক্ষার সংখ্যা হাজারে নেওয়া যাচ্ছে না। পিপিই নিয়েও চলছে সং’কট। বেসরকারি চিকিৎসকরা হাসপাতালেই যাচ্ছে না। এরকম সবকিছুর মধ্যে দেশে করোনা রোগী কতো সেই প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে যেন গ্যালারি প্রদর্শনেরই প্রতিযোগীতা চলছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের।

এছাড়াও আরও অনেক মন্ত্রী আছেন, যারা করোনা মোকাবেলার জন্য যথাযথ দায়িত্ব পালন করছেন না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এখন যু’দ্ধের সময়। এখন আপনার সত্যিকারের কমান্ডার প্রয়োজন হবে, সাহসী সৈনিক নিতে হবে, তেমনি এখনই মন্ত্রিসভাকে ঢেলে সাজানো, অ’যোগ্য, ব্যর্থ এবং যারা নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থের জন্য জনগণের জানমালকে জি’ম্মি করেছেন- তাদের বিরু’দ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তা না হলে এই মহামা’রীর যে দায়, তা সরকারের ওপরই বর্তাবে নিঃসন্দেহে।

লেখক: ক্বারী ইকরামুল্লাহ মেহেদী
পরিচিতি: শিক্ষক ও গণমাধ্যম কর্মী
পেকুয়া, কক্সবাজার

শেয়ার করুন !
  • 4.9K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply