রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি আরও এক ধাপ

0

সময় এখন ডেস্ক:

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের নাগরিকদের এখনও ফিরিয়ে নেওয়া শুরু না হলেও সোমবার (১১ মে) তাদের প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) সাথে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার।

এ সমঝোতা স্মারকের উদ্দেশ্য বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সাথে এবং টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা। পাশাপাশি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলের ৩টি জনপদে বসবাসকারী সব সম্প্রদায়ের সুবিধার জন্য পুনরুদ্ধার এবং স্থিতিশীলতা ভিত্তিক উন্নয়নে সহায়তা করা।

রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ইউএনডিপি ও ইউএনএইচসিআর বলছে, রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সাথে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা এবং মিয়ানমারে এখনও বসবাসরত জনগণের মানবাধিকার নিশ্চিত করা দেশটির সরকারের দায়িত্ব। ইউএনডিপি ও ইউএনএইচসিআর এ কাজে সহায়তার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ব্যাংকক থেকে পাওয়া বার্তা অনুসারে, সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর ব্যাপারে মিয়ানমারের নেপিদোতে সোমবার নথি আদান-প্রদান হয়েছে। এতে মিয়ানমারের পক্ষে দেশটির শ্রম, অভিবাসন ও জনসংখ্যা বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ইউএনপিডি ও ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধিরা স্বাক্ষর করেছেন।

এর আগে ২০১৮ সালের ৬ জুন ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকটি স্মাক্ষরিত হয় এবং পরবর্তীতে ২০১৯ সালের মে পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার থেকে প্রায় ৮ লাখের মত রোহিঙ্গা পালিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। অতীতেও বিভিন্ন সময় মিলিয়ে বর্তমানে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে।

‘বারবার কেন রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশেই আশ্রয় দিতে হবে’

বারবার কেন রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশেই আশ্রয় দিতে হবে- আন্তর্জাতিক বিশ্বের কাছে সেই প্রশ্ন তুলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

মালয়েশিয়ায় আশ্রয় না পেয়ে আনুমানিক ৫শ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু এখনও গভীর সমুদ্রে ভাসছেন তাদের গ্রহণ করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বানের প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগরের কাছে ভাসমান দুটি নৌকায় ৫ শতাধিক রোহিঙ্গাকে নিরাপদ আশ্রয় দেয়ার জন্য আমাদের অনুরোধ জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের হাইকমিশনার মিশেল বাশেলেত। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এই মহাসাগরের চতুর্দিকে আরও অনেকগুলো রাষ্ট্র আছে। জাতিসংঘের আইন হচ্ছে এ ধরনের মানবিক দুর্যোগ হলে উপকূলবর্তী দেশগুলোর সমান দায়িত্ব ভিক্টিমদের দেখভাল করার। আমরা ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা বোঝাই একটি ট্রলার গ্রহণ করেছি। সবসময় আমরাই কেন তাদের দায়িত্ব নেব?

ড. মোমেন বলেন, রোহিঙ্গারা আমাদের নয়, মিয়ানমারের নাগরিক। মিয়ানমারেরই প্রধান দায়িত্ব তাদের দেখভাল করা। নতুবা বাকি সবাই মিলে এদের দেখভাল করতে হবে। ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আমরা কী অ’ন্যায় করেছি, যে দুনিয়ার বাকি রোহিঙ্গাদেরও আশ্রয় দিতে হবে? এটা কী ন্যায়বিচার? তবে একজন মানুষও সমুদ্রগর্ভে মা’রা যাক তা চায় না বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের বিভিন্ন বড় সংস্থা বা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ যারা রোহিঙ্গাদের জন্য এত চিন্তিত তাদের হেড কোয়ার্টার যেসব দেশে, তারা অতি সামান্য কিছু রোহিঙ্গাকে নিয়েছে। আমাদের দেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আছে। তাদের প্রতি অনুরোধ আপনারা আমাদের দেশ থেকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে যান। কারন, এমনিতেই বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ, সম্পদও নেই। তবু আশ্রয় দিয়েছি। অথচ ৩ বছর হয়ে যাচ্ছে, কোনো সমাধান নেই। এখনই সময় বিশ্বের সবাই মিলে সব রোহিঙ্গার সুন্দর ভবিষ্যৎ দেয়ার।

তিনি বলেন, এই মহামা’রির মধ্যে বিশ্বে যু’দ্ধ হওয়ার কথা নয়। তবুও মিয়ানমার বোম্বিং করছে। ফলে আরও ৪/৫শ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকতে চায়। সেটা নিয়ে বিশ্বের কেউ কোনো কথা বলছে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের লাখ লাখ শ্রমিক খেতে পারছে না। অনেকের চাকরি চলে যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশ থেকে বেকার হয়ে কয়েক লাখ শ্রমিক ফেরত আসবে। সেসব নিয়ে আমাদের ভাবতে হচ্ছে।

শেয়ার করুন !
  • 24
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply