মাদারীপুরে বিষমাখা ভাত খাইয়ে বানর হ’ত্যা

0

সময় এখন ডেস্ক:

মাদারীপুরে বানরের কারেন অতি’ষ্ঠ মানুষ। খাবারের জন্য মানুষকে বির’ক্ত করে। কারও কারও বাড়িতে গিয়ে হাজির হয় বানরগুলো। এগুলোর হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসন বা পুলিশের কাছে সহযোগিতা চাইতে পারতেন তারা। কিন্তু তা না করে খাবারে বিষ মিশিয়ে বানরকে খেতে দিয়েছেন। ওই খাবার খেয়ে একটি বা দুটি বানর নয়, অন্তত ১৫টি বানর মা’রা গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার এই নৃশং’স ঘটনাই ঘটেছে মাদারীপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যখাগদী এলাকায়।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মাদারীপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যখাগদী এলাকা থেকে ১৫টি বানরের ডেডবডি উদ্ধার করেন স্থানীয় কয়েকজন তরুণ। সন্ধ্যার পর তারা সেগুলো একটি খালপাড়ে মাটি খুঁড়ে চাপা দেন।

খাবারে বিষ মিশিয়ে বানর মা’রার ভিডিও ও ছবি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, কয়েকজন তরুণ একটি খালের পাড়ে একসঙ্গে মৃ’ত বানরগুলো সারিবদ্ধভাবে রেখে মাটি চাপা দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন। অনেকেই সেই ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করে এই ঘটনার বিচার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় ও বন বিভাগের সূত্র জানায়, মাদারীপুর সদরের পৌর এলাকার ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে অন্তত আড়াই হাজার বানর রয়েছে। এই বানরগুলো খাবার-সং’কটে এখন বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বানরের খাবার-সং’কট থাকার পর সম্প্রতি ৭৬ দিনের একটি কর্মসূচি চালু করে সরকার। ওই কর্মসূচি চলতি সপ্তাহে শেষ হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, খাবারের তীব্র সং’কট দেখা দেওয়ায় বানরগুলো কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে লোকালয়ে বসবাস শুরু করে। এর মধ্যে কিছু বানরকে স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছায় সকাল-বিকেল খাবার দেন। তবে কিছু অ’ভুক্ত বানর খাবার না পেয়ে মানুষের বাড়িতে প্রায়ই ঢুকে পড়ে। কখনো কখনো খাবার চুরি করে। এসব সহ্য করতে না পেরে অনেকেই বানরগুলোকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়েন। তাতে বানরগুলো পালিয়ে যায়।

স্থানীয় কয়েকজন বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকেই খাবারের আশায় বানরগুলোর আনাগোনা বাড়তে থাকে মধ্যখাগদী এলাকায়। এরপর স্থানীয় কয়েকজন বানরের হাত থেকে বাঁচতে খাবারে বিষমাখা ভাত বানরদের খেতে দেয়। ওই খাবার খেয়ে বানরগুলো মাটিতে ঢলে পড়ে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বানরের মুখ থেকে রক্ত বের হতে দেখে স্থানীয় কয়েকজন তরুণ বানরের সামনে গিয়ে পানি খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। এই সময় য’ন্ত্রণায় ছটফট করছিল বানরগুলো। কিছুক্ষণ পর সব বানর মা’রা গেলে তারা ডেডবডিগুলো একটি খালপাড়ে নিয়ে মাটি চাপা দেন।

বানরগুলোকে মৃ’ত অবস্থায় উদ্ধারকারী মধ্যখাগদী এলাকার অপু হাওলাদার বলেন, বানর তো আমাদের বাড়িতে এসে বির’ক্ত করে। অনেক সময় এসব সহ্য করতে না পেরে তাড়িয়ে দিই। আবার ঘর থেকে খাবার এনে নিজ হাতে খাওয়াই। কিন্তু বানরগুলোকে কেউ বিষ খাইয়ে একবারে মে’রে ফেলতে পারে, তা ভাবতেই ক’ষ্ট হচ্ছে।

একই এলাকার ইয়াসিন হোসেন বলেন, আজ (গতকাল) যখন বানরগুলোকে বাঁচাতে ওদের মুখে পানি দিই, তখন আমাদের চোখেই পানি চলে আসে। আমরা বানরগুলোকে বাঁচাতে পৌরসভা ও বন বিভাগকে জানাই। কিন্তু তারা অনেক দেরি করে এখানে আসে। তারা এখানে যখন পৌঁছায়, তখন ১৫টি বানর ম’রে যায়। সন্ধ্যার পর আমরা ১৫টি বানরকে মাটিচাপা দিই। এখনো অনেক বানর আছে, যারা ওই খাবার খেয়ে অসুস্থ অবস্থায় বিভিন্ন স্থানে পড়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী সুবল বিশ্বাস বলেন, শুধু বানর বলে নয়, প্রতিটি পশুর প্রতি মানুষের আচরণ ভালো হওয়া উচিত। প্রাণীরা আমাদের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কোনো মানুষ যদি পশুপাখির প্রতি সহানুভূতি না দেখাতে পারে, তাহলে সেই মানুষ অন্য মানুষের প্রতিও সহানুভূতি দেখাতে পারবে না।

খাবারে বিষ দিয়ে বানরনিধ’নের খবর শুনে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জানতে চাইলে মাদারীপুর জেলার ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা তাপস কুমার সেনগুপ্ত বলেন, আমরা আজ (গতকাল) বিকেলে বানরদের খাবার দিয়েছি। ৩ মাস ধরে খাবার দেওয়া হচ্ছে। খাবারের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যারা বিষ প্রয়োগ করে বানরগুলোকে মে’রেছেন, তারা জ’ঘন্যতম অপরাধ করেছেন। রাতে আমাদের বন বিভাগের লোক ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছেন। যারা এ কাজটি করেছেন, তাদের বিরু’দ্ধে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব। এ ছাড়া আমি বিষয়টি স্থানীয় সাংসদ শাজাহান খান, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানিয়েছি।

প্রথামআলো

শেয়ার করুন !
  • 2.7K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply