হৃদযন্ত্র মজবুত রাখতে গাজর খান

0

লাইফ স্টাইল ডেস্ক:

চোখ ও হৃদযন্ত্রের জন্য গাজর খুবই উপকারী। গাজরে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ আছে। হৃদযন্ত্রের সমস্যা প্রতিরোধে গাজর সাহায্য করে। হৃদযন্ত্র ভালো ও সবল রাখতে গাজর খান। গাজরের সলিউবল ফাইবার হাই কলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। ব্লাড সুগার লেভেল ঠিক রাখে, ক্যারোটিনয়েড সমৃদ্ধ গাজর ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স প্রতিরোধ করে। হাই ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করে।

যেসব অসুখ সারাতে সাহায্য করে গাজর: ১. ওবেসিটি ২. অ্যালঝেইমার ৩. অ্যাজমা ৪. মাড়ির সমস্যা ৫. রোখের সমস্যা ৬. কোলাইটিস ৭. ইনসমনিয়া ৮. কিডনি, ৯. লিভার ও ১০. গলব্লাডারের সমস্যা।

এছাড়াও গাজর সূর্য্যের আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। যাদের বলিরেখা রয়েছে, রোদে পুড়ে গেছে এরকম ত্বকের যত্নে গাজর ব্যবহার করুন। গাজরের ক্যারোটিনয়েড এরকম ত্বকের উপশমে সাহায্য করে। আলট্রা-ভায়োলেট রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে স্কিন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

ত্বকের ন্যাচারাল ট্যান ভাবকে ধরে রাখে। গাজর খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে যাবে। কাঁচা গাজরের তুলনায় সেদ্ধ গাজরে পুষ্টিগুণ বেশি। গাজরের জ্যুসও বেশ স্বাস্থ্যকর। কারণ গাজরের জ্যুসে সহজপাচ্য ফাইবার থাকে। কাঁচা গাজরের চেয়ে গাজরের জ্যুস খেলে সহজে শরীরের মধ্যে প্রয়োজনীয় উপাদান পৌঁছায়।

রোগ প্রতিরোধে মশলার ভূমিকা

খাবারের স্বাদ বাড়াতে মশলার বিকল্প নেই। ভারতীয় উপমহাদেশে প্রায় সব তরকারিতেই ব্যবহার করা হয় মরিচ ও হলুদ। হাজার বছর ধরে এশিয়াতে নানাভাবে হলুদ ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং বিশ্বাস করা হয় এটি আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে। বিশ্বের নানা প্রন্তে কফি শপেও প্রচলন শুরু হয়েছে হলুদের। এসব মশলা কি সত্যিই আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর না উপকারী- এমন প্রশ্ন স্বভাবতই মনে উঁকি দিতে পারে।

মরিচ

শরীরে মরিচের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে অনেক গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। এতে দেখা গেছে মরিচে উপকার-ক্ষ’তি দুই-ই আছে। মরিচের প্রধান সক্রিয় উপাদান ক্যাপসাইসিন। যখন আমরা মরিচ খাই তখন এর অণু আমাদের শরীরের তাপমাত্রার কাঠামোর সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে যা মস্তিষ্কে তাপের অনুভূতি জাগায়।

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যাপসাইসিন আয়ু বাড়াতে সহায়তা করে। যারা কখনই মরিচ খায়নি তাদের চেয়ে যারা সপ্তাহে অন্তত ৪ বার মরিচ খায় তাদের ডেথরিস্ক কম।

হার্ভাড স্কুলের একটি গবেষণায়ও দেখা গেছে, যারা বেশি মরিচ খান তাদের মধ্যে ক্যান্সার, হৃদরোগ ও সংক্রা’মক রোগে আক্রা’ন্ত হয়ে মা’রা যাওয়ার হার কম। তবে তার মানে এই নয়, প্রচুর মরিচ খাওয়া শুরু করলেই তা আপনার স্বাস্থ্যকে সুরক্ষিত রাখবে।

২০১৯ সালে ইতালিতে এক গবেষণায় দেখা গেছে, মরিচ খাওয়ার অভ্যাস ডেথরিস্ক কমিয়ে দেয়। তবে এটি শুধু পর্যবেক্ষণ, এটা জানা অ’সম্ভব যে মরিচ মানুষকে দীর্ঘায়ু হতে সহায়তা করে নাকি স্বাস্থ্যবান মানুষদের মধ্যেই স্বভাবতই মরিচ খাওয়ার স্বাভাবিক প্রবণতা রয়েছে।

হলুদ

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রায় সব পরিবারে হলুদের প্রচলন রয়েছে। কারকিউমিন নামক পদার্থ থাকায় এটিকে মানব শরীরের জন্য উপকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।

প্র’দাহ, চাপ ও বিভিন্ন শারিরীক সমস্যায় বিকল্প ও’ষুধ হিসেবে হলুদের ব্যবহার রয়েছে। অসংখ্য গবেষণায় ল্যাবরেটরিতে কারকিউমিনে ক্যান্সার প্রতিরোধী গুণ থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। হলুদে তাপ দেওয়া হলে এটির রাসায়নিক উপাদানে পরিবর্তন আসে, ফলে এর অনেক উপকারী গুণ নষ্ট হয়ে যায়।

শেয়ার করুন !
  • 166
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!