শ্রীমঙ্গলে ত্রাণ দিয়ে হিন্দুদের মুসলিম হতে বলা সেই যুবক ক্ষমা চাইল

0

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

খেটে খাওয়া অ’সহায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ত্রাণ দিয়ে মুসলমান হওয়ার আহ্বান জানানো সেই যুবক অবশেষে ক্ষমা চেয়েছে।

মঙ্গলবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ইউএনও, সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে বসা ওই বৈঠকে ‘ভুল হয়েছে’ বলে এমন কাজ আর না করার প্রতিজ্ঞাও করেন সেই যুবক।

তার এ ঘটনা নিয়ে সোমবার রাত ১০টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষেদের কনফারেন্স হলে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, পুলিশ প্রশাসন ও সনাতন ধর্মালম্বী নেতারা উপস্থিতি ছিলেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, শ্রীমঙ্গল সম্প্রীতির উপজেলা। এখানে সব ধর্মের মানুষ একে অন্যের সাথে সম্প্রীতি বজায় রেখে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। এখানে যদি কেউ সম্প্রীতি ন’ষ্ট করার চেষ্টা করে তাহলে তার বিরু’দ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ওই সভায় সুমন তার ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অনুতপ্তের বিষয়টি বিবেচেনায় নিয়ে ভবিষ্যতে এ রকম কোনো ঘটনার না ঘটনানোর শর্তে সনাতন নেতৃবৃন্দের পরামর্শে তাকে ক্ষমা করা হয়।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা চেয়ারম্যান রনধীর কুমার দেব জানান, বিষয়টি শোনার পর শ্রীমঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে উপজেলা কনফারেন্স হলে বসে তারা বিষয়টি শেষ করেছেন। ওই যুবক তার পরিবারসহ বৈঠকে এসে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

পূজা পরিষদের নেতারা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাকে ক্ষমা করার জন্য সভায় জানালে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটানোর জন্য সতর্ক করে তাকে ক্ষমা করা হয়।

শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেল এর সিনিয়র এএসপি আশরাফুজ্জামান বলেন, দেশের এই পরিস্থিতিতে তিনি যে কাজ করছেন, এটি অব্যশই একটি জঘ’ন্য এবং আইন বিরো’ধী কাজ। শ্রীমঙ্গল একটি সম্প্রীতির এলাকা এখানে ধর্মীয় উ’স্কানি প্রশাসন কঠোর হাতে দম’ন করবে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভানুলাল রায় জানান, গত ২৩ এপ্রিল ‘বাংলা এইড’ নামের এক সংগঠনের পক্ষে তার ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকায় সুমন মিয়া দু’স্থ শব্দকর সম্প্রদায়ের লোকজনকে ত্রাণ দেন। এ সময় তিনি তা ফেসবুকে লাইভ সম্পচারও করেন। সেখানে তিনি সুবিধাব’ঞ্চিত ওই হিন্দু পরিবারগুলোকে মুসলাম হওয়ার আহ্বানও জানান।

এ ফেসবুক লাইভ ছড়িয়ে পড়লে সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক নি’ন্দা ও প্র’তিবাদ হয়। অনেকে আইনের আওতায় এনে তার সাজার দাবিও জানান। এরপর তার পরিবারের সদস্যরা মীমাংসার জন্য শ্রীমঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদে আসেন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও সনাতন ধর্মালম্বীনেতাদের সমন্বয়ে গত সোমবার রাতে শ্রীমঙ্গল উপজেলা কনফারেন্স হলে এ নিয়ে বৈঠক হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের সভাপত্বিতে ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন-

পরিষদের চেয়ারম্যান রনধীর কুমার দেব, শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ থানার এএসপি সার্কেল আশরাফুজ্জামান, শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আব্দুল ছালেক, ৩নং শ্রীমঙ্গল সদর ইউপি চেয়ারম্যান ভানুলাল রায়, পূজা পরিষদ শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি স্বপন রায়, সহ-সভাপতি স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক সিলেট বিভাগীয় প্রধান ডা. হরিপদ রায়, সাধারণ সম্পাদক সুশীল শীল, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক দ্বিজেন্দ্র লাল রায়সহ আরো অনেকে।

শেয়ার করুন !
  • 1.5K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!