বাড্ডায় ত্রাণের জন্য মানুষকে রাস্তায় নামানো সরকারবিরো’ধী ষড়’যন্ত্র: গোয়েন্দা তথ্য

0

সময় এখন ডেস্ক:

রাজধানীর বাড্ডায় ত্রাণের দাবিতে রাস্তায় নামার ঘটনাকে ষড়’যন্ত্রের প্রমাণ পেয়েছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ। প্রতিবেদনে জানানো হয়, মানুষ ভাড়া করে তাদের রাস্তায় নামানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, মূলত সরকারের ভাবমূর্তি ন’ষ্ট করার জন্যই এসবের আয়োজন করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় কাউন্সিলর বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার করা হয়েছে আয়োজক ও বিগত সিটি নির্বাচনে পরাজিত কাউন্সিলর প্রার্থী গোলাম সারোয়ার পিন্টুকে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ ইসলাম বলেন, গত ১৪ এপ্রিল সকালে বাড্ডার হোসেন মার্কেটের সামনের সড়কে কয়েকশ’ মানুষ জড়ো হয়ে ত্রাণের দাবিতে রাস্তায় নামেন। মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পুলিশ বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। পরে ডিএনসিসি’র ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শেখ সেলিম বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩) ধারায় ৪ জনের নাম উল্লেখ এবং ‍২শ’ অ’জ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন। এরপর গ্রেপ্তার করা হয় সদ্য সমাপ্ত ডিএনসিসি নির্বাচনে ওই এলাকার পরাজিত কাউন্সিলর প্রার্থী গোলাম সারোয়ার পিন্টুকে।

তিনি বলেন, মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, স্থানীয় কাউন্সিলর ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষু’ণ্ণ করতে পিন্টুসহ ৪ ব্যক্তি এই পুরো বিষয়টির আয়োজন করেছেন।

এদিকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে। নেপথ্যে এক বড় ধরনের চক্রা’ন্তের কথা জানতে পেরেছে। এরপরই মূলত মামলা করা হয়।

পুলিশ জানায়, দেশে অ’স্থিরতা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল আয়োজকদের। রাস্তায় মানুষ নামার দৃশ্যটি নিজের ফেসবুকে লাইভ করেন পিন্টু। ওই দিন স্থানীয় কাউন্সিলর ত্রাণ বিতরণ করছিলেন। সেটা নিয়ে অ’নিয়ম হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।

ওসি পারভেজ ইসলাম বলেন, বিষয়টি পূর্ব পরিকল্পিত ছিল। আমরা গ্রেপ্তার করে পিন্টুকে জিজ্ঞাসা’বাদ করেছি। এটি আয়োজনের কথা পিন্টু অ’স্বীকার করেছেন। তবে তিনি আবুল বাশার, জজ মিয়া ও আলাউদ্দিন নামে অপর ৩ জনের নাম বলেছেন। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বিএনপি সমর্থিত পিন্টু এর আগে দুইবার সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন। দুইবারই তিনি পরাজিত হন। গত নির্বাচনে ২৪০ ভোট পেয়েছিলেন। পিন্টু একটি অনলাইন পোর্টালের মালিক। তিনি বাড্ডা এলাকায় সাংবাদিকতা করেন। বাড্ডা প্রেস ক্লাবের সভাপতি বলেও নিজেকে পরিচয় দেন তিনি।

মামলার বাদী কাউন্সিলর শেখ সেলিম বলেন, পিন্টু আয়োজন করে মানুষকে রাস্তায় নামিয়েছেন। মানুষকে খিচুড়ি খাওয়ানোর কথা বলে রাস্তায় নামান। রাতেও মানুষের বাসায় বাসায় খিচুড়ি দিয়ে আসেন। আমার ও সরকারের বিরু’দ্ধে চক্রা’ন্ত করে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি।

সেলিম অভিযোগ করেন, পিন্টু নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে নারায়ণগঞ্জে র‌্যাবের হাতে একবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তিনি বাড্ডা এলাকায় মা’দকের ব্যবসাও করেন।

কাউন্সিলর সেলিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার নির্বাচনি এলাকায় ২৫ হাজার প্যাকেট ত্রাণ দরকার। এখন পর্যন্ত নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৬ হাজার এবং সরকারের পক্ষ থেকে ৫৫০ প্যাকেট ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। বাকিদের ক্রমান্বয়ে দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, সরকারের সহায়তা আরও আসছে। আমরা সেগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করেছি। ত্রাণের জন্য কোনও মিছিল করার দরকার নাই। প্রয়োজন অনুযায়ী সবাইকে ত্রাণ দেওয়া হবে।

শেয়ার করুন !
  • 1.3K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!