বঙ্গবন্ধুর খু’নীদের সাথে তারেকের ব্যবসায়িক সম্পর্কের তথ্য!

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

বঙ্গবন্ধু হ’ত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের মধ্যে ৬ জনের ফাঁ’সি কার্যকর হয়েছে এবং ৬ জন এখনো বিভিন্ন দেশে পলাতক রয়েছেন। এই পলাতক ৬ খু’নীদের মধ্যে সর্বশেষ খু’নী মাজেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখনো ৫ জন পলাতক রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সময় তাদেরকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে, ফিরিয়ে আনা হবে বললেও বাস্তবে তার অগ্রগতি অনেক কম। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন বলেছেন, মুজিববর্ষে তিনি বঙ্গবন্ধুর বাকি হ’ত্যাকারীদের ফিরিয়ে আনবেন। যদি সত্যিই তিনি ফিরিয়ে আনতে পারেন তাহলে নিশ্চয়ই তিনি প্রশংসার দাবিদার হবেন।

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, এই বাকি ৫ জনের মধ্যে ৩ জন ছাড়া বাকিরা কোথায় রয়েছেন সেই তথ্য নেই সরকারের কাছে। বঙ্গবন্ধুর খু’নীদের শিরোমনি খন্দকার আব্দুর রশীদ। তিনি কোথায় রয়েছেন, সেই সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই সরকারের কাছে। শরীফুল হক ডালিমের সম্পর্কেও বিভিন্ন তথ্য শোনা যায়। জানা যায়, তিনি বিভিন্ন দেশে ঘুরেফিরে বেড়ান। নূর চৌধুরী কানাডায় অবস্থান করছেন, রাশেদ চৌধুরী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। রিসালদার মোসলেম উদ্দিন ভারতে অবস্থান করছেন। এদের ব্যাপারে এরকম নিশ্চিত তথ্য জানা গেছে।

তবে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, খু’নী আব্দুর রশীদ এবং শরীফুল হক ডালিমের সঙ্গে বিএনপির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে এবং তারা তারেক জিয়ার ব্যবসায়িক পার্টনারও। খন্দকার আব্দুর রশিদ দীর্ঘদিন লিবিয়া অবস্থান করেছিলেন। লিবিয়া থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি পাকিস্থানে চলে যান। সেখানে বসেই তিনি ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করছেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে রশিদকে পাকিস্থান থেকে আনার ব্যাপারে দুই দফা কূটনৈতিক বৈঠক করলেও পাকিস্থান সরকার অনুষ্ঠানিকভাবে সেখানে রশিদের থাকার কথা অ’স্বীকার করে।

বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে, রশীদ পাকিস্থানেই অবস্থান করছেন, পাকিস্থানের পাসপোর্ট গ্রহণ করে তিনি তারেকের বিজনেস পার্টনার হিসেবে দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ব্যবসা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। খু’নী রশীদের অন্তত ৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেই অ্যাকাউন্টগুলোতে যে অর্থকড়ি রয়েছে সেগুলো তারেকের বলেই বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে। বঙ্গবন্ধুর আরেক খু’নী শরীফুল হক ডালিম কেনিয়াতে ছিলেন। কেনিয়াতে থাকা অবস্থাতেই তিনি দক্ষিণ আফ্রিকাতে ব্যবসা বাণিজ্য শুরু করেন। এখনও দক্ষিণ আফ্রিকাতেই ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং মাঝেমধ্যেই তিনি ইউরোপে যান।

একটি অ’সমর্থিত সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে ডালিমকে যুক্তরাজ্যে দেখা গেছে এবং সেখানে তিনি ভিন্ন পাসপোর্ট নিয়ে নাম গোপন করে গিয়েছিলেন। সেখানে তারেকের সঙ্গে তার বৈঠকও হয়েছে। ডালিম এবং রশীদ দু’জনেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হাম’লার ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত বলে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। বিভিন্ন দেশে থেকে তাদের মূল কাজ হলো বাংলাদেশবিরো’ধী তৎপরতা এবং শেখ হাসিনাকে উৎ’খাত করা। এজন্য তারা বিভিন্ন সময়ে জ’ঙ্গীসহ নানা সন্ত্রা’সীগোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মিলিয়েছে এমন তথ্যও পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে নূর চৌধুরীকে ফেরত নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ কয়েক দফা কানাডা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করলেও এখন পর্যন্ত নূর চৌধুরীর ব্যাপারে কানাডা সরকার ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। কারণ কানাডার আইন অনুযায়ী মৃ’ত্যুদ’ণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দেশের আসামীকে কানাডা আশ্রয় দেয়, ফেরত দেয় না। কারণ কানাডায় মৃ’ত্যুদ’ণ্ড নিষি’দ্ধ।

অন্যদিকে রাশেদ চৌধুরী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কূটনৈতিক তৎপরতার অনেকখানিই অগ্রগতি হয়েছে। রিসালদার মোসলেম উদ্দিন এখন ভারতে তাবলীগের সঙ্গে জড়িত এমন তথ্য পাওয়া গেছে। ভারত সরকার জানিয়েছে, তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ভারত সরকার বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে।

বাংলাইনসাইডার

শেয়ার করুন !
  • 415
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!