মা’দকাসক্ত বাবাকে আইনের হাতে তুলে দিল পরিবার

0

দিনাজপুর প্রতিনিধি:

মা’দকাসক্ত এক ব্যক্তিকে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের (ডিসি) হাতে তুলে দিলেন তার ছেলে ও স্ত্রী। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ওই ব্যক্তিকে ৬ মাসের বিনাশ্রম জেল দেয়া হয়।

রবিবার দুপুর ৩টায় দিনাজপুর শহরের বালুবাড়ী মহারাজা স্কুলের মোড় কুমারপাড়ায় এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন দিনাজপুর শহরের বালুবাড়ী মহারাজা স্কুলের মোড় কুমারপাড়ার সুখদেব রায়ের ছেলে বৈদ্যনাথ পাল (৫২)। তিনি পেশায় একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি।

ছেলে দীপক পাল সাংবাদিকদের জানান, আমার বাবা প্রতিদিন নে’শাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়িতে এসে পরিবারের সবার উপর নির্যা’তন করেন। অ’কথ্য ভাষায় গা’লিগালাজ করে। অনেক চেষ্টার পরেও বাবাকে ভালো করতে পারিনি।

তাই রবিবার বাধ্য হয়েই দিনাজপুর জেলা প্রশাসক স্যারকে ফোন করে আমার বাবার বিষয়ে বিস্তারিত বলি। পরে তিনি বিকালে এসে বাবাকে নে’শাগ্রস্ত অবস্থায় পেয়ে ৬ মাসের জেল দেন। আমাদের ক’ষ্ট হলেও আমার বাবা যেনো ভালো হয় এজন্যই আমরা এই কাজ করেছি।

দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম জানান, বৈদ্যনাথ পালের ছেলে দীপক পাল বাধ্য হয়ে আমাকে ফোন দিয়ে জানায়, তার বাবা দিনে ২ থেকে ৩ বার মা’দক সেবন করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে অনেকবার বাধা দেওয়া হলেও তিনি কথা শুনেননি। নে’শাগ্রস্ত অবস্থায় প্রতিনিয়ত স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে মা’রধর করেন।

জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম আরও জানান, বৈদ্যনাথ পাল ইলেকট্রিক মিস্ত্রির কাজ করে যে আয় হয় তার সম্পূর্ণ টাকায় মা’দক সেবন করেন। রবিবার দুপুর ৩টায় তার ছেলে দীপক পাল আমাকে ফোন করে তার বাবাকে জেলে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করে।

পরে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হরে কৃষ্ণ অধিকারী ২০১৮ সালের মা’দক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৪২ ধারার ১ উপ-ধারায় ৬ মাসের বিনাশ্রম জেলের আদেশ প্রদান করেন। পরে তাকে জেলে প্রেরণ করা হয়।

শেয়ার করুন !
  • 45
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply