তারেকের নির্দেশেই জাফরুল্লাহর মিথ্যাচার, শুনছেন না ড. বিজনের পরামর্শ!

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত করোনা ভাইরাস শনাক্তের কিট স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ সংস্থাটির ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর। তার অভিযোগ, অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আচরণে ‘ঘুষ’ লেনদেনের ইঙ্গিত লক্ষ করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়ীর স্বার্থে কাজ করছে।

তবে বিশেষ কিছু সূত্র জানিয়েছে, ডা. জাফরুল্লাহ দেশের এমন ক্রা’ন্তিকালে রাজনীতি করার সুযোগ ছাড়ছেন না। আর এর পেছনে নিয়মিত ইন্ধন যোগাচ্ছেন লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান। সরকারের ভাবমূর্তি ন’ষ্ট করার নিয়মিত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তিনি ডা. জাফরুল্লাহকে ‘গাইড’ করছেন। আর এজন্য তিনি প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছেন।

এটা আরও স্পষ্ট হয়ে যায়, গতকাল সংবাদ সম্মেলনে যখন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ‘ঘুষ’ সংক্রান্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রেরেই বিজ্ঞানী ও করোনা কিটেরর উদ্ভাবক দলের প্রধান ড. বিজন কুমার শীল। তিনি জানান, সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাফরুল্লাহর পাশে থাকলেও তার বক্তব্যের সঙ্গে তিনি একমত নন। যা তাৎক্ষণিক ক্ষু’ব্ধ করে ডা. জাফরুল্লাহকে। ড. বিজনের কথা গ্রাহ্য করছেন না ডা. জাফরুল্লাহ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ডা. জাফরুল্লাহ অন্যের ইন্ধনে চললেও একজন নীতিবান বিজ্ঞানী হিসেবে ড. বিজন তার আদর্শচ্যুত হননি।

গতকাল রোববার (২৬ এপ্রিল) রাতে ড. বিজন কুমার শীল বিকেলের সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিরু’দ্ধে তোলা ডা. জাফরুল্লাহর অভিযোগগুলো সম্পর্কে কথা বলেন একটি গণমাধ্যমের সাথে।

ডা. জাফরুল্লাহর অভিযোগ ছিল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গণস্বাস্থ্যের কনট্যাক্ট আফটার রিসার্চ অর্গানাইজেশন (সিআরও) করিয়ে আনতে বললেও কোত্থেকে করাতে হবে, সে বিষয়ে কিছু বলেনি। কয়েকটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে কাজ করছে অধিদপ্তর, তাই এই কিট গ্রহণ করছে না।

ডা. জাফরুল্লাহর এসব অভিযোগ অ’স্বীকার করে ড. বিজন কুমার শীল বলেন, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর তো স্যাম্পল নেয় না। তারা বলে দেবে সেই স্যাম্পল কোথায় দিতে হবে। সে বিষয়ে এরই মধ্যে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক একটি ইঙ্গিত দিয়েছেন। আশা করছি আগামীকালের মধ্যে (আজ) আরও বিস্তৃত কিছু পাব। আমাদের ধারণা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) এটা করা হতে পারে। এছাড়াও আরও দুইটি স্থানেও হতে পারে।

ড. বিজন বলেন, টেস্টের জন্য যে লজিস্টিক সাপোর্ট লাগে, তা আমরা দিয়ে দেবো। বিএসএমএমইউতে (বা যে প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা চলবে) যিনি প্রজেক্ট ইনচার্জ (পিআই) হবেন, তিনি একটি বাজেট জানাবেন। সেটা গণস্বাস্থ্যই দেবে। গবেষণায় তো খরচ লাগেই। লজিস্টিক সাপোর্টসহ সেটা আমরাই দেবো।

ডা. জাফরুল্লাহ ‘ঘুষ’ নিয়ে যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, সে বিষয়ে জানতে চাইলে ড. বিজন বলেন, না না, উনি (ডা. জাফরুল্লাহ) অনেক সময় এ রকম হয়তো বলে ফেলেন। এখানে তেমন কিছুই লাগবে না।

ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের বিরু’দ্ধে নিজে কিছুই বলেননি দাবি করে ড. বিজন বলেন, আমি তাদের বিরু’দ্ধে কিছুই বলিনি। প্রেস কনফারেন্সে আমি ছিলাম। কিন্তু কিছু বলিনি। বিষয়গুলো আমার জানা আছে। আন্তর্জাতিকভাবে আমি অনেক প্রজেক্ট ডিল করেছি। তবে পরিস্থিতি যেহেতু এখন স্বাভাবিক হয়ে আসছে, তাই এগুলো নিয়ে বেশি কথাবার্তা না বলাই ভালো।

তিনি আরও বলেন, আমাদের কিন্তু সবাই সাহায্য করছে। প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয়, প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা সহযোগিতা পাচ্ছি। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরও আমাদের অনেক সহযোগিতা করেছে। তারা অনুমতি দিয়েছেন বলেই রিএজেন্ট আনতে পেরেছি। এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। তবে বিষয়টি একটু ত্বরান্বিত করলে ভালো হয়।

সিআরও বিষয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এই বিজ্ঞানী বলেন, বিএসএমএমইউ বাংলাদেশের একটি নামকরা প্রতিষ্ঠান। এটি নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। সেখানে যোগ্য ব্যক্তি আছেন, ল্যাবরেটরি আছে। সেখানে সিআরও হলে আমার ধারণা কারো কোনো দ্বিমত থাকবে না। দেশের নামকরা কোনো প্রতিষ্ঠান, যেখানে ল্যাবরেটরি ও অভিজ্ঞ জনবলসহ সব সুবিধা আছে, এরকম কোনো প্রতিষ্ঠানে সিআরও হলে সেটা সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য হবে। তারা যদি এর দায়িত্ব নেয়, কাজটা ত্বরান্বিত হতে পারে। আর এটা তো ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এক্ষেত্রে সবার সহযোগিতাটাই প্রয়োজন। কারও সঙ্গে কথায় মনোমালিন্য হতে পারে। সেটা ভিন্নভাবে না নেওয়াই ভালো। ওষুধ প্রশাসনের ডিজি যেমন দেশের জন্য কাজ করছেন, আমরাও করছি। তাই সবাই সবাইকে সাহায্য করে দেশকে সামনে নিয়ে যাব— এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে গণস্বাস্থ্যের অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় অন্য ৩ জনকে বসিয়ে রাখার বিষয়ে ডা. জাফরুল্লাহ যে অভিযোগ এনেছেন, সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গবেষক ড. ফিরোজ বলেন, আমরা যখন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ডিজির রুমে যাই, সেখানে আইসিডিডিআরবি’র ড. ফেরদৌসী কাদরী ও ড. ওয়াসিফ ছিলেন। আইসিডিডিআরবিতে তারা আমাদের সহকর্মী ছিলেন। সিআরও’র জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের খরচ অনুমতির অপেক্ষায় থাকা প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হয়, অর্থাৎ করোনা ডট ব্লোট কিট পরীক্ষার সিআরও’র খরচও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে বহন করতে হবে।

ডা. জাফরুল্লাহ’র অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে সেগুলোকে ‘মিথ্যাচার’ বলে উল্লেখ করে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেন, উনি চোখে মুখে শুধু মিথ্যা কথাই বলে গেছেন। কাজেই এ বিষয়ে আর কথাই বলতে চাই না। আজকে (গতকাল) তাদের দু’জন এসেছিলেন। তাদের সঙ্গে সোহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠক হয়েছে। সেখানে আমরা বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছি। কীভাবে তাদের কাজ খুব ভালোভাবে হবে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেন, আলোচনা শেষে হাসিমুখেই তারা আমাদের এখান থেকে চলে গেছেন। তখন সাড়ে ৩টার মতো বাজে। এরপর ৪টার সময় সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাফরুল্লাহ যা বললেন, সবই মিথ্যাচার। এটা দু’র্ভাগ্যজনক। আমরা চাইছি সমাধানের দিকে যেতে। কিন্তু তিনি এটা চাইছেন না। উনি কথায় কথায় সংবাদ সম্মেলন করেন, আর সেখানে মিথ্যাচার করেন।

ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আরও বলেন, যদি একটি ভালো কিট আসে, তবে তাতে তো দেশেরই ভালো। কিন্তু উনি আদৌ সেটা চাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে আসলে আমি এখন সন্দিহান। সিআরও ছাড়াই কিট পরীক্ষাকে ডা. জাফরুল্লাহ কীভাবে সফল দাবি করছেন, সেটি আমি বুঝতে পারছি না।

শেয়ার করুন !
  • 7.9K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply