‘এখন ঘরে থাকাই একমাত্র সমাধান, আর কোনো উপায় নাই’

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

সারাবিশ্বে করোনা মহামা’রির ১০০ দিন অতিক্রম হয়েছে। অর্থাৎ, ৩ মাস পেরিয়েছে করোনার দাপট। সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমরা যেটা বুঝি, করোনা নিরাময়ের মোট পথ হলো ৪টি। যেগুলো আমাদের সামনে দৃশ্যমান।

প্রথম পথ হলো, আমাদের অবশ্যই সচেতন, সতর্ক হতে হবে। আমাদের দ্বারা করোনা সংক্র’মিত না হয় যাতে, সেজন্য আমাদের সামাজিকভাবে বিচ্ছি’ন্ন হতে হবে। যেটাকে আমরা বলি কোয়ারান্টাইন, নিজেকে সবার থেকে বিচ্ছি’ন্ন করে ঘরে থাকতে হবে। এটাই সর্বোত্তম পন্থা এখন।

দ্বিতীয় পথ হলো, করোনা থেকে বাঁচতে নির্দিষ্ট কিছু স্বাস্থ্যবিধি রয়েছে, সেগুলো অবশ্যই মেনে চলতে হবে। সবকিছু মিলিয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। সাবান, স্যানিটাইজার এবং হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে নিয়মিত হাত ধুতে হবে, বাইরে বের হতে গেলে অবশ্যই মাস্ক পরে বের হতে হবে, নাকে মুখে হাত দেওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে, ঘরবাড়ি, নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র নিয়মিত পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

তৃতীয় পথটি হলো, কেউ আক্রা’ন্ত হলে তার জন্য সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। যেহেতু এই মহামা’রির কোনো ভ্যাক্সিন এখন পর্যন্ত নেই, তাই আক্রা’ন্তের পর চিকিৎসাই একমাত্র ভরসা। করোনার ক্ষেত্রে ‘সিম্পটম ট্রিটমেন্ট’ বা উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা একমাত্র উপযোগী। এই যেমন শ্বাসক’ষ্টের জন্য তার চিকিৎসা, নিউমোনিয়া হলে সেই উপসর্গের চিকিৎসা ইত্যাদি।

চতুর্থ পথটি হলো, চিকিৎসাকালীন সময়ে আক্রা’ন্ত মুমূর্ষ রোগীর দ্বারা অন্যজন বা হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী বা চিকিৎসকরা যাতে সংক্র’মিত না হয়, সেই ব্যবস্থা করা। তাদের সুরক্ষিত করার জন্য সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

আমাদের দেশে এখন যে অবস্থা, এখন পর্যন্ত করোনা মহামা’রি আকারে ছড়িয়ে পড়েনি, ব্যাপকভাবে সংক্র’মিত হয়নি। এই অবস্থায় আমাদের বাঁচার উপায় কী? উপায় অবশ্যই রয়েছে।

আমরা স্বীকার করি বা না করি আমাদের দেশে চিকিৎসা ব্যবস্থা বেশ দুর্বল। তবে আমাদের যা করতে হবে, তা হলো- আমাদের প্রথম দুটি পথের দিকে নজর দিতে হবে। অর্থাৎ ঘরে থাকতে হবে এবং যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা ঘরে থাকবো, ততক্ষণ আমরা ভাইরাসটিকে ছড়াবো না। এই ভাইরাসকে আমরা যতক্ষণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবো, ততক্ষণ মনে রাখতে হবে এই মহামা’রি থেকে বাঁচার একটা ক্ষীণ সুযোগ এখনো আমাদের রয়েছে।

এটাও মনে রাখতে হবে যে, আমাদের দেশে যদি একবার মহামা’রির বিস্তার হয় তাহলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভে’ঙে পড়বে। এজন্য এখন আমাদের একমাত্র উপায় হলো ঘরে থাকা। আমরা যদি ঘরে থাকি, আমাদের সংক্র’মণ যতটুকু আছে তা যদি এখনই থামিয়ে দিয়ে সিলগালা করে দেওয়া যায়, সংক্র’মিতদের যদি শুশ্রুষার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলা যায়, তাহলে করোনা মোকাবেলা আমাদের জন্য অনেক সহজ হবে।

আমরা করোনা সংক্র’মণের ১ মাস পেরিয়ে এসেছি। এখন সামনের দুটো মাস আমাদের কাছে জরুরি। যে দেশগুলোতে করোনা মহামা’রি আকার ধারণ করেছে, সেখানে দেখেছি করোনা ৩ মাসের প্যাকেজের মতো ধাপে ধাপে রূপ পাল্টে ভ’য়ংকর হয়েছে। সেই ৩ মাসের প্রথম মাস আমরা কাটিয়ে উঠেছি। এখন এই ২য় মাসটা আমরা যদি লকডাউনে থাকি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি তাহলে আমরা অবশ্যই একটা ইতিবাচক অবস্থায় আসতে পারবো।

শেয়ার করুন !
  • 74
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply