করোনা রোগী বিলিয়েছেন মিলাদের খাবার, দেড়শ পরিবার লকডাউন!

0

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:

কোভিড-১৯ আক্রা’ন্ত এক ব্যক্তি তার মৃ’ত ভাইয়ের মিলাদ অনুষ্ঠানের খাবার বিতরণের পর গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ১৫০ পরিবারকে লকডাউন করেছে উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাব্বির আহমেদের নির্দেশে সোমবার ওড়াকান্দি ইউনিয়নের খাগবাড়িয়া গ্রামের এসব পরিবারকে লকডাউন করা হয়।

রামদিয়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক খোন্দকার আমিরুল ইসলাম বলেন, খাগড়াবাড়িয়া গ্রামের এক ব্যক্তি গত শনিবার (১৬ মে) কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা পরীক্ষা করতে দেন। পরদিন তিনি প্রশাসনকে না জানিয়ে মৃ’ত ভাইয়ের মিলাদ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। পরে মিলাদের সাড়ে ৫শ প্যাকেট খাবার দেড়শ বাড়িতে গিয়ে নিজে বিতরণ করেন।

ওই রাতে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কাইয়ূম তালুকদার ওই ব্যক্তিকে তার নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে করোনা পজেটিভ এসেছে বলে জানান।

ইউএনও বলেন, করোনা ভাইরাসে আক্রা’ন্ত ব্যক্তির ভাই ঢাকায় মা’রা যান। তাকে খাগবাড়িয়া গ্রামের বাড়িতে এনে দাফন করা হয়। তিনি দেড়শ পরিবারের মাঝে সাড়ে ৫০০ খাবারের প্যাকেট বিতরণ করেন। তাই এলাকাবাসীর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আমরা দেড়শ পরিবারকে লকডাউন করেছি। পাশাপাশি এলাকার দুইটি মসজিদের মাইকে বিষয়টি ঘোষণা করেছি।

এছাড়া এলাকার যে সকল লোকজন নামাজ পড়তে মসজিদে যান তাদের আপাতত বাড়িতে নামাজ আদায় ও বাড়িতে অবস্থান করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

‘নো মাস্ক নো শপিং’

কুড়িগ্রামের মার্কেটগুলোতে স্বল্প পরিসরে দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি পাওয়ার পর থেকেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসন। মাইকিং, হ্যান্ডবিল বিতরণ, প্রধান সড়কে বাঁশ দিয়ে চলাচলে নিয়ন্ত্রণে এনে বাধা সৃষ্টি করাসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার সকাল থেকে ‘নো মাস্ক, নো শপিং’ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এনডিসি) হাসিবুল হাসান ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হল মূল বড় বড় মার্কেটগুলোর প্রবেশ মুখে ছোট ছোট বিলবোর্ড টানিয়ে দিয়ে করোনা সম্পর্কে সচেতনতামূলক বার্তাসমূহ ক্রেতাদের দৃষ্টিতে আনা। যাতে মানুষ মার্কেটগুলোতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করেন। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ে গ্লাভস ও মাস্ক ব্যবহার করে কেনাবেচা করবেন।

দোকান খোলা ও বন্ধের সময় জীবাণুমুক্ত করার পাশাপাশি ক্রেতাকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিস্কার করার পর দোকানে প্রবেশ করতে দেয়ার নির্দেশ। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট সময়ে সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন।

শেয়ার করুন !
  • 348
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply