৬ লাখ টাকার ফসল ন’ষ্টের বিচার না পেয়ে ভিক্ষার সিদ্ধান্ত কৃষকের

0

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:

ফসলের সাথে শ’ত্রুতা, ৩ বিঘা জমির ৬ লক্ষাধিক টাকার তরমুজ রাতের আঁধারে কেটে ফেলেছে দু’র্বৃত্তরা।

করোনা কালের এই দু’র্বিষহ অবস্থায় তার বিচার না পেয়ে আরো অ’সহায় হয়ে পড়েন মিঠু খাঁ নামের এক প্রান্তিক চাষী। তার ৩ বিঘা জমির তরমুজ ক্ষেত রাতের আঁধারে দু’র্বৃত্তরা সম্পূর্ণ কেটে দিলেও তার পাশে দাঁড়ায়নি কেউ!

৬ লাখ টাকা ক্ষ’তির মুখে পড়ে ইউএনও, পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক, কৃষি অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও পাননি কোন বিচার। ঘটনার ২ সপ্তাহ পার হতে চললেও পাশে কাউকে না পেয়ে ঝিনাইদহের খামারাইল গ্রামের এই কৃষক চাষ ছেড়ে ভিক্ষা করে খাওয়ার ঘোষণ দিলেন।

উন্নত জাতের সবুজ তরতাজা গাছগুলোর বোঁটায় বোঁটায় ঝুলে ছিল হাজার হাজার কালো তরমুজ। বোঁটা থেকে খসে মাটিতে পড়ার ভয়ে জাল জড়িয়ে রাখা হয়েছিল। কঠিন পরিশ্রম করার পর দরিদ্র কৃষক আমিরুল ইসলাম অপেক্ষায় ছিলেন এই তরমুজ বিক্রি করে কিছু পয়সা পাবেন। যা দিয়ে চাষের দেনা পরিশো’ধের পাশাপাশি করোনা কালের দু’র্দিনে সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে আসবে।

কিন্তু মুহুর্তের মধ্যে তার সব স্বপ্ন ভেঙে যায়। গত ২৮ এপ্রিল ক্ষেতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন কৃষক আমিরুল। গাছগুলো টেনে টেনে দেখেন সবগুলো গাছের গোড়া থেকে কেটে দেওয়া হয়েছে। এভাবে ২টি ক্ষেতে তার ৩ বিঘা জমির সব তরমুজ গাছ কেটে দেয় কেউ শ’ত্রুতা করে।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার খামারাইল গ্রামের খোদাবক্সের ছেলে কৃষক আমিরুল ইসলাম মিঠু খাঁ। মাঠে তার চাষযোগ্য ৪ বিঘা জমি। তবে যেসব ফসল হতো তা দিয়ে সন্তানাদি আর সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছিল। তাই চাষে একটু পরিবর্তন এনে তরমুজ লাগিয়ে ভাল লাভের আশা করেছিলেন। ঋ’ণসহ ধার-দেনায় খরচ হয়েছিল প্রায় ২ লাখ টাকা।

১০/১৫ দিন পরই তার ক্ষেতের তরমুজ বিক্রি করা যেত। বাজারে বর্তমানে এই তরমুজের কেজি ৫০ থেকে ৭০ টাকা। সেই হিসাবে তার ক্ষেতের তরমুজ আনুমানিক ৫/৬ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারতেন। এখন দেনার দায়ে ভিক্ষা করা ছাড়া আর উপায় নেই বলে জানান হতা’শ আমিরুল ইসলাম মিঠু।

এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, এলাকার একটি বাড়ির রাস্তা নিয়ে স্থানীয়দের বিরো’ধে গ্রামের একটি চক্র এটি করতে পারে। তবে বিষয়টি সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম দেখবেন বলে আশ্বস্ত করায় পুলিশ হস্তক্ষেপ করেনি।

এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এটি খুবই দুঃখজনক, তার ধরন্ত তরমুজ ক্ষেত কেটে শেষ করে দেয়া হয়েছে। প্রান্তিক এই চাষীকে সরকারী প্রনোদনায় সহায়তা করা হবে, তবে সময় লাগবে। জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃপাংশু শেখর বিশ্বাস।

শেয়ার করুন !
  • 491
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!