৩৬টি দেশ দুর্ভিক্ষ ঝুঁ’কিতে, দ্বিগুণ হবে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা: জাতিসংঘ

0

সময় এখন ডেস্ক:

করোনায় স্থ’বির পুরো বিশ্ব। ভাইরাসটির সংক্র’মণ রো’ধে বিভিন্ন দেশে চলছে লকডাউন। সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেয়া নিয়মও মেনে চলার চেষ্টা করছে সবাই। তবুও কোনোভাবেই আটকানো যাচ্ছে না করোনার তা’ণ্ডব। একের পর এক প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে প্রাণঘা’তী ভাইরাসটি। প্রতিদিনই আক্রা’ন্ত হচ্ছে হাজার মানুষ।

অচেনা এই ভাইরাসটির কারণে সবকিছু স্থ’বির হওয়ায় অর্থনৈতিক সং’কটে পড়েছে বিশ্ব। যা শেষ পর্যন্ত আঘা’ত করবে মানুষের পেটে। কোভিড-১৯ এর কারণে বিশ্বের ৩৬টি দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। সংস্থাটি বলছে, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সব কর্মকাণ্ড স্থ’বির হয়ে পড়ায় এ বছর ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে। খবর রয়টার্সের।

গত মঙ্গলবার জেনেভায় ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, করোনা সং’কটের আগেই বিশ্বজুড়ে অন্তত ১৩ কোটি মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল। কিন্তু হঠাৎ করে মহামা’রির কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থ’বির হয়ে যাওয়ায় নতুন করে আরও ১৩ কোটি মানুষ চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়তে পারে। পর্যটন রাজস্ব হারানো, প্রবাসীদের আয় পাঠানো কমে যাওয়া এবং ভ্রমণসহ অন্যান্য নিষে’ধাজ্ঞার কারণে আয় কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে সংস্থাটি।

ডব্লিউএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে সংস্থাটির নিজস্ব খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের ৮০টির বেশি দেশে অন্তত ১০ কোটি মানুষকে খাদ্যের জোগান দেয় ডব্লিউএফপি।

সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির প্রধান অর্থনীতিবিদ এবং গবেষণা, মূল্যায়ন ও পর্যবেক্ষণ পরিচালক আরিফ হুসেইন বলেন, বর্তমানে চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় থাকা মানুষের বেশিরভাগই নিম্ন এবং মধ্য আয়ের দেশগুলোর বাসিন্দা। খাদ্য সং’কট বিষয়ক বৈশ্বিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৯ সালে চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা সবচেয়ে বেশি মানুষ সংঘা’ত কবলিত দেশের বাসিন্দা। তাদের সংখ্যা প্রায় ৭ কোটি ৭০ লাখ। এর পরেই রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সং’কটে পড়া মানুষ। তাদের পরিমাণ ৩ কোটি ৪০ লাখ। এ ছাড়া অর্থনৈতিক সং’কটে পড়া আরও ২ কোটি ৪০ লাখ মানুষও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছে।

বিশ্বজুড়ে নতুন করে যেসব মানুষ খাদ্য সং’কটে পড়তে যাচ্ছে তাদের সহায়তার জন্য চলতি বছর ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল প্রয়োজন। গত বছরের রেকর্ড ৮ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে যা বেশি। তবে করোনার কারণে অর্থনৈতিক সং’কটের মুখে পড়া দেশগুলো অর্থায়ন করবে কি না তা নিয়েও চিন্তায় পড়েছে সংস্থাটি।

আরিফ হুসেইন বলেন, ইতোমধ্যে ঝুঁ’কির মধ্যে থাকা লাখ লাখ মানুষের জন্য করোনা ভাইরাস সম্ভবত বিপ’র্যয়কর হতে যাচ্ছে। দৈনিক মজুরি পেলেই কেবল খেতে পান এমন লাখ লাখ মানুষের জন্য এই মহামা’রি মা’রাত্মক বিপ’র্যয়কর। লকডাউন আর বিশ্বজুড়ে আসন্ন ম’ন্দায় ইতোমধ্যে তাদের সামান্য সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। বিশ্বজুড়ে এই বিপ’র্যয় সামাল দিতে আমাদের অবশ্যই ঐক্যব’দ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

ডব্লিউএফপি নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বেসলি বলেন, করোনা ভাইরাসের সবচেয়ে খারাপ প্রভাব হিসেবে বিশ্বের ৩ ডজন দেশে দুর্ভিক্ষ নেমে আসতে পারে। ইতোমধ্যে ১০টি দেশে প্রায় ১ মিলিয়ন লোক অ’নাহারে দিন কাটানোর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। অনেক দেশে এই মানবিক সমস্যাটার কারণে নানাধরনের সহিং’সতা, দ্ব’ন্দ্ব ও বি’বাদ তৈরি হতে পারে।

এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রা’ন্ত হয়ে সারা বিশ্বে ১ লাখ ৯৪ হাজারের বেশি মানুষ মা’রা গেছেন। আর আক্রা’ন্ত হয়েছেন ২৮ লাখ মানুষ। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম ৩ জনের শরীরে করোনা শনাক্তের দেড় মাসে এই সংখ্যাটা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে। এছাড়া মা’রা গেছেন শতাধিক মানুষ।

শেয়ার করুন !
  • 301
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!