নিজের নাম-পরিচয় বদলে ফেলেছেন বঙ্গবন্ধুর খু’নি মোসলেহউদ্দিন

0

সময় এখন ডেস্ক:

বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খু’নি রিসালদার মোসলেহউদ্দিন নিজের নাম-পরিচয় বদলে ফেলেছেন। তার নতুন নাম রাখা হয়েছে রফিকুল ইসলাম খান। পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে এ নামেই তার পরিচয় দেয়।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যতম খু’নি রিসেলদার (বরখা’স্ত) মোসলেহউদ্দিনকে ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা থেকে আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন ভারতীয় মিডিয়া খবর দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন।

এ বিষয়ে ভারতীয় সাংবাদিক সুবীর ভৌমিক দ্য ইস্টার্ন লিংকে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। তাতে জানা গেছে, এখনো তার পরিচয় শতভাগ নিশ্চিত হতে পারেনি ভারতীয় গোয়েন্দারা। পরিচয় নিশ্চিত হলেই তাকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ভারতে বর্তমানে লকডাউন পরিস্থিতির কারণে পরিচয় যাচাই করতে সময় লাগছে বলে জানা গেছে।

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে গণমাধ্যমকে এমন তথ্যই দিয়েছেন।

আটক ব্যক্তি সম্পর্কে ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ইস্টার্ন লিংককে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেছেন, তিনি মোসলেহউদ্দিনের মতোই হুবহু দেখতে। তবে আমরা তাকে বাংলাদেশে পাঠানোর আগে বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের থেকে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি। লকডাউনের কারণে তাকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে।

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার এক শীর্ষ কর্মকর্তাও বঙ্গবন্ধুর খু’নি মোসলেহউদ্দিনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার একট উপশহরে ইউনানি চিকিৎসক সেজে দীর্ঘদিন ভাড়া থাকছিল মোসলেহউদ্দিন, এমনটাই জানিয়েছে ভারতীয় মিডিয়া।

এদিকে বাংলাদেশি গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মোসলেহউদ্দিনের ছেলে-মেয়ে ও পুত্রবধূ নতুন নামেই তাদের বাবা পরিচয় দিচ্ছে। এমনকি তাদের পিতার নামের স্থানে রফিকুল ইসলাম খানের নামেই পরিবারের সব সদস্য জাতীয় পরিচয়পত্র পান।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত রিসালদার (বরখা’স্ত) মোসলেহউদ্দিন ৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হ’ত্যাকারীদের দলে ছিলেন অগ্রভাগে। শুধু তাই নয়, ঠাণ্ডা মাথার এ খু’নি ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতার জেলহ’ত্যা মামলারও আসামি।

মোসলেহউদ্দিনের ৫ ছেলে ও ১ মেয়ের জাতীয় পরিচয়পত্রে সবকিছু ঠিক থাকলেও শুধু পিতার নাম বদল করা হয়েছে। মোসলেহউদ্দিনের নামের জায়গায় লেখা হয়েছে রফিকুল ইসলাম খান।

৭৫-এ বঙ্গবন্ধুর হ’ত্যাকাণ্ডের পর নরসিংদী জেলার শিবপুরের দত্তেরগাঁও এলাকায় বাড়ি করে স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন মোসলেহউদ্দিন। ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধু হ’ত্যা মামলার তদন্ত শুরু হলে তার বাড়িসহ বেশকিছু সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে ক্রোক করা হয়। এরপরই খু’নি রিসালদার মোসলেহউদ্দিন পালিয়ে যান।

মোসলেহউদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা পরে নরসিংদী এলাকায় ফিরে আসেন। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে শুরু করে সরকারি সব ধরনের কাগজপত্রে তাদের পিতার নাম হয়ে যায় রফিকুল ইসলাম খান।

শেয়ার করুন !
  • 168
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!