করোনা মোকাবেলায় সাংসদদের মানবিক কাজের সমালোচনা কতটা যৌক্তিক?

0

মুক্তমঞ্চ ডেস্ক:

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো প্রায় সময়ই সংসদ সদস্যদের সমালোচনা মুখর থাকে। অথচ করোনা ভাইরাস সংক্র’মণের এই দুর্যোগকালীন সময়ে সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দু’স্থ-অ’সহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ কার্যক্রমকে অতিমানবীয় বলা চলে।

হ্যাঁ, কিছু কিছু অঞ্চলে এই কার্যক্রম ব্যাপকভাবে না হলেও সীমিত পরিসরে চলছে। কিন্তু সরকারিভাবে খাদ্য সহায়তা প্রদান কার্যক্রম ও সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে খাদ্য সহায়তা প্রদান কার্যক্রম বিষয়ে মানুষের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি ব্যাপকভাবে লক্ষ্যণীয়। দুটো আলাদা প্রক্রিয়াকেই মানুষ এক করে ফেলছে। মূলতঃ এসব জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড সংসদ সদস্যরা করছেন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে, কেননা সরকারীভাবে যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে তার তত্ত্বাবধানে আছেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব। আর এক্ষেত্রে সরকারি ত্রাণ বিতরণে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে সংসদ সদস্যরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কঠোর তদারকিতে রেখেছেন। পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে আলাদাভাবে অ’সহায়দের খাদ্য সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।

ত্রাণ বিতরণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংসদ সদস্যদের যে ভূমিকা পত্র-পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে দৃশ্যমান, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এক্ষেত্রে কিছু উদাহরণ দেয়া যায়— করোনা ভাইরাস প্রা’দুর্ভাবের শুরু থেকেই নিজ নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) আসনের প্রতিটি মানুষের কাছে নিজের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি শতভাগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন সাংসদ এইচ এম ইব্রাহিম। এমনকি এলাকার বিত্তবান মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীদেরও উদ্বুদ্ধ করেছেন এই সং’কটে অ’সহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।

সরকারি সাধারণ ছুটি ঘোষণার শুরুতেই তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রথম পর্যায়ে ১০ হাজার অ’সহায় মানুষের তালিকা করে ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছিলেন এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ১৫ হাজার দরিদ্র, অ’সহায় পরিবারের ঘরে খাদ্য সহায়তা পৌঁছানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। যা ১১ মে ২০২০ (১৭ রমজান) থেকে বিতরণ শুরু করবেন এবং কার্যক্রমগুলো করোনা প্রতিরোধে সরকারি সকল বিধি বিধান মেনেই তিনি করছেন উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে। শুরু থেকে তিনি বিদেশ ফেরত ও বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ব্যক্তির হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করেছেন এবং প্রত্যেকের বাড়িতে প্রয়োজনীয় খাবার পৌঁছে দিয়েছেন। এতে করে সং’কট মোকাবেলায় স্থানীয়দের মনোবল বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই দুর্যোগে একইভাবে নিজ নিজ এলাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে খাদ্য সহায়তা ছাড়াও নানান অসাধারণ কাজ করে যাচ্ছেন সকল সংসদ সদস্যরা। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন- নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাননীয় খাদ্যমন্ত্রী জনাব সাধন চন্দ্র মজুমদার। তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১০ হাজার অ’সহায় মানুষকে খাদ্য সহায়তা ছাড়াও পুরো জেলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, পুলিশ সুপার ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ পিস সার্জিক্যাল মাস্ক এবং প্রতিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাহিদামত থার্মাল স্ক্যানার বিতরণ করেছেন।

নারায়ণগঞ্জ-১ এর মাননীয় সংসদ সদস্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী জনাব গোলাম দস্তগির গাজী সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে রূপগঞ্জে করোনা টেস্ট ল্যাব স্থাপন করেছেন যেখানে বিনামূল্যে করোনা টেস্ট করা হচ্ছে। বাগেরহাটের সাংসদ শেখ তন্ময় তাঁর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালের ব্যবস্থা করেছেন। নড়াইলের সাংসদ মাশরাফি বিন মর্তুজা নিজ খরচে হাসপাতালের প্রবেশ মুখে ভাইরাস প্রতিরোধক গেইট বসিয়েছেন। কৃষকদের এনে দিয়েছেন ধান কাটার হারভেস্টার মেশিন। এছাড়াও শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মুরাদ হাসান, জামালপুরের সাংসদ মির্জা আজম, নোয়াখালী-৪ এর সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জের সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবু, শামীম ওসমান, সিরাজগঞ্জের সাংসদ ডাঃ হাবিবে মিল্লাত, ভোলার সাংসদ নুরুন্নবি চৌধুরি শাওন, চট্টগ্রামের সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, নরসিংদীর সাংসদ তামান্না নুসরাত বুবলি, লক্ষ্মীপুরের সাংসদ ডাঃ আনোয়ার হোসেন খান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংসদ ওবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী, গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, ময়মনসিংহের মেয়র একরামুল হক টিপু প্রমুখ নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে অসাধারণ সব কাজ করে যাচ্ছেন এই দুর্যোগে; এবং এই তালিকাটাও দীর্ঘ।

বস্তুত, এই দুর্যোগে ৬৫ শতাংশ সাংসদ বিস্তৃত পরিসরে নিজ উদ্যোগে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায়। বাকি ৩৫ শতাংশ বিভিন্নভাবে ক্ষুদ্র পরিসরে চেষ্টা করেছেন এলাকার মানুষের পাশে থাকার। অর্থাৎ আমাদের সীমিত সামর্থ্যের এই দেশে সরকারের পাশাপাশি সংসদ সদস্যরাও মোটামুটি দায়িত্বশীল আছেন পরিস্থিতি মোকাবেলায়। আর তাই সমালোচনা না করে তাঁদের সহযোগিতা করলে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের চিত্রটাই হয়ত ভিন্ন হতে পারে। তাঁরা উদ্বুদ্ধ হলে হয়তোবা পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা পেতে পারেন সুবিধা ব’ঞ্চিত আরও কিছু মানুষ।

সমালোচনার জন্য অনেক সময় আছে, এখন সঠিক সময় নয়। সমালোচনার জন্য সময়কেও সময় দিতে হয়।

লেখক: রবিউল এইচ ভূঁইয়া
পরিচিতি: প্রবাসী অ্যাক্টিভিস্ট এবং ডাটা অ্যানালিস্ট

শেয়ার করুন !
  • 336
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply