‘যারা আওয়ামী লীগ করে তারা নাফরমান, ইহুদী-নছরা’: কক্সবাজারে জামায়াত নেতার ফতোয়া

0

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

সদ্য বিদায়ী রমজান মাসে রোজা না রাখা, নামাজ না পড়া ও মুখে দাঁড়ি না রাখার দায়ে ৭৪ জনকে পি’টিয়ে আহত করেছেন কক্সবাজারের একজন ইউপি চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা। এই ঘটনায় আওয়ামী লীগের এক নেতা আইনের আশ্রয় নেওয়ায় ঘটনাটি জানাজানি হয়েছে। নামাজরত অবস্থায় মসজিদের ভেতরে ‘আওয়ামী লীগ যারা করে তারা নাফরমান ও ইহুদী-নছরা’ বলে প্র’হারের ঘটনায় জামায়াত নেতা মওলানা বদিউল আলম জি’হাদীর বিরু’দ্ধে থানার অভিযোগ করেছেন।

এই ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নে।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন আজ বুধবার জানিয়েছেন, বাংলাদেশে সংবিধান রয়েছে, রয়েছে প্রচলিত আইন ও বিচার ব্যবস্থা, স্বাধীনতা রয়েছে নাগরিকের ধর্মীয় অনুশাসন পালনের। তাই এখানে ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত ইচ্ছাপূরণের কোন সুযোগ নেই। আহত ওই ব্যক্তি আইনের সাহায্য চেয়েছেন, তাই আইনগতভাবেই মামলা নেওয়ার জন্য আমি নির্দেশ দিয়েছি।

অপরদিকে পেকুয়া-চকরিয়া আসনের এমপি জাফর আলম বলেছেন, করোনাকালের এই সময়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করার কাজটি মোটেই ভালো হয়নি।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল আজম জানিয়েছেন, মসজিদের ভেতর নামাজরত অবস্থায় এক মুসল্লীকে আহত করার ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ জড়িতদের বিরু’দ্ধে থানায় আজ বুধবার মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

আহত আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলামের দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায়, ইউপি চেয়ারম্যান মওলানা বদিউল আলম জামায়াতের রাজনীতি করেন তাই তার সাথে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরো’ধ রয়েছে। যার কারনে তাকে মসজিদের নামাজে পড়া অবস্থাতেই চেয়ারম্যান তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যারা করে তারা নাফরমান ও ইহদী-নছরা’। এরপরই চেয়ারম্যানের আদেশে শিবির ক্যাডার সেলিম ও আমানুল্লাহ মিলে নুরুল ইসলামকে নামাজের কাতার থেকে টেনে মসজিদের বারান্দায় নিয়ে আসে। সেখানে ফেলে চেয়ারম্যানসহ অন্যরা তাকে প্র’হার করেন।

আহত আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম বলেন, আমি যদি নামাজ না পড়ে থাকি তাহলে আমাকে মসজিদের ভেতর এশার নামাজের কাতারে পেয়েছে কীভাবে? এসব করা হয়েছে রাজনৈতিক কারনেই। চেয়ারম্যান বদিউলের বাহিনী আমার ৭ম শ্রেণীতে পড়ুয়া দুই শিশুপুত্র বাচ্চু ও আব্বাছকেও মা’রধর করেছে।

জানা গেছে, পেকুয়ার বারবাকিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মওলানা বদিউল আলম জি’হাদী জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত। তার বিরু’দ্ধে অভিযোগ আছে, তিনি দেশের প্রচলিত আইন কানুনের কোনো পরোয়া করেন না। যখন তখন লোকজনদের ধরে এনে প্রকাশ্যে মা’রধর করেন। যা এলাকায় সবারই জানে। তবে গুরুতর অভিযোগ- যা চেয়ারম্যান বদিউল আলম কথায় কথায় বলেন, তিনি দেশের আইন কানুনের ধার ধারেন না। তিনি নিজের আইনেই এলাকা শাসন করেন।

আজ বুধবার দুপুর আড়াইটার সময় মোবাইলে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মওলানা বদিউল আলম বলেন, আমার কাছে একটি ছোট তার আছে (রাবারের আবরণ দেয়া বৈদ্যুতিক তার)। সেটা দিয়ে আমি বিভিন্নজনকে সাজা দিয়ে থাকি। এটা আমার দীর্ঘদিনের অভ্যাস। আমি এ পর্যন্ত ২ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান।

জামায়াত নেতা বদিউল আলম আরও জানান, ইউনিয়নে ৫ নম্বর ওয়ার্ডে তিনি বসবাস করেন। এখানকার ফাইস্যাখালী নামের একটি বড় গ্রামে ৩টি সমাজ রয়েছে। এসব সমাজে যারা নামাজ পড়ে না, যারা রোজা রাখেন না এবং যেসব পুরুষ মুখে দাঁড়ি রাখে না, তিনি তাদের তালিকা করেছেন। এই তালিকাভুক্ত ৭৪ জনকে ওই তারটি দিয়ে সাজা দিয়েছেন। ইসলামী শরীয়া আইন অনুযায়ী এভাবে সাজা দেয়া জায়েজ।

পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কাশেম এ প্রসঙ্গে বলেন, পেকুয়ার বারবাকিয়া ইউনিয়নটিতে জামায়াত শিবিরের জন্য একটি উর্বর এলাকা। জামায়াতি ইউপি চেয়ারম্যান বদিউল আলম করোনাকালে ধর্মের নামে দেশে একটি অ’স্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরীর চেষ্টা করছেন। এমন সুযোগ তাদেরকে কিছুতেই দেওয়া হবে না। ব্যক্তি স্বাধীনতার ওপর তিনি হস্তক্ষেপ করতে পারেন না।

শেয়ার করুন !
  • 1.6K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!