২য় কিস্তির হাজার কোটি টাকা ৩১ মের মধ্যে দেবে গ্রামীণফোন

0

অর্থনীতি ডেস্ক:

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআিরসি) নিরীক্ষা দাবির সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্বিতীয় ও শেষ কিস্তির ১০০০ কোটি টাকা জমা দিতে যাচ্ছে গ্রামীণফোন।

৩১ মের মধ্যে এই টাকা বিটিআরসিতে জমা দেওয়া হবে বলে গত সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে দেশের শীর্ষ এই মোবাইল ফোন অপারেটর। এর আগে ২৩ ফেব্রুয়ারি বিটিআরসিতে ১০০০ কোটি টাকা জমা দিয়েছিল গ্রামীণফোন।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অপারেটরটি জানিয়েছে, গ্রামীণফোন বাংলাদেশের আইন ব্যবস্থা ও সুপ্রিমকোর্টের আদেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। একই সঙ্গে অপারেটরটি ভবিষ্যত ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া, গ্রাহক সেবার মান উন্নয়ন, ব্যবসায়িক পরিবেশে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় আদালতের সুরক্ষা প্রত্যাশা করে।

গ্রামীণফোন তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলতে চায়, বিটিআরসির অডিট আপ’ত্তি ও পাওনা দাবি একটি বিরো’ধপূর্ণ বিষয়। একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আদালতের বাইরে অথবা আদালতে গ্রামীণফোন এই বিরো’ধের নি’ষ্পত্তি করতে আগ্রহী।

বিটিআরসি বলে আসছে, গ্রামীণফোনের কাছে নিরীক্ষা আপত্তির ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকার পাশাপাশি রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে তাদের। গ্রামীণফোনের ওপর ১৯৯৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নিরীক্ষা করে এই পাওনা নির্ধারণ করা হয়। পাওনার মধ্যে রয়েছে রাজস্বের ভাগাভাগি, কর ও অন্যান্য খাত। তবে প্রথম থেকেই গ্রামীণফোন এই দাবি নিয়ে আপ’ত্তি জানিয়ে আসছিল।

এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের ৭ সদস্যের আপিল বিভাগ ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিটিআরসিকে ১ হাজার কোটি টাকা পরিশো’ধ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সে মোতাবেক রোববার গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে ৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বিটিআরসিতে গিয়ে ১ হাজার কোটি টাকার পে-অর্ডার কমিশনের চেয়ারম্যান জহুরুল হকের কাছে হস্তান্তর করে।

গ্রামীণফোনের কাছে নিরীক্ষা আপ’ত্তির ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে গত বছর দাবি করে বিটিআরসি। একপর্যায়ে বিটিআরসির দাবি করা টাকার অঙ্ক নিয়ে আপ’ত্তি তুলে নিম্ন আদালতে একটি টাইটেল স্যুট (স্বত্ত্বের মামলা) মামলা করে গ্রামীণফোন। ওই মামলাটি আদালত গ্রহণ করে। ওই টাইটেল স্যুটের অধীনেই গ্রামীণফোন বিটিআরসির পাওনা আদায়ের ওপর অ’স্থায়ী নিষে’ধাজ্ঞার আবেদন করে, যা গত ২৮ আগস্ট নিম্ন আদালত খারিজ করে দেন। নিম্ন আদালতের খারিজ আদেশের বিরু’দ্ধে পরে হাইকোর্টে আপিল করেন গ্রামীণফোন। সে আপিলটি শুনানির পর বিটিআরসির পাওনা আদায়ের ওপর ২ মাসের নিষে’ধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট।

তবে, হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরু’দ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করে বিটিআরসি। সে আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ২৪ নভেম্বর আপিল বিভাগ ৩ মাসের মধ্যে বিটিআরসিকে ২ হাজার কোটি টাকা দিতে গ্রামীণফোনের প্রতি নির্দেশ দেন। এছাড়া সর্বোচ্চ আদালত ওইদিন তার আদেশে বলেন, ২ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার আদেশটি বাস্তবায়ন না হলে গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির নিরীক্ষা দাবির ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকার বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া নিষে’ধাজ্ঞার আদেশটি বাতিল হয়ে যাবে।

এরপর বিটিআরসিকে ৩ মাসের মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকা দেয়ার আদেশটি পুনঃবিবেচনা চেয়ে ২৬ জানুয়ারি গ্রামীণফোন আপিল বিভাগে রিভিউ আবেদন করে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি সে রিভিউ আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিটিআরসিকে ১ হাজার কোটি টাকা দিতে গ্রামীণফোনের প্রতি নির্দেশ দেন এবং এ বিষয়ে আদেশের জন্য ২৪ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।

সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুল হকের কাছে ২৩ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার কোটি টাকার পে-অর্ডার তুলে দেন গ্রামীণফোনের হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স হোসেন সাদাত। এরপর সর্বোচ্চ আদালত পরবর্তী ৩ মাসের মধ্যে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিকে আরও ১ হাজার কোটি টাকা দিতে গ্রামীণফোনের প্রতি নির্দেশ দেন।

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!