একটি উদ্যোগ সিএমপিকে রক্ষা করল করোনার বড় বিপদ থেকে

0

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ- সিএমপির ৬ জন পুলিশ সদস্যের শরীরে করোনা সংক্র’মন দেখা দিলেও বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়ে গেল কমিশনার মাহাবুবর রহমানের একটি উদ্যোগের কারনে। বাংলাদেশ পুলিশের অন্যতম বৃহৎ এই ইউনিট এই মুহূর্তে শ’ঙ্কামুক্ত।

করোনা ভাইরাসের সংক্র’মণ রোধে রাত দিন মাঠে কাজ করছে সিএমপির ৭ হাজার সদস্য। করোনায় আক্রা’ন্ত হয়ে তাদের কেউ যদি শনাক্ত না হয়ে মাঠে কিংবা বাহিনীর অভ্যন্তরেও থাকতেন, তাহলে বিপ’র্যয়ে যেমন পড়তে হতো, তেমনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সার্বক্ষণিক দায়িত্বপালনকারী এই বাহিনীও হুম’কি হয়ে উঠতো নগরবাসীর জন্য।

জানা গেছে, সিএমপি কমিশনার মাহাবুবর রহমান বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে ৪৫ বছরের বেশি বয়সী সকল সদস্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন। এতে বিশেষ করে হার্টের সমস্যা ও ডায়াবেটিসকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল। এভাবে অনেকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ট্রাফিক উত্তর জোনে কর্মরত পঞ্চাশোর্ধ্ব এক সদস্যের শরীরে সমস্যা চিহ্নিত হয় থার্মাল স্ক্যানারে। অথচ তার শরীরে করোনার কোন লক্ষণই ছিল না। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ভর্তি করানো হলো পুলিশ লাইন্সের বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে।

নিয়মমাফিক ফৌজদারহাট বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) ল্যাবে তার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকদের ধারণাকে সত্য প্রমাণ করে ১২ এপ্রিল তার করোনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। ওই রাতেই তাকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। সঙ্গে সঙ্গেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তার সংস্পর্শে আসা ৩ জন চিকিৎসক, ৩ জন নার্স, ৭ জন আয়া-বয় এবং পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১২ জন পুলিশ সদস্যকে হোম কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়। লকডাউন করা হয় ২০০ সদস্যের একটি ব্যারাকও।

এরপর ১৫ এপ্রিল আরো ২ জন পুলিশ সদস্য শনাক্ত হন দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে। এদের একজনের বয়স ২৫ বছর, আরেকজনের বয়স ২৬ বছর। সর্বশেষ আরও ২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এরা সকলেই ট্রাফিক উত্তর বিভাগের সদস্য। সবাই বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন।

এ ব্যাপারে সিএমপির উপকমিশনার (বিশেষ শাখা) আব্দুল ওয়ারিশ বলেন, মূলত হার্ট ও ডায়াবেটিসের সমস্যা যদি কারও থাকে, করোনার এই সময়টাতে তাদের ডিউটি বন্টনে কিছুটা ছাড় দেওয়ার জন্য কমিশনার স্যার স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। কিন্তু নিজেদের অজান্তে আমাদের কয়েকজন সদস্য করোনা বহন করছিলেন। ১২ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত একে একে ৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। স্বস্তির বিষয় হলো প্রথমজন শনাক্ত হলে ১২ এপ্রিলেই আমরা তাদের হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করতে পেরেছি। পরের ৩ জনও হোম কোয়ারান্টাইনে থাকা সদস্য। কমিশনার স্যার হেলথ চেকআপের ব্যবস্থা না করলে বিপ’র্যয়টা সিএমপি পরিবারের জন্য যেমন বড় হওয়ার শ’ঙ্কা ছিল, তেমনি নগরেও তা ছড়িয়ে যেতো।

সিএমপি কমিশনার মাহাবুবর রহমান বলেন, সিএমপি পরিবারের অভিভাবক হিসেবে আমি উদ্যোগটা নিয়েছি। সিএমপির প্রতিটি সদস্যকে ঝুঁ’কিমুক্ত রাখা আমার দায়িত্ব। কতটুকু রক্ষা করতে পেরেছি সেটা জানি না। তবে এটা সত্য করোনা আক্রা’ন্তরা যদি নিজেদের অজান্তে অন্য ফোর্সদের সাথে আগের মতো স্বাভাবিক মেলামেশা করতো, পরিস্থিতিটা অনেক ভ’য়াবহ হতে পারতো। দোয়া করবেন সিএমপি পরিবার যেন এই মহামা’রি থেকে সুরক্ষিত থাকে। পাশাপাশি নগরবাসীও যেন নিরাপদ থাকে।

শেয়ার করুন !
  • 41
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply