মার্কেটে মহিলাদের উপচে পড়া ভিড়, মানছে না কেউ স্বাস্থ্যবিধি!

0

সময় এখন ডেস্ক:

সারি সারি দোকান আর মার্কেটের ভিতর গলিতে মাল রাখার কারণে হাঁটার সুযোগ নেই। ঠাসাঠাসি অবস্থার মধ্যেই চলছে ঈদের কেনাবেচা। ঢাকাসহ দেশের কিছু জায়গায় মার্কেটের দৃশ্য এমন। করোনার তোয়াক্কা না করে শিশুদের নিয়ে কেনাকাটা করছেন মহিলারা, পুরুষও আছেন কিছু। স্বাস্থ্যবিধিও মানছেন না কেউ। এজন্য বিভিন্ন জায়গায় কয়েকজনকে জরি’মানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদিকে স্বাস্থ্যঝুঁ’কি বিবেচনায় চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেট নগরীর সব মার্কেট-শপিংমল বন্ধ রাখা হয়েছে।

গতকাল সরেজমিনে রাজধানীর শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী, টিকাটুলী, গুলিস্তান, এলিফ্যান্ট রোড, মিরপুর রোডের ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, রামপুরা, বাড্ডা, প্রগতি সরণির মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার অনুমতি থাকলেও বেশিরভাগই খোলা ছিল সন্ধ্যা পর্যন্ত। এসব এলাকার বেশিরভাগ দোকানেই স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি।

রাজধানীর প্রগতি সরণির সুবাস্তু শপিংমলে প্রবেশে সকাল থেকেই দেখা যায় দীর্ঘ লাইন। মানা হয়নি সামাজিক দূরত্ব ও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি। গুলশান ১ নম্বরের ডিএনসিসি মার্কেটে উ’পেক্ষিত সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার নির্দেশনা। অ’সচেতন ক্রেতারা ঝুঁ’কি নিয়েই কেনাকাটা করছেন। বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাথেও বসেছে অ’স্থায়ী দোকান। সেখানের চিত্র আরও খারাপ। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা তো দূরের কথা, কারও কাছে নেই কোনো সুরক্ষার ব্যবস্থা।

রাজধানী সুপার মার্কেটের ফটকে দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তাকর্মী বলেন, মার্কেটে প্রবেশের আগে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, জীবাণুনা’শক স্প্রে করা আর তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সবাইকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্যও অনুরোধ করা হচ্ছে। গরম আর মানুষের ভিড়ে সব উল্টাপাল্টা হয়ে যাচ্ছে। কোনোকিছুই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

এলিন ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী ডি এম শাহিন বলেন, ক্রেতাদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হচ্ছে। কেউ মানেন আর, কেউ মানছেন না। অনেক সময় পরিবারের অনেক সদস্য একসঙ্গে দোকানে ঢুকছেন। তখন তো আমাদের কিছু বলার থাকে না। জুরাইন থেকে ২ সন্তানকে নিয়ে কেনাকাটা করতে আসেন রেশমা আক্তার। বড় ছেলে মায়ের হাত ধরে হাঁটছে আর ছোট ছেলে কোলে। নিজে ও বড় ছেলের মাস্ক পরা। ছোট ছেলের সুরক্ষার ব্যবস্থা করেননি। জানতে চাইলে রেশমা আক্তার বলেন, প্রতিবেশীরা কেনাকাটা করেছে। তাই দেখে বড় ছেলে কান্নাকাটি করছে। এজন্য কেনাকাটা করতে এসেছি।

গত ৪ মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আদেশে দোকানপাট খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, হাটবাজার, ব্যবসা কেন্দ্র ও দোকানপাট সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। প্রতিটি মার্কেটের প্রবেশের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানতে হবে। তবে সরকারের এ সিদ্ধান্তের পর জনস্বাস্থ্যের ঝুঁ’কি বিবেচনা করে সবার আগে শপিংমল না খোলার ঘোষণা দেয় বসুন্ধরা সিটি শপিংমল কর্তৃপক্ষ।

সরকারের আদেশ জারির পরদিন ৫ মে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপরিবার বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ‘বসুন্ধরা শপিং মল’ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর যমুনা ফিউচার পার্ক, পিংক সিটি, নিউমার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনী চক, চন্দ্রিমাসহ সারা দেশের বড় বড় শপিং মল ও মার্কেট না খোলার ঘোষণা আসে।

চট্টগ্রাম: করোনা সংক্র’মণের কারণে নগরীর মার্কেটগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ফুটপাথ ও জেলার পটিয়া, হাটহাজারী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও ফটিকছড়িতে মার্কেট খোলা রয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ মানছে না কেউ। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলছেন, সামাজিক দূরত্ব যারা মানছেন না, তাদের জরি’মানা করা হচ্ছে এবং নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।

বরিশাল: বরিশালের মার্কেট ও শপিংমলগুলো লোকে লোকারণ্য। শাড়ি, তৈরি পোশাক, পাদুকা ও প্রসাধনীর দোকানে গতকাল সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ক্রেতার উপস্থিতি দেখা গেছে। রাস্তায়ও গা ঘেঁষে চলাফেরা করছেন মানুষ। আবার কেউ ফেসমাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস ও হেড ক্যাপ পরলেও সামাজিক দূরত্বের নির্দেশ মানেননি কেউ। এদিকে নারী ও শিশুসহ পরিবারের একাধিক সদস্য নিয়ে কেনাকাটা করতে আসায় ১১টি পরিবার এবং স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের ব্যবস্থা না রাখায় ৯টি দোকান থেকে ৪৮ হাজার ৯০০ টাকা জরি’মানা আদায় করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদিকে বিকাল ৪টার মধ্যে মার্কেট ও দোকান বন্ধ করার নির্দেশনাও মানেনি বেশিরভাগ দোকানদার। ইফতারের পরেও অনেক নারী ক্রেতাকে দেখা গেছে মার্কেটের দিকে ছুটতে।

রংপুর: রংপুরের মার্কেটগুলোতে মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্বসহ সরকারি নির্দেশনা। করোনার হটস্পট হয়ে ওঠা রংপুরের ক্রেতা বিক্রেতাদের কারও হুঁশ ফিরছে না। ঈদের কেনাকাটা নিয়ে রীতিমত ঠেলাঠেলির প্রতিযোগিতা চলছে। এই অবস্থায় দোকানপাট বন্ধ ঘোষণা করতে জেলা প্রশাসকের প্রতি দাবি জানিয়েছেন রংপুর করোনা প্রতিরোধ নাগরিক কমিটি। তবে, জেলা প্রশাসক বলেছেন জনগণের সচেতনতার বিকল্প নেই।

সিলেট: অবশেষে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সিলেট নগরীর বন্দরবাজার হাসান মার্কেট ও লালদিঘী হকার্স মার্কেট। সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর আহ্বানে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট খোলেননি। নগরীর সব মার্কেট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে জনমনে।

রাজশাহী: ঈদ পর্যন্ত রাজশাহী মহানগরীর সব মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার বিকালে নগর ভবনে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সাধারণ জনগণ এই সিদ্ধান্তকে খুশি মনে মেনে নিয়েছে।

বাগেরহাট: জেলা শহরসহ উপজেলাগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ করোনা স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই দোকানপাটে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। মহিলা ক্রেতাদের সংখ্যা এখানেও দেখা গেছে বেশি। বাগেরহাটে বাড়ছে করোনা ভাইরাস সংক্র’মণের ঝুঁ’কি। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ জানান, সরকারের নির্দেশনা কেউ অ’মান্য করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দিনাজপুর: দিনাজপুরসহ বিভিন্ন উপজেলার প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগত ক্রেতারা সামাজিক দূরত্ব উপেক্ষা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপকরণ ছাড়াই দলবেঁধে কেনাকাটা করছেন। কয়েকজনকে মাস্ক পরেননি কেন জিজ্ঞেস করলে কেউ জবাব দেন বাসায় রেখে এসেছি ভুলে। কেউ কেউ অ’শোভন আচরণ করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: জেলার বিভিন্ন বিপণিবিতান ও মার্কেটগুলোতে ঠাসাঠাসি করেই কেনাকাটা চলছে। ব্যবসায়ীদের সামাজিক দূরত্বের ব্যাপারে সতর্ক করা হলেও তারাও এ শর্ত পালন করছেন না। ফলে বাড়ছে সংক্র’মণের ঝুঁ’কি।

শেয়ার করুন !
  • 102
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply