মুজিববর্ষ নিয়ে ব্যঙ্গ ও স্কুলের অর্থ লোপাট, প্রধান শিক্ষক বহি’ষ্কার

0

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় মুজিববর্ষ নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করাসহ নানা অভিযোগে উপজেলার বরুকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী আতাউরকে সাময়িক বহি’ষ্কার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় জানানো হয়, কাজী আতাউর বিগত দিনগুলোতে অ’দক্ষতা, দায়িত্বে অব’হেলা, মুজিববর্ষ নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য, অর্থ লোপাট, সরকারি উন্নয়ন নিয়ে অপ’প্রচার, ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে অ’সদাচরণ ও মিথ্যাচারসহ তার বিরু’দ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তারিকুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষকের অ’দক্ষতার কারণেই এ বছর বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়নি। অথচ আমাদের স্কোর সর্বোচ্চ ৯৮ ভাগ। বিদ্যালয়ের আনুষাঙ্গিক খরচের কোনো বিল ভাউচার নেই। তাকে বার বার তাগিদ দেওয়ার পরও তিনি কর্ণপাত করছেন না।

তবে সিনিয়র শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, সাময়িক বহি’ষ্কৃত প্রধান শিক্ষক কাজী আতাউরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সরকারি নির্দেশনাকে ক’টাক্ষ করে ফেসবুকে পোস্ট, ৪ শিক্ষক বরখা’স্ত

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় সরকারি নির্দেশনা ক’টাক্ষ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় সরকারি বিদ্যালয়ের ৪ জন শিক্ষককে সাময়িক বরখা’স্ত করা হয়েছে। গত রোববার শিক্ষকদের হাতে বরখা’স্তের এই চিঠি পৌঁছায়।

এর আগে, রাজশাহী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুস সালাম গত ১৩ মে ওই ৪ শিক্ষককে সাময়িক বরখা’স্ত করেন।

৪ শিক্ষক হলেন- উপজেলার বুজরুকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আয়নুল হক ও মোজাফফর হোসেন, কুলিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গোলাম মোস্তফা এবং বড়বিহানালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রেজাউল করিম সুইট।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের কারণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ। শিক্ষকদের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের প্রস্তুত করা সুবিধাভোগীদের তালিকা যাছাই-বাছাই করার নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এই দায়িত্ব পালন করতে বলা হয় ওই নির্দেশনায়।

সেই অনুযায়ী ১২ মে বাগমারার ইউএনও শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে তালিকাগুলো সংশ্লিষ্ট এলাকার শিক্ষকদের কাছে পৌঁছে দেন। তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যাছাই-বাছাই করে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

দায়িত্ব পাওয়ার পরের দিন ১৩ মে শিক্ষক আয়নুল হক এই সিদ্ধান্তকে ক’টাক্ষ করে নিজেদের ‘কলুর বলদ’ হিসেবে উল্লেখ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। তার বক্তব্য সমর্থন করেন এলাকার আরও ৩ জন শিক্ষক।

বিষয়টি ইউএনওর নজরে এলে তিনি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পান। ৪ শিক্ষকের বিরু’দ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন পাঠান তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরা খাতুন বলেন, সরকারি নির্দেশনা অ’মান্য করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তারা। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষু’ণ্ন হয়েছে। এজন্য তাদের সাময়িক বরখা’স্ত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ৪ শিক্ষক বরখা’স্তের আদেশের চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তারা বুঝতে না পেরে ফেসবুকে স্ট্যাটাস এবং লাইক দিয়েছেন।

শেয়ার করুন !
  • 83
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!