ছাত্রলীগের এই চেহারাই দেখতে চায় দেশবাসী

0

মুক্তমঞ্চ ডেস্ক:

ছাত্রলীগের সমালোচনার শেষ নেই। নানারকম অ’পকর্মে জড়িত হিসেবে তাদের নাম দেখা যায় পত্রিকায়। গত দুই বা আড়াই দশকে ছাত্রলীগের ঐতিহ্য এবং সুনাম তলানিতে এসে পৌঁছেছে।

আধিপত্য বিস্তার, গ্রুপিং নিয়ে কোন্দ’ল শোনা যায়। ভ্রাতৃপ্রতীম ও বন্ধুপ্রতীম সংগঠনের সাথে, কখনোবা অভ্যন্তরীণ সংঘ’র্ষে কত মায়ের বুক হয়েছে খালি; আহাজারি ও রোনাজারি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হয়েছে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ।

এভাবেই নিত্য নিরস খবরের শিরোনাম হয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। আর আলোচনায় এসে নি’ষ্ঠুর সমালোচনার শি’কার হয়েছে সংগঠনটি। দাদাগিরি ফলানো, বে’য়াদবি, উচ্ছৃ’ঙ্খলতা ও ব’খাটেপনার পাশাপাশি হোটেলে বাকি ও ফাও খাওয়ার খবরও পাওয়া যায়।

ছাত্রলীগের এই রূপটিই ক্যাম্পাসে দেখে এসেছে আমাদের প্রজন্ম। ফলে মনে হতে পারে, ছাত্রলীগের শরীরে রক্ত নেই, মাংস নেই, হৃদয় নেই, কিংবা ভালোবাসা। অনুভূতি ও সহানুভূতিহীন পোড়া কাষ্ঠ এক।

এই ছাত্রলীগের ধূলোর আস্তরণে কালিমায়, ধূলোময় হয়ে পড়ে ছাত্রলীগ নামের বৃক্ষটির গোড়া। আসল ছাত্রলীগ। পুরনো ছাত্রলীগ। এই ক’দর্য রূপের আড়ালে পড়ে গিয়েছিলো এক সময়কার স্বর্ণময়, বর্ণময় ও গৌরবোজ্জ্বল সেই ছাত্রলীগ। এই ছাত্রলীগের কু’ৎসিত চেহারায় যেন কালো হয়ে গিয়েছিলো আয়নাটাই। এই ছাত্রলীগের মধ্যে আমি পচা নর্দমা দেখি।

কিন্তু, এই ছাত্রলীগই আসল ছাত্রলীগ নয়। কিংবা ৫২ বা ৬৯ এর ছাত্রলীগও নয়। স্বৈরাচারবিরো’ধী আন্দোলনে রাজপথ কাঁপানো ছাত্রলীগকেও এর মাঝে খুঁজে পাই না। মুক্তিযু’দ্ধে সংগঠকের ভূমিকায় অবতীর্ণ সংগঠনের কর্মীদের উত্তরসূরিও এরা হতে পারে না। বুকের রক্ত ঢেলে দেশের পতাকা বানানো হাজারো শহিদের গর্বিত উত্তরাধিকার এরা নয়।

কিন্তু, এই দুর্যোগে ছাত্রলীগের নতুন চেহারা দেখে মন ভরে গেছে। অবশ্য নতুন বলছি কেন, এটাই তো ছাত্রলীগ। পূর্বোল্লিখিত ছাত্রলীগ আসল ছাত্রলীগ নয়, তা আগেই বলেছি। এটাই তো নতুন করে আসল চেহারায় ফিরে আসা। ধুয়ে মুছে আয়নার সামনে এবার ছাত্রলীগ। ফিরিয়ে আনা হয়েছে ঐতিহ্য।

আমরা দেখছি, ছাত্রলীগ এখন ত্রাণ দিচ্ছে, ফ্রি বাজার-সদাই দিচ্ছে, মানুষকে দুর্যোগে সচেতন করে তুলছে। কৃষকের পাকা ধানও কেটে দিচ্ছে ছাত্রলীগ।

বৈশাখের এই রৌদ্রতাপে, কাঁচা আম পেড়ে, কলা পাতায় ছেঁচে রসালো বানানো। সাথে মরিচ পোড়া, পিঁয়াজ, সরিষার তেল ও চিনি। একটুখানি তেঁতুল হলে ভালো হয়। রোদ ঝলমলে গাছতলায় ছমছমে খসখস দুপুরে আলো-ছায়ার মাঝেই তো স্বাভাবিক ছিলো অবস্থান।

কিন্তু না, দুষ্টু দুপুরের হাতছানি উপেক্ষা করে এই দাবদাহে ওরা হাতে তুলে নিয়েছে কাস্তে। মাথায় কিংবা কোমরে গামছা বেঁধে নেমে পড়েছে মাঠে। সে সময় নিশ্চয়ই ওদের তেষ্টা পেয়েছিলো বুকের ছাতিতে। দরদর করে ঘাম ঝরে পড়েছিলো মাথা থেকে পায়ে। সে সবে দৃষ্টিপাত না করে, পাক্কা কৃষকের মতোই মাঠে থেকে গিয়েছে, কাস্তে চালিয়ে ধান কেটে, মাথায় বয়ে, ঘাড়ে করে পৌঁছে দিয়েছে কৃষকের ঘরে। পুরো চিত্রকল্পটি ভেবে এক অদ্ভূত ভালোলাগায় ভরে গেছে হৃদপিণ্ডের চারপাশটা।

মনে করতে চাই, বিশ্বাস রাখতে চাই, লোক দেখাতে নয় বরং স্বভাবগতভাবেই এই কাজটি করছে ছাত্রলীগ। এই ছাত্রলীগই আমাদের পরিচিত, এই চেহারাই তো আমরা চাই। কিন্তু এই চেহারায় ধূলোর আস্তরণ পড়ে, একদা কালিমায় কুৎ’সিত হয়ে গিয়েছিলো। ধূলো অপ’সারণ করতে হবে এভাবেই। এই ছাত্রলীগের মাঝে আমি বাংলাদেশকে দেখি।

এই ছাত্রলীগকে যারা নিজ কর্মে বিত’র্কিত করেছে, তারা ছাত্রলীগের কর্মী হতে পারে না। তারা হয় অনু’প্রবেশকারী, নয়তো সুবিধাভোগী; তারা সংগঠনের আদর্শকে ধারণ করতে পারেনি। তারা না ছাত্রলীগ, না মানুষ। তারা এসেছিলো আখের গোছাতে। যে ফল মাতৃগাছের অনুরূপ স্বাদ বহন করে না; তারে কি আদৌ ওই গাছের ফল বলা যায়?

ছাত্রলীগের ব্যাপারে পূর্বের ধারণাই পাল্টেট দিতে হবে। বায়ান্ন্, একাত্তর কিংবা নব্বইয়ের ভূমিকায় ফিরতে হবে তাকে।

লেখক: আহমেদ আল আমীন
পরিচিতি: সাহিত্যিক এবং গণমাধ্যমকর্মী

শেয়ার করুন !
  • 921
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply