জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে শেখ হাসিনার ৫টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

0

সময় এখন ডেস্ক:

আজ জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতির উদ্দেশ্যে তিনি অনেক ভাষণই দিয়েছেন। টানা ৩ মেয়াদসহ মোট ৪টি মেয়াদে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সময়ে শতাধিক ভাষণে তিনি জাতিকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পথনির্দেশনা দিয়েছেন, জাতিকে অনেক আনন্দ-বেদনার কথা শুনিয়েছেন। কিন্তু এই ভাষণটি ছিল ভিন্ন মাত্রার। এই ভাষণটি ছিল সংক্ষি’প্ত। ১৫ মিনিটের কম সময়ের এই ভাষণটি ছিল মেদহীন ও বাহুল্যহীন এই ভাষণে প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট কিছু কর্মপন্থা এবং নির্দেশনা দিয়েছেন।

সেই বিবেচনায় ১৯৮১ সাল থেকে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব গ্রহণ করা শেখ হাসিনার এটা অন্যতম সেরা ভাষণ হিসেবে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে এই ভাষণে যেমন তিনি মানুষকে সাহস দিয়েছেন, কর্মপন্থা দিয়েছেন এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। এই ভাষণে তাঁর যে ৫টি নির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেই নির্দেশনাগুলো একটু খতিয়ে দেখা যাক-

১. অর্থনীতি বন্ধ হয়ে থাকতে পারে না

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণের শেষ দিকে স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন যে, অর্থনীতিকে সচল রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, করোনা ভাইরাসকে সঙ্গে করে চলতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেছেন যে, করোনা ভাইরাস সহসা দূর হবার নয় এবং নতুন একটি ভ্যাক্সিন আসা পর্যন্ত এটার যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। অনির্দিষ্টকালের জন্য সবকিছু বন্ধ করে রাখা সম্ভব নয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশে তো নয়ই। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী সুস্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন, করোনার সাথেই তিনি বসবাস করতে চান, করোনাকে নিয়েই তিনি ল’ড়তে চান এবং এই চ্যালেঞ্জ তিনি মোকাবেলা করতে চান।

২. প্রান্তিক মানুষের পাশে থাকা

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, তিনি প্রান্তিক মানুষের পাশে আছেন এবং যতদিন পর্যন্ত তাদের অভাব-অনটন দূর না হবে যতদিন পর্যন্ত স্বাভাবিক কর্মজীবনের মাধ্যমে তারা কর্মসংস্থানের সৃষ্টি না করবে ততদিন পর্যন্ত সরকার তাদের পাশে আছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে সরকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্যে যে সকল প্রণোদনা প্যাকেজগুলো দিয়েছেন তা সংক্ষেপে উল্লেখ করে জনগণকে অভয় দিয়ে বলেন, আমি এবং আমার সরকার সবসময় আপনাদের পাশে আছি।

৩. ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা

প্রধানমন্ত্রী তাঁর এই ভাষণে বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষের প্রতি ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী যাদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ্য করেছেন তাদের মধ্যে ছিল ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন, যারা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যারা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে করোনায় আক্রা’ন্ত হয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। সংবাদকর্মীদের প্রতি তিনি ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানান। বিদেশে যে সকল বাংলাদেশী করোনায় আক্রা’ন্ত হয়ে মা’রা গেছেন, ৬শ’র বেশি সেই প্রবাসী নাগরিকদের পরিবারের প্রতি তিনি সমবেদনা জানান। এই ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষকে আরো উদ্দীপ্ত করেছেন।

৪. আপনার সুরক্ষা আপনার হাতে

প্রধানমন্ত্রী তাঁর কালোর্ত্তীণ এবং দিকনির্দেশনামূলক ভাষণে করোনা মোকাবেলার সহজতম উপায়টি জনগণদের বাতলে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আপনার সুরক্ষা আপনার হাতে। মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেছেন, আপনি সুরক্ষিত থাকলেই দেশও সুরক্ষিত থাকবে।

৫. জনগণকে সাহস দেয়া

প্রধানমন্ত্রী তাঁর এই ভাষণে কোনো প্যানিক ছড়াননি, মানুষকে হতা’শ করেননি। তিনি মানুষকে সাহস দিয়েছেন এবং সরকার যে মানুষের পাশে আছে সেটা বলে অভয় দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এই ভাষণের শেষে বলেছেন, ঝড়-ঝাপটা, মহামা’রি থাকবেই, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেটাকে মোকাবেলা করতে হবে এবং জনগণ ঐক্যব’দ্ধ থাকলে যে কোনো সমস্যা ঠেকানো করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী জনগণকে করোনা মোকাবেলার জন্য যে অভয় দান করলেন সেটা একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

এসব দিক বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে মনে করা হচ্ছে দিকনির্দেশনা প্রদানকারী ও উদ্দীপনামূলক। তাঁর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বাস্তবায়নের কৌশল তিনি জনগণকে অবগত করেছেন। তিনি বারবার বলেছেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই তিনি সং’কট মোকাবেলা করতে চান।

শেয়ার করুন !
  • 780
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!