পরিবার এগিয়ে আসেনি, চিতায় তুলে বৃদ্ধের মুখাগ্নি করলেন ইউএনও নাজমুল

0

নড়াইল প্রতিনিধি:

নড়াইলের কালিয়ায় করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মা’রা যান বিশ্বজিৎ রায় চৌধুরী (৫০)। কিন্তু হিন্দু রীতি অনুসারে বাবার শেষকৃত্যে মুখাগ্নি করতে এগিয়ে যাননি তার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কয়েকজন সাংবাদিককে সঙ্গে নিয়ে নিজেই বৃদ্ধের সৎকার করেন।

জানা গেছে, বিশ্বজিৎ রায় চৌধুরী ঢাকায় একটি সিউিরিটি গার্ড কোম্পানি চাকরি করতেন। জ্বর ও শ্বাসক’ষ্ট নিয়ে গত ৩-৪ দিন আগে তিনি বাড়িতে এলে গত শনিবার রাতে বাড়িতেই তার মৃ’ত্যু হয়। খবর পেয়ে নমুনা সংগ্রহের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হুদা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কাজল মল্লিকসহ কয়েকজন পুলিশ তার বাড়িতে যান।

রবিবার (১০ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নমুনা সংগ্রহের পর সৎকার করতে বললে তার পরিবারের কেউ এগিয়ে আসেনি।

কালিয়া উপজেলার সাংবাদিক ফসিয়ার রহমান জানান, পরিবারের লোকদের শেষকৃত্যের জন্য বলেন ইউএনও। কিন্তু কেউ রাজী না হওয়ায় ইউএনওর অনুরোধে আমাদের কয়েকজনকে পিপিই পরানো হয়। কয়েক দফা অনুরোধের পরেও পরিবারের কেউ না আসায় একটি ভ্যানে বৃদ্ধের ডেডবডি তোলা ও শ্মশানে নামানোর কাজে সরাসরি হাত দেন ইউএনও নাজমুল হুদা।

শ্মশানে নেওয়ার পরে মুখাগ্নি করার ব্যাপারে সমস্যা তৈরী হয়। কারন রীতি অনুযায়ী এ কাজটি করেন বড় পুত্র। এ সময় কয়েক দফা ফোন করলেও বিশ্বজিৎ রায়ের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছেলে মুখাগ্নি করতে এগিয়ে যায়নি। এক পর্যায়ে ইউএনও নাজমুল হুদা পুত্র হিসেবে দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কড়া ভাষায় বলার পর ছেলে আসে, তবে কোনোমতে একটি পাটকাঠির মাথায় আগুন ধরিয়ে দূর থেকে ছুঁড়ে দিয়েই পালিয়ে যায়। কিন্তু সেটি চিতায় পড়েনি। এ সময় ইউএনও নিজে মুখাগ্নি করেন। অতঃপর সাংবাদিক, ভ্যানচালক ও অন্য দুই ব্যক্তিকে নিয়ে তার সৎকার ও অন্যান্য বিষয় সমাপ্ত করেন।

এ বিষয়ে ইউএনও নাজমুল হুদা বলেন, এমন অবস্থায় পড়তে হবে কখনো ভাবিনি। করোনা সন্দেহে একজন মৃ’তের সৎকারে পরিবার পর্যন্ত এগিয়ে আসেনি। বাবার সৎকারে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলের এমন আচরণ, বিশ্বজিৎ রায়ের ভাই ও পরিবারের লোকের আচরণ আমাকে ক’ষ্ট দিয়েছে। সাংবাদিকদের সহায়তায় ডেডবডি বের করা, চিতায় ওঠানো থেকে শুরু করে সবই আমাকে নিজের হাতে করতে হয়েছে।

শেয়ার করুন !
  • 159
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply