আম্পানের কবলে পড়ে আমের কেজি হলো ৫০ পয়সা!

0

রাজশাহী প্রতিনিধি:

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কবলে রাজশাহীর চারঘাট-বাঘায় আমসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষ’তি হয়েছে। ঝড়েপড়া সেই আম বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০ পয়সা কেজি দরে।

বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়ায় ঘূর্ণিঝড় আম্পান বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত চারঘাট-বাঘায় তা’ণ্ডব চালায় বিরতিহীনভাবে। এতে চরম ক্ষ’তির মুখে পড়েছেন আম সংশ্লিষ্টরা।

আম ব্যবসায়ী ও চাষীদের দাবি, আমের এ ক্ষ’তি কাটিয়ে ওঠা অ’সম্ভব। এ ছাড়া অনেকে আমের চালান ঘরে তোলা দু’ষ্কর হবে বলে মনে করছেন তারা।

এমনিতেই করোনায় আম নিয়ে চাষী ও ব্যবসায়ীদের দু’শ্চিন্তার শেষ নেই। কারণ ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তা’ণ্ডব সব কিছু ল’ণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। আর কয়েক দিন পরেই সব ধরনের আম পাড়া শুরু হবে। এরই মাঝে সব কিছু শেষ করে দিল আম্পান। কীভাবে আমে লাগানো পুঁজি ঘরে তুলবেন তা আল্লাহই জানেন।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার রায়পুর এলাকায় সরেজমিন গেলে সেখানকার আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা এভাবেই তাদের কথাগুলো বলছিলেন।

কালুহাটি গ্রামের আমচাষী বীর বাহাদুর জানান, ঝড়ে আমসহ ভুট্টা ও তিলের ব্যাপক ক্ষ’তি হয়েছে। যে আম বিক্রি হতো ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে, সেই আম ঝড়ে পড়ে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০ পয়সা কেজি দরে। আম কেনার লোকও পাওয়া যাচ্ছে না।

এমনকি করোনায় আম নিয়ে রয়েছে সংশয়। তার ওপর এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ সবার জীবনে বয়ে এনেছে ক’ষ্ট। আমবাগানে যেতেই মন ভেঙে পড়ছে। এভাবে কখনও ঝড়ে এমন ক্ষ’তি হয়নি।

বিষয়টি সম্পর্কে উপপরিচালক রাজশাহী কৃষি কর্মকর্তা শামসুল হক বলেন, আমের ব্যাপক ক্ষ’তি হয়েছে, যা পুষিয়ে ওঠা কঠিন হবে। তবে দুটি উপজেলায় গড়ে ১২ শতাংশ আমের ক্ষ’তি হয়েছে। এতে প্রায় ২৫-৩০ কোটি টাকার ক্ষ’তি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ফসলের তেমন একটা ক্ষ’তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

এদিকে ঝড়ে আমসহ ফসলের ক্ষ’তি ছাড়াও ব্যাপক ক্ষ’তির মুখে পড়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বুধবার সন্ধ্যা থেকে চারঘাট-বাঘা উপজেলা ছিল বিদ্যুৎবিহীন। কোথাও ছিল না বিদ্যুৎ। তবে দুপুরের দিকে দুটি উপজেলার কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে পারলেও অনেক এলাকা এখনও রয়েছে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায়।

বিষয়টি সম্পর্কে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২-এর চারঘাট জোনাল অফিসের ব্যবস্থাপক মুক্তার হোসেন বলেন, বিদ্যুতের মেইন লাইনের ওপর গাছপালা ভেঙে পড়ায় অনেক এলাকায় এখনও বিদ্যুৎ চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যেই চেষ্টা করছি সব এলাকায় বিদ্যুৎ সচল করতে।

সার্বিক বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা সামিরা বলেন, ঝড়ে আমের ব্যাপক ক্ষ’তি হয়েছে। তবে ঘরবাড়িসহ ফসলের তেমন ক্ষ’তি হয়নি।

শেয়ার করুন !
  • 184
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!