যাদের সুরক্ষা দিতে প্রাণ যাচ্ছে ডাক্তার-পুলিশ-সাংবাদিকের, সেই জনতার কোনো হুঁশ নাই!

0

সময় এখন ডেস্ক:

করোনা মোকাবেলায় যার যার অবস্থান থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন চিকিৎসক, পুলিশ ও সাংবাদিকরা। পরিবার পরিজন থেকে দূরে থেকে তারা কাজ করে যাচ্ছেন জনগণকে সুরক্ষা দিতে, সচেতন করতে। আর তা করতে গিয়ে আক্রা’ন্ত হয়ে মৃ’ত্যুবরণ করেছেন কয়েকজন চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ সদস্য এবং সাংবাদিকও।

অথচ, যাদের জন্য তাদের এই ব’লিদান, সেই সাধারণ মানুষের যেন হুঁশ নাই! তারা দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন বাইরে, ছুটির আমেজে বাজার সদাই করছেন, রাস্তার মোড়ে মোড়ে আড্ডা দিচ্ছেন! আর বিবেকবান মানুষ এই দৃশ্য দেখে বির’ক্ত হচ্ছেন।

সংক্র’মণ এড়াতে সরকার ছুটি বাড়িয়েই চলেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বহু অফিস আদালত বন্ধ। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান সচল রয়েছে সংক্ষিপ্ত পরিসরে। এছাড়া পুরোদমে চালু রয়েছে জরুরী পরিষেবাগুলো। যাতে মানুষ সামাজির দূরত্ব মেনে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারে, সে বিষয়ে চলছে প্রচার প্রচারণা। কিন্তু কে শোনে কার কথা!

শহর বা গ্রাম সর্বত্রই ছোট-বড় বাজার ও দোকানপাটে দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। পুলিশ বা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দেখামাত্র কেউ সরে যায়, কেউ দাঁড়িয়ে থাকে। প্রশ্ন করলে জবাব দেন- একটু বের হইছি! তারা জানে, সরকারি বাহিনীর লোকজন সহনশীল আচরণ করছেন, তাই সেই সুযোগটা নিচ্ছে তারা।

প্রশাসন, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যরা মানুষকে বাসা-বাড়িতে থাকতে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টিসহ বিভিন্ন বাজারে নিয়মিত মনিটরিং করে যাচ্ছেন। তাদের প্রচেষ্টার কোনো কমতি নাই। কিন্তু সাধারণ মানুষ বে’পরোয়া। তারা প্রতিদিনই ছুটছেন মাছ বাজারে, কাঁচা বাজারে বা মাংসের দোকানে। দূরত্ব বজায় না রেখে ভিড় করছেন একসাথে। অনেকের মুখে মাস্কও থাকে না। বিশ্বজুড়ে করোনা পরিস্থিতির যে ভ’য়াবহতা, সেসব গ্রাহ্যই করছে না তারা।

শুরুতে মানুষ কিছু নিয়মনীতি মানলেও সেসব কমে আসছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গার্মেন্টসহ শিল্প প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়েছে অর্থনীতি থমকে গিয়ে দেশের পরিস্থিতি আরো নাজুক না হয় সেজন্য। আর এতেই মানুষের মধ্যে চলে এসেছে গা-ছাড়া ভাব। মোড়ে মোড়ে মানুষের জটলা দেখা যাচ্ছে। এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ানো, ‘ঘরে থাকতে ভালো লাগছে না’ বলে বের হওয়া, কিশোর তরুণদের পাড়ার মহল্লায় আড্ডা দেয়া বা খেলাধুলা করার দৃশ্যও চোখে পড়ছে।

এ বিষয়ে ঢাকায় দায়িত্বরত আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বারবার বলার পরেও হাটে বাজারে ক্রেতারা সামাজিক দুরত্ব মানছেন না। বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে এসব গ্রাহ্য না করার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। ফার্মেসি, সবজি, মুদি, ফল দোকানে সবচাইতে বেশি ভিড় দেখা যায়। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় অনেক ব্যবসায়ী নিয়ম না মেনে কাপড়, জুতা, কসমেটিক্স ও কনফেকশনারী দোকান খোলা রেখেছেন। আমাদেরকে দেখলে তারা তৎপর হয়, কিন্তু সরে গেলে আবার আগের মত।

পুলিশের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে আলাপ হয় প্রতিবেদকের। তাকে প্রশ্ন করা হয়, দোকানপাট পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হলে কি জনসমাগম কমতে পারে? তিনি বলেন, অর্থনৈতিক স্থ’বিরতা আসলে কাম্য নয়। কারন যারা দোকান খোলা রাখছেন জীবনের ঝুঁ’কি নিয়ে, তারও পরিবার রয়েছে। রোজা চলছে, সামনে আসছে ঈদ। এমনিতে করোনা পরিস্থিতিতে ব্যবসা বাণিজ্যের অবস্থাও ভালো না তাদের। এ মুহূর্তে পেট চালানোর জন্যই তারা দোকান খোলা রাখছেন। তাদের আয়ের পথ বন্ধ করে দিলে পরিবারগুলো আরও চাপে পড়ে যাবে। তবে সামাজিক দূরত্বটা বজায় রাখাটা প্রয়োজন। আমরা আসলে সেটাই নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।

এদিকে মসজিদে ১২ জনের বেশি তারাবিতে অংশগ্রহণ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষে’ধ করে দেয়া হলেও কেউই মানছেন না এই নির্দেশ। দেখা যাচ্ছে মসজিদের অভ্যন্তরে আলো কমিয়ে বড় বড় জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে শ’খানেক মানুষের উপস্থিতি অনুমান করা যায় বাইরে স্যান্ডেলের বহর দেখে। মসজিদ কমিটির লোকজন জানান, এলাকার গণ্যমান্য মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া তারাবি পরিচালনা করা ক’ষ্টকর। তাই আমরাও অ’পারগ।

শেয়ার করুন !
  • 393
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply