‘আশ্রয়কেন্দ্রে গেলে খালি ফডু তুলে, আঙ্গরে কিচ্ছু দেয় না’

0

ফেনী প্রতিনিধি:

‘আশ্রয়কেন্দ্রে গেলে করোনার ডর, হিয়াল্লাই যাইন। মইল্লে বাইত মরুম। আশ্রয়কেন্দ্রে গেলে খালি ফডু তুলে, সরকাররে দেখায়, দেখাইলে বস্তায় বস্তায় চাইল, ডাইল, টিঁঁয়া হয়সা হায়। আঙ্গরে কিচ্ছু দেয় না। হিয়াল্লাই এই বছর যাই ন। এয়ার আগেও বহুতবার গেছি, কিচ্ছু হাই ন।’

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের নদী ভাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা মক্তার হোসেন আ’ক্ষেপ করে এসব কথা বলেন।

সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নে আজ বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ঝুঁ’কিতে থাকা মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার তাড়া নেই। প্রতিদিনের মতো চায়ের দোকান, গরু-মহিষ পালন, স্বাভাবিক কাজেই ব্যস্ত তারা। শুধুমাত্র এ ইউনিয়নের জেলে পাড়ার অবস্থাটা কিছুটা ভিন্ন। জেলেরা মাছ ধরতে নদীতে নামেনি। পাড়ার চায়ের দোকানে বসে অলস সময় পার করছেন।

কিরণ জলদাস নামে এক জেলে বলেন, আইজ্জা আমরা নদীত নামি ন। নদীত ৯ নম্বর হুঁশিয়ারি সিগনাল দিছে হিয়াল্লাই। আশ্রয় কেন্দ্রে কেন যাননি- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অ’নো যাইবার মতো কোনো আলামত দেখির না। ঝড় উইডলে যামু।

এদিকে উপজেলা প্রশাসনের দাবি, প্রায় দেড় হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়েছে। তবে বাস্তবে গিয়ে দেখা গেছে, আশ্রয়কেন্দ্রগুলো মানুষ শুন্য। চরচান্দিয়া ইউনিয়নের আজিজুল হক মায়মুনা উচ্চ বিদ্যালয় ও জেলে পাড়ার আশ্রয়কেন্দ্রেও দেখা গেছে নীরবতা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ বিকেল ৩টা পর্যন্ত উপজেলার সবকটি আশ্রয়কেন্দ্র মানুষশুন্য।

স্থানীয়রা জানান, চরচান্দিয়া ইউনিয়নে গতকাল রাতে ১৫-২০ জনকে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা তাদেরকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসলেও চিড়া, মুড়ি, গুড় খেতে দিয়েছেন। রান্না করা খাবার না দেওয়ায় সেহেরির সময় বাড়িতে চলে গেছে। ৪৩টি আশ্রয়কেন্দ্র ও ২৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ৬৮টি কেন্দ্রের সবগুলোই ফাঁকা। আশ্রয়কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য অ’নিয়মকেই দুষছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের এমন অভিযোগ সঠিক নয়- মন্তব্য করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অজিত দেব। তিনি জানান, মূলত তারা ঘর-বাড়ি ছেড়ে আসতে চাচ্ছে না বলে অজুহাত দেখাচ্ছে। জেলা প্রশাসন ৫০ মেট্রিকটন চাল ও নগদ সাড়ে ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১৫টি মেডিকেল টিম। মাঠে কাজ করছে দেড় হাজার স্বেচ্ছাসেবক।

শেয়ার করুন !
  • 133
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!