দেশে করোনা-ক্রাইসিসের মধ্যে আরও ভ’য়ঙ্কর ৫টি তথ্য

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি ক্রমশ আত’ঙ্কজনক হয়ে উঠছে। নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর সাথে সাথে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রা’ন্তের সংখ্যা এবং প্রতিদিন নতুন করে ১০০ জনের মধ্যে ১৬ জন আক্রা’ন্ত হচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে যে সমস্ত তথ্যগুলো দিচ্ছে, সেগুলো বিশ্লেষণ করলে বেশকিছু তথ্য পাওয়া যাচ্ছে যা ভ’য়ঙ্কর। এগুলো স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে, সামনে আমাদের ভ’য়াবহ দিন আসছে এবং করোনার ভ’য়াবহ তা’ণ্ডব আমাদের সবাইকে গ্রাস করে ফেলতে পারে।

যে তথ্যগুলো নিয়ে চিকিৎসকরা এবং বিশেষজ্ঞরা আত’ঙ্কিত হচ্ছেন, তার মধ্যে রয়েছে-

১. ঘরে মৃ’ত্যু শুরু

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনলাইন ব্রিফিং বলছে, করোনায় গত ২৪ ঘন্টায় মা’রা গেছে ২১ জন। এর মধ্যে বাড়িতে থেকে মৃ’ত্যু হয়েছে ২ জনের। সাধারণত মৃদু সং’ক্রমণ হলে হাসপাতালে যেতে মানুষ উৎসাহী হচ্ছে না। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা সন্তোষজনক মনে করছে না অনেকেই। ভো’গান্তি এবং হয়রা’নির শি’কার হচ্ছে। তাই মৃদু উপসর্গ আছে, শ্বাসক’ষ্ট বা অন্য জটিলতা নাই, এমন রোগীরা বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। কিন্তু এমন ২ জন ঘরে মৃ’ত্যুবরণ করেছেন। এ থেকে বোঝা গেল, মৃদু উপসর্গ থেকে পরিস্থিতি খারাপ হতে খুব বেশী সময় লাগে না। কারণ মৃদু উপসর্গের রোগীরা ঘরে থাকার মতো অবস্থা ছিল বলেই হাসপাতালে যাননি। তবুও মৃ’ত্যু হয়েছে। অর্থাৎ মৃদু উপসর্গ থাকলেও বলা যায় না, তিনি ভালো হয়ে যাবেন। এ থেকেও খারাপ পরিস্থিতি হতে পারে দ্রুততম সময়ে। এটিই প্রমাণিত হয়েছে। এমনটা ইউরোপ বা আমেরিকাতেও দেখা গেছে। কাজেই এখন এটি অত্যন্ত আত’ঙ্কজনক। ঘরে চিকিৎসার উপর নির্ভরতা এরপরে কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২. সুস্থতার হার কমছে

গত ২৪ ঘন্টায় সরকার সুস্থতার নতুন সংজ্ঞা দিয়েছে- নমুনা পরীক্ষা ছাড়া ৩ দিন জ্বর বা উপসর্গ নেই; তাকে সুস্থ বলে সত্যায়িত করা হচ্ছে। যদিও সুস্থতার এই সংজ্ঞার সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞার মিল নেই। তারপরও গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছে ২৫৬ জন। এই সময় আক্রা’ন্ত ছিল ২০ হাজার ৯৯৫ জন। অর্থাৎ মাত্র ১.২১ ভাগ হারে মানুষ সুস্থ হচ্ছে। প্রতিদিন যদি আক্রা’ন্ত এভাবে বাড়ে এবং সুস্থতার হার কমতে থাকে, তাহলে হাসপাতালগুলোতে বিপুল রোগীর চাপ বাড়বে। আর এই চাপ নেয়ার মতো অবস্থা হাসপাতালগুলোতে নেই। ইতিমধ্যেই মোট রোগী দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৫৬৬ জন। ইতিমধ্যে হাসপাতালগুলো রোগীতে পূর্ণ হয়ে গেছে। এভাবে রোগী বাড়তে থাকলে আমাদের করোনা চিকিৎসায় হাসপাতালগুলো, সেই হাসপাতাল ব্যবস্থা কতটা সাপোর্ট দিতে পারবে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের শ’ঙ্কা রয়েছে।

৩. আক্রা’ন্তের হার বাড়ছে

করোনায় প্রতিদিন আক্রা’ন্ত বাড়ছে এবং আমাদের মোট নমুনা পরীক্ষায় ১০০ জনের মধ্যে গড়ে ১৬ জন পজেটিভ আসছে। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে এটা ১৫ শতাংশ বা ১৫ শতাংশের বেশি করে আসছে। সবথেকে বড় কথা হচ্ছে, ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে আক্রা’ন্তের সংখ্যা সমানতালে বাড়ছে। এর ফলে সারাদেশে সমমানের চিকিৎসা দেয়া এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়ার গুরুত্ব বেড়েছে। সেক্ষেত্রে আমাদের যথেষ্ট সীমাব’দ্ধতা রয়েছে।

৪. পরীক্ষায় বিলম্ব হচ্ছে

বাংলাদেশে করোনায় শুরু থেকেই ধীর গতিতে পরীক্ষা করা হচ্ছে। যখন দিনে ১ হাজার পরীক্ষার দরকার ছিল তখন আমরা পরীক্ষা করেছি ২০০ ৩০০ করে। যখন দিনে ৫ হাজার দরকার ছিল, তখন আমরা টেনেটুনে ১ হাজার পরীক্ষা করেছি। আর এখন কমপক্ষে ১০ হাজার পরীক্ষা দরকার, সেটাও আমরা করতে পারছি না। টেস্টের রেজাল্ট জানাতেও ৪/৫ দিন সময় লাগছে। ফলে সং’ক্রমিত রোগীরা আরও অনেকের মাঝে ভাইরাস ছড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি খুব দ্রুত ভ’য়াবহ আকার ধারণ করছে।

৫. সং’ক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে হটস্পটগুলোতে

ঢাকাকে বলা হচ্ছে করোনার সবচেয়ে বড় সং’ক্রমিত এলাকা। এখানে ১০টি হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। দেখা যাচ্ছে কয়েকটি হটস্পটে দ্রুত সং’ক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রা’ন্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এখনই যদি সামাজিক দূরত্ব বা লকডাউন কঠোরভাবে কার্যকর করা না যায় এই সং’ক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়বে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মুগদায় ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ছিল মাত্র ১ জন রোগী। সেখানে এখন রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৯ জনে। লালবাগে কয়েক সপ্তাহ আগেও রোগীর সংখ্যা ছিল ১ জন, এখন তা ১১৭ জন। বেশি সং’ক্রমিত এলাকাগুলোতে বিধিনিষে’ধ আরোপ এবং লকডাউন না করায় হটস্পটগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং সেখান থেকে অন্যত্র রোগ ছড়িয়ে যাচ্ছে। এটা ঢাকা শহরে একটি ভ’য়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি এভাবে এগোলে ঢাকা শহরে হাঁটাচলা দু’ষ্কর হয়ে যাবে। আর এই তথ্যগুলোই বলে দিচ্ছে যে আমাদের করোনা পরিস্থিতি কতটা অব’নতিশীল এবং সামনে আরো খারাপ সময় আসছে।

শেয়ার করুন !
  • 143
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!