যে কারনে নারীর চাইতে পুরুষের করোনা হয় বেশি

0

স্বাস্থ্য বার্তা ডেস্ক:

করোনা ভাইরাস রোগীদের শরীরে কিভাবে কাজ করে সেই ‘মেকানিজম’ ধরে ফেলেছেন বলে দাবি করেছেন একজন ইতালিয়ান বিজ্ঞানী। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, কোভিড-১৯ রোগীদের শরীরে হিমোগ্লোবিনকে ক্ষ’তিগ্রস্থ করে, রক্তে অক্সিজেন পরিবহনের জন্য লোহিত রক্তকণিকার ক্ষমতাকে হ্রাস করে এবং ফুসফুসকে ক্ষ’তিগ্রস্থ করে ফলে তীব্র শ্বাসক’ষ্টের লক্ষণ দেখা দেয়। খবর জেরুজালেম পোস্টের।

তার এই গবেষণা যদি সঠিক হয়, তবে এটি করোন ভাইরাস সম্পর্কে অনেক অজানা প্রশ্নের সমাধান করবে। যেমন- পুরুষদের বৃহত্তর দুর্বলতা- বিশেষত পুরুষ ডায়াবেটিস রোগীদের নভেল করোনা ভাইরাসে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণ এবং গর্ভবতী নারী এবং শিশুদের কেন কম হারে সংক্র’মণ ঘটছে সেটা জানা যাবে। তদুপরি, এই প্রক্রিয়াটি বোঝার ফলে ভাইরাসটির চিকিৎসার জন্য সবচেয়ে কার্যকর ওষুধগুলো দ্রুত আবিষ্কারের দিকে যেতে পারে।

তিনি জেরুজালেম পোস্টকে বলেছিলেন, সার্স-কভ-২ যেটার আনুষ্ঠানিক নাম নভেল করোনা ভাইরাস। এটার বেঁচে থাকা এবং বংশ বৃদ্ধির জন্য সম্ভবত পোরফায়ারিনের প্রয়োজন আছে, যেটা হিমোগ্লোবিনে থাকে। তাই এটি হিমোগ্লোবিনকে আক্র’মণ করে। হিমোগ্লোবিন রক্তে অক্সিজেন বহনকারী প্রোটিন। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা সার্স-কভ-২ সংক্র’মণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামিতি হতে পারে।

তাই নারীদের তুলনায় পুরুষদের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বেশি হয়। এটি মহিলাদের চেয়ে পুরুষদের বেশি কোভিড-১৯ এ আক্রা’ন্ত হওয়ার কারণ হতে পারে। একই কারণে শিশুদের এবং গর্ভবতী মহিলাদের কম আক্র’মণ করে। গর্ভবতী মহিলাদের অধিক আয়রনের প্রয়োজন হয়, ফলে তাদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যায়। ফলে ভাইরাসটির জন্য কম পুষ্টি থাকে।

করোনার লক্ষণগুলো কতটা ভ’য়ানক?

জ্বর দিয়ে সংক্র’মণের শুরু, এরপরে শুকনো কাশি দেখা দিতে পারে। প্রায় ১ সপ্তাহ পরে শ্বাসক’ষ্ট শুরু হয়ে যায়। অনেক রোগীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে হয়। শুরুতে বলা হয়েছিল এই রোগে মৃ’ত্যুর হার ১% থেকে ২% এর মধ্যে। যদিও ইউরোপের অনেক অঞ্চলে এই হার অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে- এই রোগে ৬% কঠিনভাবে অসুস্থ হয়। তাদের ফুসফুস বি’কল হওয়া, সেপ্টিক শক, অঙ্গ বৈ’কল্য ও মৃ’ত্যুর সম্ভাবনা তৈরি হয়। ১৪% এর মধ্যে তীব্রভাবে উপসর্গ দেখা যায়। তাদের মূলত শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা তৈরি হয়। ৮০% এর মধ্যে হালকা উপসর্গ দেখা যায়। জ্বর, কাশি ছাড়াও কারো কারো নিউমোনিয়ার উপসর্গ দেখা যেতে পারে।

বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের কোনো ধরণের অসুস্থতা রয়েছে (অ্যাজমা, ডায়বেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ) তাদের মা’রাত্মক অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শেয়ার করুন !
  • 19
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!