খু’ন করে জ্বীনের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা, অতঃপর…

0

আনোয়ারা প্রতিনিধি:

আনোয়ারা উপজেলায় চাতরী এলাকায় এক বৃদ্ধাকে হ’ত্যা করে কানের দুল হাতিয়ে নিয়ে পরে সব দোষ জ্বীনের ঘাড়ে চাপায় খু’নি। এতে বিশ্বাস করে বৃদ্ধার পরিবার দাফনের কাজও শেষ করে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে আনোয়ারা থানায় অপমৃ’ত্যু মামলাও দায়ের হয়।

কিন্তু পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় ঘটনার পর থেকে তদন্তে নামে পুলিশ। ঘটনার ১২ দিনের মাথায় পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে আসল ঘটনা। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় জাকির হোসেন (২৯) নামে এক ভণ্ড ওঝা, যে ঘটনার হোতা।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে। জাকির হোসেন সিলেজ জেলার বিশ্বনাথ দৌলতপুর এলাকার রইছ আলীর ছেলে। তিনি আনোয়ারা চাতরী এলাকায় স্ত্রীসহ ভাড়া বাসায় থাকতেন।

গ্রেপ্তার জাকির হোসেন ঘটনার মোড় অন্যদিকে ঘোরাতে নিজে বৈদ্য সেজে বৃদ্ধাকে জ্বীনে মে’রেছে বলে প্রচার করেন। ঘটনা সাজাতে তিনি বৃদ্ধার প্রতিবেশি তার শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে ব্যবহার করেছিলেন।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল মাহমুদ বলেন, ছখিনা খাতুন নামে এক বৃদ্ধা নি’খোঁজ হন ২২ এপ্রিল। তার পরিবার ২৩ এপ্রিল থানায় নি’খোঁজ ডায়েরি করেন। পরে ২৪ এপ্রিল দিবাগত রাতে তাদের বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি গোবরের স্তুপ থেকে বৃদ্ধার ডেডবডি উদ্ধার করা হয়।

ওসি দুলাল মাহমুদ বলেন, বৃদ্ধাকে জ্বীনে মে’রেছে বলে দাবি করেন বৈদ্য পরিচয় দেওয়া জাকির হোসেন। বৃদ্ধার পরিবারও তা বিশ্বাস করে দাফনের কাজ শেষ করে। কিন্তু ডেডবডি দেখে পুলিশে সন্দেহ হয়। থানায় অপমৃ’ত্যু মামলা দায়েরের পর পুলিশ তদন্তে নামে। তদন্তে জানা যায়, বৃদ্ধাকে হ’ত্যা করা হয়েছিল। বৈদ্য জাকিরকে সন্দেহ হওয়ার পর থেকে তাকে নজরদারিতে রাখে পুলিশ।

ওসি জানান, জাকিরকে পুলিশ হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসা’বাদের এক পর্যায়ে পুলিশের কাছে ঘটনা স্বীকার করে। জাকির জানায়- বৃদ্ধার কানের দুল হাতিয়ে নিতে তাকে হ’ত্যা করেছে সে। জাকিরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত কী না তদন্ত করা হচ্ছে।

ওসি দুলাল মাহমুদ বলেন, বৃদ্ধা ছখিনা বেগমের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া কানের দুল চাতরী বাজারের মনিহার জুয়েলার্সে বিক্রি করে দেয় জাকির। সেই কানের দুল মনিহার জুয়েলার্স থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। জাকির মা’দকসেবী বলে জানতে পেরেছি।

বৃদ্ধা ছখিনা বেগমের ছেলে আজাদুল হক বলেন, ২২ এপ্রিল সন্ধ্যার পর থেকে আমার মাকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। ২৩ এপ্রিল আনোয়ারা থানায় নি’খোঁজ ডায়েরি করা হয়। ২৪ এপ্রিল জাকির হোসেনের শ্বশুর আবদুল খালেক নামে এক প্রতিবেশি তার কাছে ভালো বৈদ্য আছে এবং তিনি মাকে খুঁজে দিতে পারবেন বলে জানান।

আজাদুল বলেন, মাকে খুঁজে পেতে আবদুল খালেকের কথামতো বৈদ্য জাকিরের কাছে যাই আমরা। জাকির মাকে খুঁজে দিতে সাড়ে ৫ হাজার টাকা দাবি করে। তাকে সেই টাকা দিই। পরে জাকির আসন বসিয়ে জানায় আমার মাকে জ্বীনে মে’রে বাড়ির পেছনে লুকিয়ে রেখেছে।

পরে তার কথামতো আমরা মাকে খুঁজে পাই। তার কথা মিলে যাওয়ায় আমরা সব বিশ্বাস করি। দাফনও করে ফেলি। কিন্তু পুলিশ তদন্ত করে জানতে পারে জাকিরই মাকে হ’ত্যা করেছে। পরে আমি বাদি হয়ে আনোয়ারা থানায় মামলা দায়ের করেছি।

শেয়ার করুন !
  • 9
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!