টেস্টের আগেই কিটের পেছনে ৪ কোটি টাকা খরচ করে ফেলেছে গণস্বাস্থ্য!

0

সময় এখন ডেস্ক:

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এরইমধ্যে ৪ কোটি টাকা খরচ করে ফেলেছে ‘জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লট’ প্রকল্পে। কিন্তু প্রকল্পের আওতায় উৎপাদিত কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ কিটের রেজিস্ট্রেশন এখনও পায়নি তারা। ফলে উদ্ভাবনের স্বীকৃতি না পাওয়ার হতা’শার সঙ্গে আর্থিক ক্ষ’তির বিষয়টিও সামনে চলে আসছে।

করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে আসার আগেই গত ফেব্রুয়ারি মাসে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র-আরএনএ বায়োটেক লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী করোনা ভাইরাস সং’ক্রমণের ফলে সৃষ্ট কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ কিট উদ্ভাবন করেন। অন্য গবেষকরা হলেন ড. ফিরোজ আহমেদ, ড. নিহাদ আদনান, ড. মো. রাইদ জমিরুদ্দিন ও ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এই গবেষণা কর্মের শুরু থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) এক্সটার্নাল ভ্যালিডেশন ফি-সহ কিটের স্যাম্পল জমা দেওয়া পর্যন্ত গত ৩ মাসে ‘জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লট’ প্রকল্পে প্রায় ৪ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এ টাকার পুরোটাই গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ফান্ড থেকে ব্যয় করা হয়েছে। এই ব্যয়ভার বহন করা গণস্বাস্থ্যে কেন্দ্রের মতো একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের কাছে খুব ক’ষ্টসাধ্য বলে মনে করছেন প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞানীরা।

জানা গেছে, উদ্ভাবনের প্রথম ধাপেই বিশাল অংকের একটি অ্যামাউন্ট খরচ করতে হয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে। এরপর রিএজেন্ট আমদানির অনুমোদন পাওয়ার পর এলসি খোলা থেকে শুরু করে যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরেক দফা অর্থ ব্যয় করতে হয় প্রতিষ্ঠানটিকে।

কিন্তু নানা জটিলতায় ইংল্যান্ডের দ্য এন্টিজেন কোম্পানি থেকে রিএজেন্ট আসতে বিলম্ব হওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে চীন থেকে রিএজেন্ট আনতে হয় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে। ফলে আরেক দফা খরচ বেড়ে যায় প্রতিষ্ঠানটির। এপ্রিলের ৭ তারিখে চীন থেকে আসা ১০ কেজি রিএজেন্ট দিয়ে ১০ হাজারের মতো কিট তৈরি করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। সেই কিট হস্তান্তর ও অনুমোদন জটিলতার মধ্যেই ইংল্যান্ড থেকে ১০০ কেজি রিজএজেন্ট ঢাকায় আসে। ফলে সেগুলোর জন্য পুরো অর্থ ব্যয় করতে হয় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে।

এদিকে চীন ও ইংল্যান্ড থেকে আসা প্রথম ধাপের রিএজেন্ট দিয়ে কিট তৈরি বা বাজারজাত করার সুযোগ না পেলেও সম্প্রতি চীন থেকে ঢাকায় পৌঁছেছে রিএজেন্টের দ্বিতীয় চালান। এ চালানে আরও ১০০ কেজি রিএজেন্ট হাতে পেয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। এগুলোর জন্যও অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে।

শুধু রিএজেন্ট আমদানি নয়, কিট উৎপদানের জন্য কারখানা স্থাপন, অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে কাঁচামাল ক্রয়, শ্রমিকদের বেতন, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি, ল্যাবরেটরি চার্জ সর্বোপরি বিজ্ঞানীদের সম্মানী বাবদ মোটা অংকের টাকা খরচ করতে হয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে।

এছাড়া কিট ব্যবহারের জন্য দেশীয় প্রযু্ক্তিতে প্রতিটা কিটের জন্য একটা করে ডিভাইস তৈরি, প্যাকেজিং, লোগো, এন্টিজেন, এন্টিবডির জন্য পৃথক পাত্র তৈরিতেও মোটা অংকের টাকা খরচ হয়েছে ‘জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লট’ প্রকল্পে। পাশাপাশি কিট ইন্ট্রুডিউস করতে গিয়ে সভা-সেমিনার, বিজ্ঞাপন তৈরি, সংবাদ সম্মেলন, সরকারি দপ্তরে চিঠি চালাচালি, এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে যাওয়া, সর্বোপরি এক্সটার্নাল ভ্যালিডেশন ফি— সব মিলে এখন পর্যন্ত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মোট খরচ ৪ কোটি টাকা।

এত অর্থ, সময় এবং শ্রম ব্যয় করার পরও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। টানা ৩ মাস পরিশ্রমের পর সাফল্য বলতে ১০ হাজার কিট উৎপাদন এবং সেগুলোর ভ্যালিডেশনের জন্য বিএসএমএমইউ পর্যন্ত পৌঁছানো। অবশ্য অনুমোদন পাওয়ার পর কিট উৎপাদনে যাওয়ার জন্য যে রিএজেন্ট প্রয়োজন সেটা এখন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের হাতে রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত ১০ হাজারের মতো কিট তৈরি করেছি। যে রিএজেন্ট আমাদের হাতে আছে, সেটা দিয়ে আরও ১ লাখ কিট উৎপাদন করতে পারব। সরকার যদি আজ আমাদের অনুমোদন দেয়, কালকেই আমরা উৎপাদনে যেতে পারব। এসব যোগাড়-গোছাল করতে আমাদের ৪ কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে। অথচ এখন পর্যন্ত কিট ব্যবহারের অনুমোদনই আমরা পেলাম না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অবস্থাটা এমন এক পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে যে, সরাসরি কাউকে দোষারোপও করতে পারছে না গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। কারণ, ওষুধ প্রশান বলছে- ভ্যালিডেশনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেটির রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত আমাদের করার কিছু নেই। অন্যদিকে ভ্যালিডেশনের দায়িত্ব গ্রহণ করা বিএসএমএমইউ নিজেদের গতিতে এগোচ্ছে। গণস্বাস্থ্যের কিটের জন্য তারা ঈদের ছুটিতে কাজ করবে কেন?

অবশ্য বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কাউকে দায়ী করছে না গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা। বরং ধৈর্য্যের সঙ্গে অপেক্ষা করছেন চূড়ান্ত পরিণতি দেখার জন্য। আস্থা রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি। তাদের বিশ্বাস দেরিতে হলেও বাংলাদেশেই কিটের রেজিস্ট্রেশন হবে।

এ প্রসঙ্গে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমরা এখনই কারও সম্পর্কে কোনো নে’তিবাচক কথা বলব না। যে দেশ ইমার্জেন্সি বোঝে না, ঈদের ছুটিতে হাসপাতাল বন্ধ থাকে, বছরের ৫ মাস কোর্ট বন্ধ থাকে, সে দেশে কথা বলে আর কী হবে? আমরা ধৈর্য্য ধরছি, আরও ধৈর্য্য ধরব। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমাদের আস্থা আছে। তিনি নিশ্চয় বিষয়টি দেখবেন।

সারাবাংলা

শেয়ার করুন !
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!