❝সুস্থ হলেই কাজে ফিরবো, আমরা রোগী না দেখলে তারা কোথায় যাবেন?❞

0

সময় এখন ডেস্ক:

করোনা রোগীর সংস্পর্শে গিয়ে আক্রা’ন্ত প্রথম চিকিৎসক ডা. ফয়সাল জাহাঙ্গীর পলাশ সুস্থ হয়ে ১২ এপ্রিল বাড়ি ফিরেছেন। বাড়ি ফিরলেও এখন তিনি ১৪ দিন হোম কোয়ারান্টাইনে থাকবেন। টেলিফোনে তিনি জানালেন, চিকিৎসাধীন থাকার সময়কার কথা। ডা. পলাশ বলেন, আমি এখন সুস্থ। মানুষ সুস্থ হচ্ছে তো, আমিই তার প্রমাণ। একজন চিকিৎসক হিসেবে আবার আমি কাজে ফিরবো। আমরা রোগী না দেখলে তারা যাবেন কোথায়?

হাসপাতালের দিনগুলোর কথা মনে করে তিনি বলেন, শুরুর দিকে হাসপাতালে এক রুমে একা একা থাকতাম। কেউ পাশে ছিল না। ২১ দিনের হাসপাতাল লাইফটা অন্যরকম। থাকতে ক’ষ্ট হতো। বাড়িতে থাকা ৩ বছরের মেয়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলে, বন্ধুদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেই সময় কাটতো।

ডা. পলাশ মিরপুরের ডেল্টা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত। কীভাবে ও কবে আক্রা’ন্ত হলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে আক্রা’ন্ত হই। ১৭ মার্চ রাতে টোলারবাগের রোগী (পরে মা’রা গেছেন) হাসপাতালে আসেন। আগে থেকেই শ্বাসক’ষ্ট, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ছিল তার। তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। আইইডিসিআরকে জানানো হয়। তারা ১৯ মার্চ বিকালে এসে তার নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। পরদিন দুপুরে আমাদের জানায় তিনি করোনা পজিটিভ। ২১ মার্চ ভোর রাতে তিনি মা’রা যান। আর আমিই তাকে রিসিভ করেছিলাম।

ডা. পলাশ বলেন, প্রথম দিন কেবল জ্বর ছিল। আমি বাসাতেই আইসোলেশনে চলে যাই। ২২ মার্চ শ্বাসক’ষ্ট শুরু হলে ভ’য় পাই। এরপর আইইডিসিআরকে ফোনে জানালে তারা হাসপাতালে ভর্তি হতে বলে। তারাই কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে যোগাযোগ করে অ্যাম্বুলেন্স পাঠায়। যাওয়ার সময় এত শ্বাসক’ষ্ট হচ্ছিল যে অক্সিজেন দিতে বলি। হাসপাতালে যাওয়ার পর রাতে কয়েকবার নেবুলাইজ করতে হয়, সারা রাত অক্সিজেন দেওয়া ছিল। পরে ডায়রিয়া ছিল। কিন্তু শ্বাসক’ষ্ট ধীরে ধীরে কমে যায়। তবে কাশি আর সর্দি ছিল কয়েকদিন।

করোনা পজেটিভ জানার পর কী মনে হয়েছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আসলে মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম। যেহেতু নিজে চিকিৎসক এবং টোলারবাগের রোগীকে আমিই ডিল করেছি, তাই কিছুটা বুঝতে পেরেছিলাম। করোনা পজেটিভ শোনার পরে ইজিলি নিয়েছিলাম, ভ’য় পাইনি। তবে যেদিন শ্বাসক’ষ্ট শুরু হয় সেদিন ভ’য় পাই। মনে হচ্ছিল হয়তো মা’রা যেতে পারি। ৮ ও ১০ এপ্রিল পরপর দুই টেস্টে নেগেটিভ আসে। এরপর ভালো লেগেছে, নিজেকে রিলিফ মনে হয়েছিল।

তিনি বললেন, মানুষ আক্রা’ন্ত হচ্ছেন, মা’রাও যাচ্ছেন। আর আমরা ডাক্তাররা যদি কাজ না করি, তাহলে মানুষ সেবা পাবে কোথা থেকে। তাই আবার আমি কাজে ফিরবো, মানুষের সেবা করবো।

শেয়ার করুন !
  • 864
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!