রোজা-করোনার মধ্যেই পুরোহিতকে শশ্মানে নিলেন মুসলিমরা

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতে চলছে লকডাউন। আর এরই মধ্যে ৮৬ বছরের পুরোহিত রমেশ মাথুর মৃ’ত্যু হয়েছে। তার ডেডবডি শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার জন্য ৪ জন লোকের প্রয়োজন ছিল। শেষমেশ রোজার মধ্যে করোনাকে উ’পেক্ষা করে তার ডেডবডি নিয়ে শশ্মানে রওনা হন মুসলিমরা।

গাঁদা ফুলের মালায় জড়ানো দেহটি কাঁধে তুলে নিয়েছেন সাদা টুপি পরা অনেকে। সেই দৃশ্য জানালা দিয়ে দেখল অনেক কৌতুহলী চোখ। অনেকে আবার ছবি ও ভিডিও করেছেন। এরই মধ্যে জয় হলো মানবতার। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ল এই সম্প্রীতির ছবি।

মেরঠের মুসলিম অধ্যুষিত শাহপীর গেটে স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে থাকতেন রমেশ। তার ছেলে চন্দ্র মৌলি মাথুর জানান, বাবার খাদ্যনালীতে একটা টিউমার ছিল। অনেকদিন ধরে চিকিত্‍‌সা চলছিল। মঙ্গলবার হঠাত্‍‌ তিনি মা’রা যান। আমার দাদা দিল্লি থেকে ফিরতে পারেননি। লকডাউনে কোনও আত্মীয়-স্বজনও আসতে পারেননি। এই সময় প্রতিবেশীরাই আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন, বাবার দেহ নিয়ে যান শ্মশানে। আমাদের এলাকার সব মুসলিমরা আমাদের ভাইয়ের মতো।

শাহপীর গেটের কাউন্সিলর মহম্মদ মোবিন জানিয়েছেন, এখন এমন একটা সময়, যখন আমাদের সবার পাশে দাঁড়ানো উচিত। মানবতার পরিচয় দেওয়া উচিত। মুসলিমরা রোজার উপোষ সত্ত্বেও করোনার ভ’য়কে দূরে সরিয়ে পুরোহিতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোয় আমি খুব খুশি।

বানর পর্যন্ত মেনে চলছে সামাজিক দূরত্ব!

সাধারণ মানুষকে লকডাউনের জন্য বোঝাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশকর্মীদের। তা সত্ত্বেও নিয়ম মানতে নারাজ তারা। অথচ বানরেরা কিছু না জানা সত্ত্বেও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলছে।

সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু এই ছবিটি টুইট করেন। তাতে দেখা গেছে একজন যুবক কিছু তরমুজ কেটে বানরের হাতে দিচ্ছেন। রাস্তার একাংশ জুড়ে বসে রয়েছে বেশ কয়েকটি বানর। তবে প্রত্যেকেই নিজেদের মধ্যে দূরত্ব বজায় রেখে বসে আছে। তারা এক এক করে হাত বাড়িয়ে ওই তরমুজ নিচ্ছে। তাড়াহুড়ো না করে দিব্যি দূরত্ব বজায় রেখে খাবার খাচ্ছে বানরেরা। অরূপ কালিতা নামে এক ব্যক্তি অরুণাচল প্রদেশের ভালুকপংয়ে এই ছবিটি তোলেন।

অনেকেই অবাক হয়ে লিখেছেন, বানরেরা তো সামাজিক দূরত্ব সম্পর্কে কিছুই জানে না। তা সত্ত্বেও কীভাবে তা বজায় রাখছে তারা? কেউ কেউ আবার বলছেন, মানুষের থেকে জীবজন্তুরা যে অনেক বেশি শৃঙ্খলাপরায়ণ জীব, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এ ছবি যেন আরও একবার তা প্রমাণ করে দিল।

শেয়ার করুন !
  • 427
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!