তৈরী হলো করোনাকে হারাতে সক্ষম ‘অ্যান্টিবডি’!

0

বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক:

করোনা ভাইরাসের তাণ্ড’বে বিপ’র্যস্ত বিশ্ব। এই ভাইরাসের ছোবলে ইতোমধ্যে মৃ’ত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে আমেরিকা ও ইউরোপের দেশ ইতালি, ব্রিটেন, স্পেন ও ফ্রান্স। এগুলোসহ বিশ্বের ২১২টি দেশ ও অঞ্চলে একযোগে ধ্বং’সযজ্ঞ চালাচ্ছে এই ভাইরাস। এতে দিশেহারা হয়ে পড়ে গোটা দুনিয়া।

বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানীরা প্রাণপণ চেষ্টা করলেও এখনও পর্যন্ত এই ভাইরাসে কার্যকরী কোনও প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে পারেননি। তবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা উঠেপড়ে লেগেছেন একটা ওষুধ বা ভ্যাক্সিন তৈরিতে।

অবশেষে আশার বাণী শুনিয়েছেন নেদারল্যান্ডসের বিজ্ঞানীরা। বলছেন, পরীক্ষাগারে তারা এমন একটি ‘অ্যান্টিবডি’ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন যেটা করোনা ভাইরাসকে পরা’স্ত করতে সক্ষম। কোভিড-১৯ চিকিৎসা ও মহামা’রী বিস্তার রো’ধে এটা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

নেচার কমিউনিকেশনস জার্নালে সোমবার প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত পরীক্ষামূলক এই অ্যান্টিবডি কোভিড-১৯ সম্পর্কিত রোগের চিকিৎসা এবং ভাইরাসটির সংক্র’মণ প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলোতে এটা সত্যিই কাজ করছে কি না সেটা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন, অ্যান্টিবডি’র আবিষ্কারক দল নেদারল্যান্ডসের উট্রেচ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বেরেন্ড-জান বোশ এবং সহকর্মীরা।

47D11 নামে পরিচিত এই অ্যান্টিবডি করোনা ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনকে লক্ষ্য করে আক্র’মণ করে এবং এর স্পাইকগুলোকে একটি আবরণ দিয়ে মুড়ে এটিকে নি’ষ্ক্রিয় করে দেয়। ফলে ভাইরাসটি নতুন কোষে প্রবেশ করার ক্ষমতা হারায়।

উট্রেচ্টের পরীক্ষায়, এটি কোভিড-১৯ এর জন্য দায়ী ভাইরাসকে কেবল পরা’স্তই করেনি বরং একই ধরনের স্পাইক প্রোটিন দিয়ে সজ্জিত করোনার কাজিন সার্স ভাইরাসকেও পরা’স্ত করেছে। সূত্র: ব্লুমবার্গ

করোনার লক্ষণগুলো কতটা ভ’য়ানক?

জ্বর দিয়ে সংক্র’মণের শুরু, এরপরে শুকনো কাশি দেখা দিতে পারে। প্রায় ১ সপ্তাহ পরে শ্বাসক’ষ্ট শুরু হয়ে যায়। অনেক রোগীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে হয়। শুরুতে বলা হয়েছিল এই রোগে মৃ’ত্যুর হার ১% থেকে ২% এর মধ্যে। যদিও ইউরোপের অনেক অঞ্চলে এই হার অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে- এই রোগে ৬% কঠিনভাবে অসুস্থ হয়। তাদের ফুসফুস বি’কল হওয়া, সেপ্টিক শক, অঙ্গ বৈ’কল্য ও মৃ’ত্যুর সম্ভাবনা তৈরি হয়। ১৪% এর মধ্যে তীব্রভাবে উপসর্গ দেখা যায়। তাদের মূলত শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা তৈরি হয়। ৮০% এর মধ্যে হালকা উপসর্গ দেখা যায়। জ্বর, কাশি ছাড়াও কারো কারো নিউমোনিয়ার উপসর্গ দেখা যেতে পারে।

বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের কোনো ধরণের অসুস্থতা রয়েছে (অ্যাজমা, ডায়বেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ) তাদের মা’রাত্মক অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শেয়ার করুন !
  • 34
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!