বৃদ্ধার জীবন রক্ষায় রোজা রেখেই রক্ত দিলেন ইউএনও

0

সময় এখন ডেস্ক:

ফিন্যান্স কোম্পানিতে চাকরি করেন মঈন জুনুর মাতা সৈয়দা জামিমা আক্তার (৮০)। ৬ বছর ধরে কিডনির রোগী। হঠাৎ ডায়ালাইসিস করতে রক্ত লাগবে আলী ইউসুফকে ফোন করে বলেন মঈন। রক্তের গ্রুপ ও-পজেটিভ।

আলী ইউসুফ তখন (১০ মে) দুপুরে ময়মনসিংহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিসে বসা ছিলেন। দুই বন্ধুর কথোপকথন শুনে মানবিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ হাফিজুর রহমান সজল বলেন, অন্য কোথাও রক্তের ডোনার জোগাড় করতে না পারলে আমিই বিশ্ব মা দিবসে আপনার বন্ধুর বৃদ্ধ মায়ের জন্য রক্ত দিতে রাজি আছি।

আলী ইউসুফ জানান, একে তো করোনার দুর্যোগ, তারপর আবার রোজা! এ সময় ডোনার খুঁজে না পেয়ে গতকাল (১১ মে) দুপুরে তাকে (ইউএনও) ফোন দিয়ে বললাম- স্যার দুপুরে রোগীর ডায়ালাইসিস করবে রক্তটা দুপুরেই দরকার। এ কথা শুনেই বললেন- ঠিক আছে ব্যবস্থা করুন দুপুরেই রক্ত দেব।

ইউএনওকে বললাম, কিন্তু স্যার আপনি তো রোজা রেখেছেন। তিনি বললেন- তাতে কী? কোনো সমস্যা হবে না। এখনই দেব, তবে আমাকে তাড়াতাড়ি ছেড়ে দিতে হবে। অফিসের কাজে সদর উপজেলার অষ্টাধর ইউনিয়নে যাব।

কথামতো ১১ মে দুপুরেই রোজা রেখে রক্ত দিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ হাফিজুর রহমান সজল। ময়মনসিংহ জেলা স্কুল রোডের ব্যবসয়ী মো. আলিমউদ্দিনের ছেলে মঈন জুনু।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ হাফিজুর রহমান সজল জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে প্রথম বর্ষে লেখাপড়াকালে ২০০১ সালে সভারে এক রেপ্ড ছাত্রী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হলে তার জীবন বাঁচাতে প্রথম রক্ত দেন তিনি। এ পর্যন্ত ২৫ বার রক্ত দিয়ে কোয়ার্টার সেঞ্চুরি করলেন এই মানবিক ইউএনও।

ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান এনডিসি এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, ইউএনও সজল একজন বৃদ্ধার জীবন বাঁচাতে রক্ত দিয়ে যে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন তা সমাজে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

শেয়ার করুন !
  • 70
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply