কুয়েত থেকে দেশে ফিরছেন আটক সাড়ে ৪ হাজার বাংলাদেশি!

0

প্রবাস ডেস্ক:

করোনা ভাইরাস প্রবাসী বাংলাদেশিদের নানা সমস্যায় ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে পূর্ব এশিয়া- সর্বত্রই গৃহব’ন্দি হয়ে রয়েছে প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী। একদিকে করোনার শ’ঙ্কা, অন্যদিকে আয়-রোজগার বন্ধের পথে। দিন বা সপ্তাহভিত্তিক চাকরি করা প্রবাসীরা পড়েছে আরও সং’কটে। এর মাঝে মড়ার ওপর খাঁড়া হিসেবে দেখা দিয়েছে অ’বৈধতা।

করোনা শুরুর পর থেকে প্রবাসীদের ফেরাতে চাপ দিচ্ছে বিভিন্ন দেশ। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর চাপ বেশি। কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব অ’বৈধ বাংলাদেশিদের ফেরাতে চাপ জারি রেখেছে। এদিকে কুয়েতে সাধারণ ক্ষমা পাওয়া ২ হাজার অ’বৈধ বাংলাদেশি শ্রমিককে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রমিকদের দেশে ফেরাতে এরই মধ্যে ৬টি ফ্লাইট প্রস্তুত করা হয়েছে। দেশটি প্রায় সাড়ে ৪ হাজার জনকে আলাদা করেছে। তাদের একটি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।

করোনার ভ’য়ে কুয়েত সরকার অ’বৈধদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে। অ’বৈধ মোট ২৩ হাজার বিদেশি এ সুযোগ নিয়েছে। যা মোট অ’বৈধ অভিবাসীর এক-তৃতীয়াংশেরও কম। তারা জেল-জরি’মানা ছাড়া কুয়েত সরকারের টিকিটে নিজ নিজ দেশে ফেরার শর্তে সারেন্ডার করেছে। পুলিশের কাছে ধরা দেওয়া ওই ২৩ হাজার অভিবাসীর মধ্যে ৪ হাজার ৪৯০ জন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে কুয়েত টাইমসের রিপোর্টে বলা হয়। বাংলাদেশিদের যে সব ক্যাম্পে রাখা হয়েছে সেখানে করোনা থেকে বাঁচতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ন্যূনতম কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি বলে ভিক্টিমরা অভিযোগ করেছেন। ইতোমধ্যে ক্যাম্পের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দ্রুত ফেরার আকুল আবেদন করেছেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও কুয়েত বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্র জানিয়েছে, প্রথম দফায় ২ হাজারের মতো বাংলাদেশি শ্রমিক দেশে ফিরতে পারবেন। পর্যায়ক্রমে অন্যদেরও আনা হবে। যারা দেশে ফিরবেন তাদের প্রত্যেককে ১৪ দিন কোয়ারান্টাইনে রাখা হবে। এমনকি তাদের ফ্লাইটে ওঠানোর আগেও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। ঢাকায় পৌঁছানোর পরও তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।

জানা যায়, এপ্রিল মাসে বিভিন্নভাবে অ’বৈধ হয়ে পড়া অভিবাসীদের কুয়েত ছাড়ার জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে দেশটির সরকার। ফলে অ’বৈধ অভিবাসীরা জরি’মানা ছাড়াই কুয়েত ছাড়তে পারবেন। পাশাপাশি কুয়েত সরকারের খরচে আকামা ছাড়াই প্রবাসীদের নিজ নিজ দেশে পাঠানো হবে।

ফেরত পাঠানোর জন্য ৫ হাজার বাংলাদেশিকে ট্রানজিট ক্যাম্পে রেখেছে জানিয়ে কুয়েতের বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত এস.এম আবুল কালাম বলেন, কুয়েত করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে অ’বৈধদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলছে। তারা প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশিকে আলাদা করেছে। সেখানে তাদের খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় জিনিস দেওয়া হচ্ছে। কুয়েত দাবি করেছে, তাদের দেশে ৩৮ হাজার অ’বৈধ বাংলাদেশি আছে। এটি ২০ হাজারের বেশি না। পর্যায়ক্রমে তাদের ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

কুয়েত সরকারের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কুয়েত ছাড়তে অ’বৈধদের আহ্বান জানায় কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস। অ’বৈধদের অবগতির জন্য দূতাবাসের ফেসবুক পেজে ‘জরুরি বিজ্ঞপ্তি’ দেওয়া হয়। আগ্রহীদের এপ্রিলের ১২ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ কুয়েত সরকারের নির্দিষ্ট অফিসে নাম নিবন্ধনের জন্য যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশি নাম নিবন্ধন করে।

শেয়ার করুন !
  • 371
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply