ঈদেও বন্ধ থাকবে গণপরিবহন, ছুটিতেও থাকতে হবে কর্মস্থলে

0

সময় এখন ডেস্ক:

করোনা ভাইরাস ঠেকাতে ঈদের ছুটিতেও গণপরিবহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এমনকি ছুটিতে কর্মস্থলও ছাড়তে পারবেন না সরকারি কর্মকর্তরা।

সোমবার (৪ মে) দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সমন্বয় অধিশাখার এক আদেশে সরকারের এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকেও এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আদেশে বলা হয়েছে, ঈদুল ফিতরের সরকারি বন্ধের সময় সরকারি কোনো কর্মকর্তা কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবে না। এসময় আন্তঃ জেলা গণপরিবহনও বন্ধ রাখা হবে।

এছাড়াও কোভিড-১৯ এর ঝুঁ’কি কমাতে ৫ম বারের মতো সাধারণ ছুটিও বাড়িয়েছে সরকার। এ পর্যায়ে সাধারণ ছুটি বাড়ানো হয়েছে আরও ১১ দিন। সাপ্তাহিক ছুটির দিন মিলিয়ে আগামী ১৬ মে পর্যন্ত এই ছুটি কার্যকর থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ৫ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ৭ থেকে থেকে ১৪ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা যেতে পারে। ৬ মে বৌদ্ধ পূর্ণিমার সরকারি ছুটি, ৮ ও ৯ মে এবং ১৫ ও ১৬ মে’র সাপ্তাহিক ছুটিও এই সাধারণ ছুটির অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সাধারণ ছুটির এই সময়ে এক জেলা থেকে অন্য জেলা এবং এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় জনসাধারণের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। জেলা প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এই নিয়ন্ত্রণ সতর্কভাবে বাস্তবায়ন করবে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে জনগণকে অবশ্যই ঘরে অবস্থান করতে হবে। রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (প্রয়োজনীয় বেচাকেনা, ওষুধ কেনা, চিকিৎসাসেবা, মৃ’তদেহ দাফন/ সৎকার) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে আসা যাবে না। ছুটির মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারি করা নির্দেশমালাও কঠোরভাবে মেনে চলতে বলা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, তবে জরুরি পরিষেবা যেমন- বিদ্যাৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের (স্থল, নদী ও সমুদ্র বন্দর) কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবা ও সংশ্লিষ্ট সেবার কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা এই ছুটির বাইরে থাকবেন।

এর আগে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্র’মণের ঝুঁ’কি কমাতে প্রথমবার ২৬ মার্চ থেকে ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। ওই ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই করোনা ভাইরাসের সংক্র’মণ বাড়তে থাকায় সাধারণ ছুটি আরও ১ সপ্তাহ বাড়িয়ে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। এরপর ১২ ও ১৩ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের নির্বাহী আদেশের ছুটিকেও এর সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হয়।

এর মধ্যেও করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ১৫ এপ্রিল থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। ২৪ ও ২৫ এপ্রিল যথাক্রমে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় এই ২ দিনকেও সংযুক্ত করা হয় সাধারণ ছুটির সঙ্গে। সে হিসাবে ২৫ এপ্রিল শেষ হতো এ আগের ঘোষিত সাধারণ ছুটির মেয়াদ। পরে ২৩ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রজ্ঞাপনে ৫ মে পর্যন্ত এই ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!