বাংলাদেশ নৌবাহিনী তৈরী করছে টার্গেট ও সার্ভেইল্যান্স ড্রোন

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

একটি শক্তিশালী ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী গঠনে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কার্যক্রম। সারা বছর জুড়ে চলে নৌবাহিনীর বিভিন্ন জাহাজ ও যু’দ্ধাস্ত্র ক্রয় ও দেশে যু’দ্ধ জাহাজ তৈরীর কাজ। বিশ্বজুড়ে নৌবাহিনীর বিভিন্ন মিশনে ড্রোনের ব্যবহার প্রচলিত। যার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে ড্রোন ব্যবহারের প্রচলন শুরু হতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের সকল ফোর্সের জন্য “ফোর্সেস গোল-২০৩০” প্রণয়ন করা হয় ২০১১ সালে। যা প্রতি ৫ বছর অন্তর অন্তর রিভাইজড হবার মাধ্যমে ২০২০ সালে ফোর্সেস গোল-২০৩০ এর ৩য় ধাপ অতিক্রম করছে এবং এর সময়সীমা ২০২০-২০২৫ পর্যন্ত।

এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী তার নিজস্ব Research For Development Wing এর আওতায় বিভিন্ন মডেলের আন্ডারওয়াটার এবং আকাশ সার্ভেইল্যান্সে সক্ষম UAV এর রিসার্চ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। চীন নিজেও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অন্যতম বৃহত্তম অংশীদার এবং একইসাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বিভিন্ন দেশ বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাথে একই সাথে কাজ করছে।

বাস্তবিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী বেশ আগে থেকেই এন্টি এয়ার মিসাইল ও এন্টি এয়ারক্রাফট গান- এর টার্গেট প্র্যাক্টিসের জন্য ড্রোন ব্যবহার করে আসছে। বছরখানেক আগেও এইসব টার্গেট ড্রোন আসত চীন থেকে। তবে সুসংবাদ হল ভেনিসে অনুষ্ঠিত 12th Sea Power Symposium এ একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে COMKHUL (নৌবাহিনীর খুলনা জোনের প্রধান) জানান, Centre of Naval Research and Development (CNRD) কর্তৃক এসব টার্গেট ড্রোন এখন বাংলাদেশেই তৈরী করা হচ্ছে।

আগে প্রতিটি চীনা টার্গেট ড্রোন ক্রয়ে ক্ষেত্র বিশেষে ১ লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লাগতো। সেখানে বাংলাদেশ এসব ড্রোন বানানোর ফলে সেই খরচ ৩০-৭০ হাজার টাকার মধ্যে নেমে এসেছে। ফলে অনেক বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হয়েছে এবং অনুশীলনের মাত্রাও বেড়েছে। বিশ্বের অন্যান্য টার্গেট ড্রোনের মত নৌবাহিনীর তৈরী ড্রোনগুলোতেও RCS ম্যানেজমেন্ট, রেডিও সিগন্যাল এবং স্ট্যান্ডার্ড রেঞ্জের ব্যবস্থা রয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ নৌবাহিনী একই টেকনোলজি কাজে লাগিয়ে হ্যান্ড লঞ্চড সার্ভেইল্যান্স ড্রোন তৈরী করেছে যা ইতিমধ্যে স্বল্প পরিসরে ব্যবহার শুরু হয়েছে। নৌবাহিনী কোস্টাল এরিয়ায় নজরদারি করার জন্য বিশেষ এই সার্ভেইল্যান্স ড্রোন তৈরীর কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। নৌবাহিনীর Research & Development Wing বর্তমানে সার্ভেইল্যান্স ড্রোনের জন্য বেশ কিছু প্রোটোটাইপ নির্মাণ করেছে। এ সকল প্রোটোটাইপ থেকে ভবিষ্যৎ টার্গেট ড্রোনগুলোর আরো ডেভেলপমেন্ট করা হবে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনী ২০১৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিছু আন্ডারওয়াটার ড্রোন সংগ্রহ করে। যা মুলত যৌথ মহড়ায় ব্যবহৃত হতো। কনভেনশনাল আন্ডারওয়াটার ড্রোনগুলোর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো- এগুলোর রেঞ্জ কম এবং তাতে ওয়্যার (তার) প্রয়োজন। তবে অন্তত সার্ভেইল্যান্স ড্রোন নির্মাণে নৌবাহিনী খুব শীঘ্রই সাফল্য পাবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। এসব ড্রোনের রেঞ্জ, ফ্লাইট আওয়ার ইত্যাদি নিয়ে এখনো নৌবাহিনীর Research for Development Centre কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই ড্রোনগুলোর Artificial Intelligence, টার্গেট শনাক্তকরণ, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টসহ সব কিছুই সম্পন্ন করছে নৌবাহিনী।

উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি, SWADS এর বিভিন্ন অপারেশন এবং প্রয়োজনে ক্রস কান্ট্রি মিশনেও নিজেদের তৈরী এসব ড্রোন ব্যবহারের মধ্য দিয়ে নিজেদেরকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

© ডিফেন্স রিসার্চ ফোরাম

শেয়ার করুন !
  • 200
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!