করোনার পর কেমন হবে বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা

0

ফিচার ডেস্ক:

বিমানে ওঠার আগে আপনার রক্তপরীক্ষা হচ্ছে কিংবা গায়ে স্যানিটাইজার ছিটিয়ে আপনাকে করা হচ্ছে জীবাণুমুক্ত! আবার হয়ত দেখলেন, রৌদ্রস্নানার্থীদের আলাদা করে রাখা হয়েছে স্বচ্ছ প্লাস্টিকের পার্টিশন দিয়ে! অ’স্বাভাবিক লাগলেও অবস্থাটা এমন হলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউন বিশ্বের অনেক দেশেই ধীরে ধীরে শিথিল করা হচ্ছে, যদিও কোভিড-১৯ ঠেকানোর কোন টিকা এখনো আবিষ্কার হয়নি।

ফলে এই অবস্থায় ভ্রমণকারীরা যেন নিরাপদ ও স্বস্তিতে ছুটি কাটাতে যেতে পারেন সেজন্য ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রিগুলো এখন থেকেই নানা পদক্ষেপের কথা ভাবতে শুরু করে দিয়েছে। তারই একটি সম্ভাব্যচিত্র তুলে ধরেছে ব্রিটিশ সংবাদসংস্থা বিবিসি।

এয়ারপোর্ট

লন্ডনসহ বিভিন্ন এয়ারপোর্টে ইতোমধ্যেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নানা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, যাত্রীদের মধ্যে সবসময় এক বা দুই মিটার দূরত্ব বজায় রাখা (যারা একসঙ্গে থাকেন তারা ছাড়া)।

হংকং বিমানবন্দরে এখন যাত্রীদের পুরো শরীর জীবাণুমুক্ত করার একটি যন্ত্র পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। যন্ত্রটি দিয়ে একটি স্প্রে যাত্রীর গায়ে ছিটিয়ে দেওয়া হবে যা যাত্রীর ত্বক ও পোশাকে কোন ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস থাকলে মাত্র ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে তা মে’রে ফেলবে।

হংকংয়ের এই এয়ারপোর্টে এছাড়াও রোবট পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘুরে ঘুরে পরিষ্কার করার কাজ করতে থাকবে। কোন মাইক্রোবের উপস্থিতি টের পেলে আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি দিয়ে তাদের ধ্বং’স করবে।

ইনট্রেপিড ট্রাভেলের প্রধান নির্বাহী জেমস থর্নটন বলছেন, চেকিংয়ের কড়াকড়ির জন্য আগামী দিনগুলোতে যাত্রীদের বিমানবন্দর পার হতে সময় বেশি লাগবে। হয়ত আমরা ইমিউনিটি পাসপোর্টের মতো কিছু চালু করা হচ্ছে এটিও দেখবো!

বিমানের ভেতরের পরিবেশ

প্লেনের ভেতরে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা খুব সম্ভবত মাস্ক পরা থাকবেন। আপনাকেও সম্ভবত মাস্ক পরে থাকতে হবে। কোরিয়ান এয়ার বলেছে যে তারা কেবিন ক্রুদের গাউন, গ্লাভস ও আই মাস্ক দেবে। ফলে বিমানের ভেতর পিপিই পরা লোক দেখলে ভয় পাবেন না।

বেশিরভাগ এয়ারলাইন্সই বলছে, তারা বিমান পুরোপুরি যাত্রীভর্তি করবে না। আপাতত মাঝখানের সিটগুলো খালি রাখা হবে। ফলে বিমানসংস্থাগুলো হয় লোকসান দেবে, নয় তাদের টিকিটের দাম বাড়িয়ে দিতে হবে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে এমন আশং’কা প্রকাশ করেছেন একজন পাইলট।

গন্তব্যের চেহারা কেমন হবে?

ইতালির সমুদ্র-সৈকতে গিয়ে আপনি হয়তো দেখতে পাবেন, যারা রৌদ্রস্নান করছেন তাদের মাঝখানে স্বচ্ছ প্লাস্টিকের পার্টিশন দেওয়া!

পর্যটনসংক্রান্ত একটি গবেষণা ইনস্টিটিউটে কর্মরত উলফ সন্টাগ জানান, ইউরোপের অনেক হোটেল চিন্তা করছে, অতিথিদের একরুম পরপর থাকতে দেওয়া যায় কি না। অনেক রেস্তোরাঁ পরিকল্পনা করছে, তাদের টেবিলগুলো আরো দূরে দূরে বসাতে। অনেকে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের মজুত গড়ে তুলছে। কেউবা বুফে খাবার বন্ধ রাখার কথা ভাবছে।

ভবিষ্যতে কি ভ্রমণ একেবারেই বদলে যাবে?

হয়তো ভবিষ্যতে অনেকেই আন্তর্জাতিক ভ্রমণ কমিয়ে দিয়ে ঘরে বসেই ছুটি কাটাবেন, যাকে বলা হবে “স্টে-কেশন”। বৈশ্বিক মহামা’রির কারণে জাহাজ বা প্রমোদতরী ভ্রমণ, স্কি হলিডে, বা দীর্ঘ বিমান ভ্রমণ আকর্ষণ হারিয়ে ফেলতে পারে।

বোয়িং কোম্পানি ইতোমধ্যেই কোভিড-১৯ সংক’টে তাদের ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁ’টাই করেছে। তারা বলছে, বিমান ভ্রমণ আবার আগের অবস্থায় ফিরতে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে।

শেয়ার করুন !
  • 36
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply