কেন একের পর এক উদ্ভট সিদ্ধান্ত?

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

করোনা সং’কট শুরুর পর থেকে সরকার একের পর এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে করোনা মোকাবেলায়, অর্থনৈতিক সং’কট কাটিয়ে ওঠার জন্য। তবে এই সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত নেয়া হয়েছে এবং পরিকল্পিত ছিল না। ফলে অনেকেই সিদ্ধান্তগুলোকে উদ্ভট বলে মনে করছেন। ফলে করোনার ঝুঁ’কি যেমন বাড়ছে, তেমনি জনজীবনে অ’স্থিরতা ও নে’তিবাচক মনোভাব তৈরি হচ্ছে।

সরকার শুরুতেই যখন ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলো, তখন প্রশ্ন উঠলো- এটা সাধারণ ছুটি না লকডাউন? তখন মন্ত্রীপরিষদ সচিব জানালেন, এটা ‘সোশ্যাল ডিস্টেনসিং’, আমরা লকডাউন বলতে চাইনা। কিন্তু এই ছুটিকে লকডাউন না বলার কারণে মানুষ মনে করলো, এটা বোধহয় উপভোগের ছুটি। লোকজন লঞ্চে, বাসে, ট্রেনে ঘরমুখী হয়ে ছুটলো।

শুধু তাই নয়, এই সময় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলো, কেউ কর্মস্থল ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে যেতে পারবে না। অথচ গণপরিবহন উন্মুক্ত রাখা হলো। ফলে ২৩ মার্চ ছুটি ঘোষণার সাথে সাথে গণপরিবহনে মানুষ বাড়িতে যাওয়া শুরু করলো। ৫ম দফা ছুটির মেয়াদ বাড়িয়েয় বলা হলো, এই ছুটি হবে অত্যন্ত কঠোর। এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাওয়া যাবেনা এবং কী কারণে যাচ্ছেন সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। কিন্তু সেই সময় সরকারি অফিস আংশিক খুলে দেয়া হলো, ব্যাংক আগে থেকেই খোলা ছিল, পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া হলো এবং দোকানপাট খুলে দেওয়া হলো।

দোকানপাট খুলে দেওয়ার সময় জানানো হলো, দোকানে যেতে হলে ভোটার আইডি কার্ড, ইলেকট্রিক বিলের কপি বা পরিচয়পত্র- যে কোন কিছু নিয়ে যেতে হবে এবং এক এলাকার লোক অন্য এলাকায় গিয়ে কেনাকাটা করতে পারবে না। এই সিদ্ধান্ত শুধু উদ্ভটই ছিল না, হাস্যকরও ছিল এবং পরবর্তীতে এই সিদ্ধান্ত কাউকে বাস্তবায়ন করতে দেখা যায়নি।

প্রশ্ন উঠেছে, যদি সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে, তা বাস্তবায়ন করা হবেনা কেন। দোকানপাট খোলা থাকবে কিন্তু ফুটপাত বন্ধ থাকবে। অথচ কিছুদিন আগেই সরকার খোলা মাঠে কাঁচাবাজার বসানোর নির্দেশনা দিয়ে বললো, উন্মুক্ত স্থানে বাজার হলে লোকজন সং’ক্রমিত হওয়ার সুযোগ কম হবে। তাহলে ঈদের কেনাকাটার জন্যে দোকান খোলা হলেও ফুটপাত বন্ধ হলো কেন?

আবার ৭ম দফায় ছুটি যখন বাড়ানো হলো তখন সরকার বললো, কেউ ঢাকা থেকে বের হতে পারবে না, ঢুকতেও পারবে না। কিন্তু লোকজন যখন দল বেঁধে ঢাকা থেকে বের হতে শুরু করলো তখন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ঢাকায় প্রবেশ ও ত্যাগের উপর নিষে’ধাজ্ঞা প্র’ত্যাহার করা হলো। তখন বলা হলো, গণপরিবহন চলবে না। তবে ব্যক্তিগত যানবাহনে যাওয়া যেতে পারে। যদি ব্যক্তিগত যানবাহনে যেতে পারে তাহলে গণপরিবহনে যাওয়া যাবেনা কেন? বরং এর ফলে যেটা হচ্ছে, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত পরিবহন গণপরিবহন হিসেবে ব্যবহৃত হলো। এতে করোনার ঝুঁ’কি আরও বাড়ল। প্রশ্ন উঠেছে, কেন একের পর এক এমন উদ্ভট সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে? এর ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা কতগুলো সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে বের করেছেন।

১. সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাব

দেখা যাচ্ছে, গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো পরিকল্পিত নয়। সিদ্ধান্তগুলোর ইমপ্যাক্ট কী, ইমপ্লিমেন্ট কীভাবে করা হবে, কীভাবে দেশ লাভবান হবে, সে ব্যাপারে কোন ভাবনা ছিল না।

২. সুদূরপ্রসারী কোন ভাবনা নেই

একটি সিদ্ধান্তের পেছনে কোন সুদূরপ্রসারী চিন্তা ছাড়াই তা গ্রহণ করা হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে যখন যা মনে হচ্ছে, তখন সেই সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। এর পরিণাম কী হবে তা ভাবা হচ্ছেনা।

৩. আমলাতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি

প্রত্যেকটি সিদ্ধান্তের মধ্যে কোন গবেষণা নেই, এগুলোর পেছনের কার্যকারণ বিশ্লেষণের প্রবণতা নেই। আমলাতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শুধু যতটা প্রয়োজন, ততটা মেটাতে সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হচ্ছে।

৪. মেধা, দক্ষতা ও দূরদৃষ্টিতার অভাব

প্রত্যেকটি সিদ্ধান্তের পেছনে মেধা, দক্ষতা ও দূরদৃষ্টিতার অভাব দেখা গেছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যে ভেবে-চিন্তে নেওয়া হচ্ছে, তা প্রতীয়মান হচ্ছেনা, সমস্যার গভীরে যাওয়া হচ্ছেনা। সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সমস্যার গভীরে যেতে হয় এবং কেন সমস্যাটি তৈরি হয়েছে তা বুঝতে হয়। তা না বুঝে যদি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তাহলে সেই সিদ্ধান্তটা হিতে বিপরীত হতে পারে এবং এখন যা হচ্ছে।

সমস্যার গভীরে না যাওয়ার কারণে সিদ্ধান্তগুলো এমন হচ্ছে। তবে এমন অগোছালো ও উদ্ভট সিদ্ধান্তের কারনে করোনা মোকাবেলায় দেশের সামগ্রিক পরিকল্পনায় একটি বড় ধরনের বি’ঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাইনসাইডার

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!