করোনার ভ্যাক্সিন তৈরির দাবি ইতালির বিজ্ঞানীদের

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বিশ্বব্যাপী চলছে করোনা ভাইরাস তা’ণ্ডব। ভাইরাসটিতে আক্রা’ন্ত হয়ে প্রতিদিন মা’রা যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে ভাইরাসটি ঠেকাতে ভ্যাক্সিন তৈরির দাবি করেছেন ইতালির বিজ্ঞানীরা। মঙ্গলবার (৫ মে) সায়েন্স টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

সায়েন্স টাইমস জানায়, ট্যাকিস নামের একটি প্রতিষ্ঠান ভ্যাক্সিনটি তৈরি করেছে। ট্যাকিসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) লুইগি অরিসিচিও দাবি করেন, সারা বিশ্বে কোভিড-১৯’এর ভ্যাক্সিন তৈরির প্রতিযোগীতায় এটিই সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

ভ্যাক্সিনটি তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা জানান, তারা রোমের একটি হাসপাতালে ভ্যাক্সিনটির পরীক্ষা চালিয়েছেন। সেটি ইঁদুরের শরীরে অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। এমনকি মানবকোষেও কাজ করবে।

ট্যাকিসের সিইও অরিসিচিও ইতালির বার্তা সংস্থা এএনএসএ’কে জানান, ভ্যাক্সিনটি পরীক্ষা বর্তমানে শেষের পর্যায়ে রয়েছে। চলতি গ্রীষ্মেই এটি মানুষের শরীরে পরীক্ষা করা হবে।

ভ্যাক্সিনটি ফলদায়ক করতে ইতালি সরকারের সহায়তা ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার অংশীদারিত্ব প্রয়োজন বলে জানান ট্যাকিস সিইও।

তিনি আরও বলেন, এটি (ভ্যাক্সিন তৈরি) কোনো প্রতিযোগিতা না। আমরা যদি লোকবল আর দক্ষতা একত্রে কাজে লাগাই, তাহলে আমরা করোনা ভাইরাসের বিরু’দ্ধে জয়ী হবো।

তৈরী হলো করোনাকে হারাতে সক্ষম ‘অ্যান্টিবডি’!

করোনা ভাইরাসের তাণ্ড’বে বিপ’র্যস্ত বিশ্ব। এই ভাইরাসের ছোবলে ইতোমধ্যে মৃ’ত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে আমেরিকা ও ইউরোপের দেশ ইতালি, ব্রিটেন, স্পেন ও ফ্রান্স। এগুলোসহ বিশ্বের ২১২টি দেশ ও অঞ্চলে একযোগে ধ্বং’সযজ্ঞ চালাচ্ছে এই ভাইরাস। এতে দিশেহারা হয়ে পড়ে গোটা দুনিয়া।

বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানীরা প্রাণপণ চেষ্টা করলেও এখনও পর্যন্ত এই ভাইরাসে কার্যকরী কোনও প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে পারেননি। তবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা উঠেপড়ে লেগেছেন একটা ওষুধ বা ভ্যাক্সিন তৈরিতে।

অবশেষে আশার বাণী শুনিয়েছেন নেদারল্যান্ডসের বিজ্ঞানীরা। বলছেন, পরীক্ষাগারে তারা এমন একটি ‘অ্যান্টিবডি’ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন যেটা করোনা ভাইরাসকে পরা’স্ত করতে সক্ষম। কোভিড-১৯ চিকিৎসা ও মহামা’রী বিস্তার রো’ধে এটা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

নেচার কমিউনিকেশনস জার্নালে সোমবার প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত পরীক্ষামূলক এই অ্যান্টিবডি কোভিড-১৯ সম্পর্কিত রোগের চিকিৎসা এবং ভাইরাসটির সংক্র’মণ প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলোতে এটা সত্যিই কাজ করছে কি না সেটা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন, অ্যান্টিবডি’র আবিষ্কারক দল নেদারল্যান্ডসের উট্রেচ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বেরেন্ড-জান বোশ এবং সহকর্মীরা।

47D11 নামে পরিচিত এই অ্যান্টিবডি করোনা ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনকে লক্ষ্য করে আক্র’মণ করে এবং এর স্পাইকগুলোকে একটি আবরণ দিয়ে মুড়ে এটিকে নি’ষ্ক্রিয় করে দেয়। ফলে ভাইরাসটি নতুন কোষে প্রবেশ করার ক্ষমতা হারায়।

উট্রেচ্টের পরীক্ষায়, এটি কোভিড-১৯ এর জন্য দায়ী ভাইরাসকে কেবল পরা’স্তই করেনি বরং একই ধরনের স্পাইক প্রোটিন দিয়ে সজ্জিত করোনার কাজিন সার্স ভাইরাসকেও পরা’স্ত করেছে। সূত্র: ব্লুমবার্গ

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!