ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সারাবিশ্বে রোল মডেল বাংলাদেশ

0

সময় এখন ডেস্ক:

করোনা-ক্রাইসিস বাংলাদেশকে আরও বিপ’র্যস্ত করে তুলতে আসছে সাইক্লোন ‘আম্ফান’। অতি প্রবল এই ঘূর্ণিঝড়টি ক্রমশ শক্তি সঞ্চার করে সিডরের মতো ধ্বং’সাত্মক হয়ে উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। ইতিমধ্যে ৭ নং বিপদ সংকেত জারি হয়েছে। তবে এই ঘোর দুর্যোগকালেও বাংলাদেশকে অভয় দিচ্ছে যে বিষয়টি তা হলো, এদেশের দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা।

বিশ্বের দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা জানেন, বাংলাদেশ হলো ঘূর্ণিঝড়-বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় রোল মডেল রাষ্ট্র। এদেশ যেভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে সেটা সারা বিশ্বের জন্য একটা অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত। সর্বশেষ এক দশকে বাংলাদেশে যে ঘূর্ণিঝড়গুলো আঘা’ত হেনেছে সেগুলোর ক্ষয়ক্ষ’তি ও প্রাণহা’নির পরিমাণই এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ। তাছাড়া আন্তর্জাতিক দুর্যোগ বিষয়ক সকল সেমিনার ও সভায় বাংলাদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দেয়ার জন্য কর্মকর্তারা আমন্ত্রিত হন প্রায়ই।

গত বছর আঘা’ত হানা দুটি ঘূর্ণিঝড়- ফণী এবং বুলবুলের দিকে যদি আমরা তাকাই, তাহলে দেখব, শুধুমাত্র দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং পূর্বপ্রস্তুতির কারণে বাংলাদেশ তেমন একটা ক্ষ’তিগ্রস্ত হয়নি।

২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল ভারতীয় মহাসাগরে সুমাত্রার পশ্চিমে সৃষ্টি হয় ফণী। ৩০ এপ্রিল তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয় এটি। বাংলাদেশ এবং ভারত দুই দেশেই আঘা’ত হানে ফণী। এই সাইক্লোনের তা’ণ্ডবে ভরতে অন্তত ৬০ জনের প্রাণ’হানি ঘটে। অথচ বাংলাদেশে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৪।

এরপর যদি বুলবুলের কথা ধরি সেখানেও দেখা যাবে, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশে আঘা’ত হেনেছিল এই ঝড়। কিন্তু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কারণে বাংলাদেশে পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় ক্ষয়ক্ষ’তির পরিমাণ ছিল কম।

উন্নত দেশগুলোতে দেখা যায়, টর্নেডো বা ঘূর্ণিঝড় হলে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। জরুরি অবস্থা জারি করা হয়, সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া হয়। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলেও এমনটাই দেখা যায়। কিন্তু তারপরও তাদের প্রস্তুতির মধ্যে সমন্বয়ের কিছুটা অভাব থেকে যায়। ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষ’তির ঘটনা ঘটে। বিদ্যুৎবিচ্ছি’ন্ন হয়ে পড়ে বিশাল একটি এলাকা। যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়ে। জান-মালের ক্ষ’তির পরিমাণ বেড়ে যায় অনেক। এই যেমন, যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতেই গত মার্চে যে টর্নেডো আঘা’ত হানলো, তাতে ৩ দিন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছি’ন্ন ছিল। অন্তত ২৫ জন মানুষের প্রাণহা’নি ঘটেছিল।

জাপানে প্রায় প্রতিবছর টাইফুনের আঘা’তে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। বিভিন্ন দেশেই এরকম হয়। কারণ ব্যাপক প্রস্তুতি নিলেও তাদের সমন্বয়ে কিছুটা ত্রু’টি থেকে যায়। কিন্তু বাংলাদেশ সমন্বিতভাবে দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি নেয়।

বাংলাদেশ যে দুর্যোগ মোকাবেলায় রোল মডেল, তার আরেকটি কারণ হলো, এদেশের মানুষের সহজাত দুর্যোগ মোকাবেলার সাহস, কৌশল এবং মানুষের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি। আরেকটি হলো, সরকারের ব্যবস্থাপনা।

বাংলাদেশ সবসময় দুর্যোগের মধ্যেই বসবাস করে। এটা দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল। কিছুদিন পরপরই এদেশে বন্যা ঘূর্ণিঝড় তা’ন্ডব চালায়। এ কারণে এ এদেশের মানুষ ঘাবড়ে না গিয়ে সহজেই দুর্যোগ মোকাবেলা করতে সক্ষম। সরকারও অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পুরো বিষয়টি সমন্বয় করে। অন্য কোনো দেশ হলে দেখা যেত, সুপার সাইক্লোনের আভাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জরুরি অবস্থা জারি করা হতো। কিন্তু বাংলাদেশে সেটা করা হয়নি। বরং খুব সুশৃংখলভাবে জনগণকে নির্দেশনা দেওয়া হয়, যে কী করতে হবে।

গত বছর ফণীর সময় আমরা দেখেছি, ভারতে ওডিশায় বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বং’স হলো। ব্যাপক প্রাণহা’নিও ঘটল। যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়লো। কিন্তু বাংলাদেশে ক্ষয়ক্ষ’তি হলেও সেটা এত ভ’য়াবহ পর্যায়ে যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও দিক নির্দেশনার অভাবেই সেখানে এতো ক্ষয়ক্ষ’তি ঘটে। সেই তুলনায় বাংলাদেশ ফণী আসার আগে থেকেই ব্যপক প্রস্তুতি নেয়। জনগণের অংশগ্রহণ এবং প্রশাসনের ব্যবস্থাপনা- এ দুয়ের মধ্যে সুন্দর সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ফণীকে রুখে দিয়েছিল। এবার আম্ফানকেও একইভাবে মোকাবেলা করে বাংলাদেশ নতুন করে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দেবে, এমনটাই বিশ্বাস করেন দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা।

শেয়ার করুন !
  • 112
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!