বেনজীর হচ্ছেন আইজিপি, র‌্যাবের ডিজি আব্দুল্লাহ আল মামুন

0

সময় এখন ডেস্ক:

র‌্যাবের মহাপরিচালক ড. বেনজীর আহমেদ পুলিশের নতুন আইজি ও সিআইডি’র প্রধান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে র‌্যাবের মহাপরিচালক নিযুক্ত করতে যাচ্ছে সরকার।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সংক্রান্ত সার সংক্ষেপ অনুমোদন দেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশের আইজির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই নতুন আইজি নিয়োগের জন্য দ্রুত সার সংক্ষেপ পাঠাতে মন্ত্রী ও সচিবকে নির্দেশনা দেন।

এরপর গত সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, অতিরিক্ত সচিব মু. মোহসিন চৌধুরী, যুগ্মসচিব (পুলিশ-১) ড. মো. হারুন অর রশিদ বিশ্বাস, উপসচিব (পুলিশ-১) ধনঞ্জয় কুমার দাসকে নিয়ে এক বৈঠকে সার সংক্ষেপ তৈরি করেন।

মঙ্গলবার দুপুরের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব (পুলিশ-১) ধনঞ্জয় কুমার দাস গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের কাছে সার সংক্ষেপ পৌঁছে দেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সার সংক্ষেপ অনুমোদন করেন।

উল্লেখ্য, আগামী ১৩ এপ্রিল বর্তমান আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারীর মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। তার স্থলে র‌্যাবের মহাপরিচালক ড. বেনজীর আহমেদকে পুলিশের ৩০তম আইজি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমান আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারীকে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।

বঙ্গবন্ধুর খু’নিদের দেশে এনে রায় কার্যকরের প্রচেষ্টায় আছি আমরা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হ’ত্যা মামলায় ফাঁ’সির রায় হওয়া পলাতক আসামি ক্যাপ্টেন (বরখা’স্ত) আবদুল মাজেদ গত ২৫ বছর ধরে ভারতে পালিয়ে ছিলেন। করোনা ভাইরাস আত’ঙ্কে সেখান থেকে গত ২৬ মার্চ ময়মনসিংহের সীমান্ত এলাকা দিয়ে অ’বৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (৬ এপ্রিল) মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)।

সিটিটিসি সূত্রে জানা গেছে, ভারতের কলকাতায় আবদুল মাজেদ নিজেকে আবদুল মজিদ পরিচয় নিয়ে পলাতক ছিলেন। এর আগে লিবিয়া ও পাকিস্থানেও লুকিয়ে ছিলেন তিনি।

মাজেদকে গ্রেপ্তারের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ভিডিও বার্তায় বলেন, আমরা দীর্ঘদিন দ’ণ্ডপ্রাপ্ত বঙ্গবন্ধুর খু’নিদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। তার স্ত্রী সালেহা বেগম। বাড়ি নম্বর ১০/এ, রোড নম্বর ১, ক্যান্টনমেন্ট আবাসিক এলাকা। তিনি সেখানে বসবাস করতেন। আমাদের গোয়েন্দাদের কাছে তার সব তথ্য ছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু হ’ত্যাকাণ্ডে দ’ণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদ, নূর ও রিসালদার মোসলেহউদ্দিন এই ৩ জনের অবস্থান ছিল। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিল। মাজেদ তখন লেফটেন্যান্ট ছিলেন। এই খু’নি শুধু বঙ্গবন্ধুর হ’ত্যাকাণ্ডেই অংশগ্রহণ করেননি, তিনি ৩ নভেম্বর জেলহ’ত্যায়ও অংশ নিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, এরপর আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতায় আসে ১৯৯৭ সালে, তার আগেই তিনি পালিয়ে যান। আমাদের গোয়েন্দাদের তৎপরতা ছিল তাকে ধরার জন্য। গোয়েন্দা বাহিনী এবং যারা যারা তাকে গ্রেপ্তারের কাজে ছিল, তারা সবাই ভালো কাজ করেছে বলে আমি মনে করি।

শেয়ার করুন !
  • 489
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!