সাবধান! আপনার পাশের লোকটিই করোনা পজেটিভ!

0

বিশেষ প্রতিবদেন:

বাংলাদেশে এখন প্রতি ১০০ জন মানুষের মধ্যে ১৬ জন করোনা পজেটিভ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্যই পাওয়া গেছে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষকরা বলেন, দিনে মোটামুটি ১০ হাজারও যদি দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে পরীক্ষা করা যায়, তাহলে যে ফলাফলটা হয়, সেটা একটি প্রক্ষেপণযোগ্য ফলাফল।

সেই বিবেচনা থেকে বাংলাদেশে গত ২৪ ঘন্টায় প্রায় ১০ হাজারের কাছাকাছি করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা হয়েছে। ৯ হাজার ৭৮৮ জনের পরীক্ষায় ১ হাজার ৬০২ জন কোভিড-১৯ পজেটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। এই হার ১৬.২০ ভাগ। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অর্থাৎ ১০০ জনের মধ্যে ১৬ জনের বেশী কোভিড পজেটিভ।

বাংলাদেশে যখন করোনা শুরু হয়, তখন থেকে আজ পর্যন্ত ১ লাখ ৮৫ হাজার ১৯৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৩ হাজার ৮৭০ জন কোভিড-১৯ পজেটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মা’রা গেছেন ৩৪৯ জন। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, ১২.৮০ হারে প্রায় ১৩ শতাংশ হারে করোনা রোগী পাওয়া যাচ্ছে।

এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, বাংলাদেশে করোনার পিক পর্যায় শুরু হয়েছে এবং বাংলাদেশে সামনে দিনগুলোতে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়বে। যেহেতু বাংলাদেশে সীমিত পরীক্ষা হচ্ছে এবং প্রচুর উপসর্গহীন মানুষ আছে, তাই এখন আমাদেরকেই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

একজন চিকিৎসক বলেছেন, ১০০ জনের মধ্যে যদি ১৬ শতাংশ হারে রোগী থাকে, তার মানে আপনার চারপাশেই রোগী আছে। এজন্য আপনাকেই সতর্ক হতে হবে। আপনাকেই ঘরে থাকতে হবে। কারণ আপনি যখনই বের হবেন, তখনি ১৬ শতাংশের কারও সংস্পর্শে আপনি আসতে পারেন। আপনি হয়ত জানেন না, কিন্তু অজান্তে তার সংস্পর্শে এসে জীবাণু নিয়ে ফিরেছেন ঘরে। তাই এখন ঘরে থাকার কোনও বিকল্প নেই।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে মানুষের অ’বাধ চলাফেরা শুরু হয়েছে। কেউ বিধি নিষে’ধ মানছে না এবং সামাজিক দূরত্ব বলে এখন কিছু নেই। রাস্তাঘাটে স্বাভাবিক যানজট, দোকানপাটে ভিড়, হাটে-বাজারে ভিড়, ব্যাংকে উপচে পড়ছে মানুষ। এই পরিস্থিতিতে কে করোনা আক্রা’ন্ত, কে নয় তা বোঝা মুশকিল। সবচেয়ে বড় কথা, বাংলাদেশের পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে নানা রকমের প্রতিকূলতা রয়েছে, প্রতিব’ন্ধকতা রয়েছে এবং সামাজিক লোকলজ্জার ভ’য় রয়েছে। এ কারণে মানুষ তার উপসর্গ গোপন করছে, অনেকেই মৃদু উপসর্গ বুঝতে পারছেন না। কাজেই আপনি যখন স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করবেন, হাট-বাজারে, মার্কেটে যাবেন, তখন আপনার পাশেই হয়তো কোনো করোনা রোগী, অজান্তেই আপনি আক্রা’ন্ত হবেন। কাজেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে সাবধানতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা নিজেরা যদি সচেতন না হই, কোনো কিছুই কাজ করবে না। চিকিৎসা পাওয়াও কঠিন হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে এখন করোনার সর্বোচ্চ সীমা শুরু হয়েছে। এই সর্বোচ্চ সীমা পুরো মাস জুড়েই থাকবে। এই সময়টি সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই সময়ে সীমিত সংখ্যক পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে যেমন উপচে পড়া ভিড় থাকবে, করোনা সং’ক্রমনের ঝুঁ’কি বাড়বে। তেমনি অনেক মানুষ বুঝবেই না যে তার করোনা হয়েছে এবং সে নীরবে ছড়াবে।

চিকিৎসকরা বলছেন, যারা উপসর্গহীন করোনা রোগী, তারাই হলেন সবচেয়ে ভ’য়ংকর এবং তাদের কারণেই পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। এজন্যই তাদের পরামর্শ, সামাজিক সং’ক্রমনটা বন্ধ করতে না পারলে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক সং’ক্রমণ বন্ধের জন্য আমাদেরকেই সচেতন হতে হবে, আমাদেরকে ঘরে থাকতে হবে। আমরা যদি মনে করি, বেঁচে থাকাটা জরুরী, সুস্থ থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ- নিজের জন্য, প্রিয় সন্তানের জন্য, বাবা-মা, স্বজননদের জন্য, তাহলে সাবধান! আমরা যেন ঘরেই থাকি। কারণ বের হলেই এখন করোনা রোগীর সাথে সাক্ষাৎ অনিবার্য। দেশের চিকিৎসাখাত পুরোপুরি ভেঙে পড়ার পর হা-হুতাশ করেও যখন চিকিৎসা মিলবে না, তখন সতর্ক হলে কোনো ফল মিলবে না।

শেয়ার করুন !
  • 14
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!