হালদা নদীর জীব-বৈচিত্র্য রক্ষায় চলছে অভিযান, গ্রেপ্তার ২

0

রাউজান প্রতিনিধি:

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজ’নন ক্ষেত্র হালদা নদীতে নিষে’ধাজ্ঞা অ’মান্য করে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় বালু উত্তোলন করে আসছিল একদল দু’র্বৃত্ত। এ কারণে সাজাস্বরূপ বালু বোঝাইয়ের কাজে নিয়োজিত ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকার তলা ফুটো করে ডুবিয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় ওই নৌকার ইঞ্জিন ও ৩ হাজার ঘনফুট বালু পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ৩শ মিটার ভাসাজাল জ’ব্দ করে প্রশাসন।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে থেকে হালদা নদীর চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা অংশের আজিমের ঘাট থেকে মদুনাঘাট পর্যন্ত ২ ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চলিয়ে এ পদক্ষেপ নেয় রাউজান উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জোনায়েদ কবির সোহাগ বলেন, হালদা নদীর জীব-বৈচিত্র্য, মা-মাছ রক্ষায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই ধরনের অভিযান অ’ব্যাহত থাকবে।

অপরদিকে, একই স্থানে নৌ-পুলিশের অভিযানে ২ জনকে গ্রেপ্তার ও ১৩ লাখ টাকা মূল্যের ৯২ হাজার বর্গমিটারের ৩৬টি অ’বৈধ জাল জ’ব্দ করা হয়।

গত সোমবার রাতে গ্রেপ্তারকৃত ২ জনসহ ৯ জনের বিরু’দ্ধে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইনে রাউজান থানায় মামলা দায়ের করেছেন নৌ-পুলিশ সদর ঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নিউটন চৌধুরী। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উরকিরচর ইউনিয়নের কচুখাইন গ্রামের সাধন দাশের ছেলে জিনেস চন্দ্র দাশ ও মোকামী পাড়া গ্রামের শফিল আলমের ছেলে মো. তৈয়ব।

ডিম পাড়ার মৌসুমে কোনো ধরনের মাছ ধরা এবং ইঞ্জিনচালিত নৌকা নদীতে চালানো সাজাযোগ্য অপরাধ। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তাদের সাজা ও গ্রেপ্তার করেছে উপজেলা প্রশাসন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক শ’ মৎস্যজীবী নৌকা নিয়ে মা মাছের ডিম সংগ্রহের জন্য নদীতে অবস্থান করছেন। প্রস্তুত রাখা হয়েছে মাটির কুয়া ও সরকারি হ্যাচারি। যে কোনো সময় মা মাছ ডিম ছাড়তে পারে। এমন পরিবেশে বালুবাহী যান্ত্রিক নৌযান ও জাল পাতার কারণে মা মাছ ও ডলফিন মা’রা পড়ছে।

উল্লেখ্য, হালদা নদীতে ২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরিচালিত জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপি’র সহযোগিতায় গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি ও বনবিভাগের একটি জরিপ পরিচালিত হয়। এই জরিপে হালদায় মাত্র ৪৫টি ডলফিনের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল।

জরিপে বলা হয়েছে, জরুরি উদ্যোগ নিলে এ বিদ্যমান সংখ্যা থেকে ডলফিনকে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ করা যাবে। অথচ, গত আড়াই বছরে শুধু এই হালদা নদীতেই প্রাণ হারিয়েছে ২৪টি ডলফিন।

অথচ সারা বিশ্বের বিভিন্ন নদীতে এই গাঙ্গেয় বা গাঙ্গেস ডলফিন আছে মাত্র ১১শ থেকে ১২শ। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) তাই এই ডলফিনকে অতি বিপ’ন্ন প্রজাতি বলে চিহ্নিত করেছে।

গতকাল মঙ্গলবার হালদা নদী থেকে আর একটি ডলফিনও কেউ যেন শি’কার করতে না পারে সে বিষয়ে বিনা ব্যর্থতায় ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের ভার্চুয়াল কোর্ট এমন আদেশ দেন।

এ বিষয়ে বিবা’দীরা কী ব্যবস্থা নিয়েছেন তা আদেশ প্রাপ্তির ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ই-মেইলযোগে উচ্চ আদালতকে জানাতে হবে। ভিডিও কনফারেন্সে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালতের সঙ্গে কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস ও অমিত তালুকদার। বাদী পক্ষের রিট আবেদনকারী ব্যারিস্টার আব্দুল কাইয়ুম লিটন নিজেও যুক্ত ছিলেন।

শেয়ার করুন !
  • 32
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!