রেমডেসিভির উৎপাদনে লেগেছে বাংলাদেশি ৬ কোম্পানি

0

স্বাস্থ্য বার্তা ডেস্ক:

করোনা ভাইরাস চিকিৎসায় বেশ কার্যকর অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগ হিসেবে ‘রেমডেসিভির’ তৈরির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বলা হচ্ছে, ওষুধটি করোনা ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট শ্বাসক’ষ্টের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। রেমডেসিভির বেশ কয়েকটি দেশে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মধ্য থেকে করোনা ভাইরাসের সম্ভাব্য চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ইতিমধ্যে বাংলাদেশের ৬টি ওষুধ কোম্পানিকে রেমডেসিভির উৎপাদনের অনুমোদন দিয়েছে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। অনুমোদন পেয়ে কাজও শুরু করেছে কোম্পানিগুলো।

ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, রবিবার ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান দেশের বর্তমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ অনুমোদন দেন। অনুমোদন পাওয়া ৬টি কোম্পানি হলো- বেক্সিমকো, বিকন, এসকেএফ, ইনসেপ্টা, স্কয়ার ও হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।

অন্যদিকে নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনের এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, করোনা ভাইরাসে আক্রা’ন্ত এবং মা’রাত্মক লক্ষণযুক্ত ৫৩ জন রোগীর ক্ষেত্রে রেমডেসিভির শতকরা ৭০ ভাগ কার্যকর। কিন্তু এক-চতুর্থাংশের ক্ষেত্রে কিডনি ও লিভারের জটিলতাসহ নানা ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আমেরিকান কোম্পানির ওষুধ রেমডেসিভির মূলত সংক্রা’মক রোগ প্রতিরোধীই। এটি ইবোলা ভাইরাসের চিকিৎসার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

রেমডেসিভির কী এবং কীভাবে কাজ করে:

রেমডেসিভির একটি অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগ। ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি (Replication) কমায় এ ওষুধ। এটি একমাত্র আমেরিকার জিলিয়াড বায়োটেকনোলজি কোম্পানি তৈরি করে। রেমডেসিভিরের প্রধান কাজ হলো মানব কোষে ঢোকার পর ভাইরাস যে বংশবৃদ্ধি করে তা বন্ধ করে দেওয়া ও বংশবৃদ্ধির গতি কমিয়ে দেওয়া।

সাধারণত করোনা ভাইরাসের বংশবৃদ্ধিতে ভাইরাল আরএনএ ডিপেনডেন্ট আরএনএ পলিমারেজ এনজাইম প্রয়োজন। রেমডেসিভির এই এনজাইমকে ব্লক করে। ফলে ভাইরাসের বিস্তার কম হয়। বংশবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় আক্রা’ন্ত রোগীর দেহে ভাইরাস লোড অনেক কমে যায়। ফলে তাদের হাসপাতালে অপেক্ষাকৃত কম দিন অবস্থান করতে হয়। এতে মৃ’ত্যুর হার ১১ থেকে ৮ শতাংশে নেমে আসে।

চিকিৎসকরা জানান, করোনা ভাইরাস মানুষের ফুসফুসের কোষে ঢোকার পর কোষের বংশবৃদ্ধির উপাদানগুলো অকার্যকর করে বংশবৃদ্ধি করতে থাকে। একটা ভাইরাস মুহূর্তেই লাখো ভাইরাসের জন্ম দেয়। এক সময় এই ছোট ছোট ভাইরাস কোষকে ছিন্ন-বিচ্ছি’ন্ন করে বের হয় এবং পাশের নতুন একটি কোষকে আক্র’মণ করে, তারপর আবার বংশবৃদ্ধি করতে থাকে। এভাবেই করোনা ভাইরাস ফুসফুসকে ধ্বং’স করে মাত্র কয়েকদিনে। আর তাই রোগী শ্বাস নিতে পারে না।

শেয়ার করুন !
  • 73
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!