সব কিছু খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তটা কি আত্মঘা’তী নাকি দূরদর্শী?

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

বাংলাদেশ করোনাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। বিশ্বে সম্ভবত বাংলাদেেই প্রথম দেশ, যেখানে করোনা সং’ক্রমণের চূড়ান্ত পর্যায়ে সবকিছু খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তুমুল বিত’র্ক সৃষ্টি হচ্ছে, পাশাপাশি জনমনে আত’ঙ্ক এবং অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে। কিন্তু জীবন জীবিকার মধ্যে সরকার জীবিকাকেই বেছে নিয়েছে।

গত কিছুদিন ধরেই বিশেষজ্ঞরা বলছিলেন, কয়েকদিনের জন্য কঠিন লকডাউন বা কার্ফিউ প্রয়োজন। কিন্তু সরকারের নীতি-নির্ধারকরা কার্ফিউ-লকডাউনের বিরো’ধিতা করে বলেছেন, অর্থনীতিকে সচল রাখাটাই এখন জরুরী। আর এই দুই মতামতের মধ্যে সরকার আমলাদের সিদ্ধান্তটাই গ্রহণ করেছে। এতে সরকার অনেক বড় এক ঝুঁ’কি নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এখন প্রশ্ন হলো, এই সিধান্ত কি অ’ন্যায্য হলো নাকি অর্থনীতিকে বাঁচানোর জন্য দূরদর্শী সিদ্ধান্ত? যদিও বিশেষজ্ঞরা একে আত্মঘা’তীই মনে করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে এতে সারাদেশে করোনা ছড়িয়ে যাবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে অফিস করবে কয়জন, তা নিয়ে ভাবতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতামত দেখা যাক-

১. এখন করোনার চূড়ান্ত সময় চলছে, কাজেই এখন সবকিছু খুলে দিলে সামাজিক সং’ক্রমণ সারা দেশে ছড়িয়ে যাবে এবং হার্ড ইমিউনিটির দিকে দেশ চলে যাবে। ফলে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়বে এবং মৃ’ত্যুর সংখ্যাও বাড়বে।

২. সব খুলে দেয়া হলেও গণপরিবহন বন্ধ আছে। এতে গ্রামে যারা ছুটিতে বাড়ি গেছেন তারা হুড়োহুড়ি করে ঢাকার দিকে ছুটে আসবেন চাকরি বাঁচাতে। ফলে ভীড়, জনসমাগম এবং মানুষের ভো’গান্তি দেখা দিবে আবার, যার ফলে সামাজিক সং’ক্রমণও বেড়ে যাবে।

৩. বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন পিক সময়ে যদি সবকিছু খুলে দেয়ায় সামাজিক সং’ক্রমণ বাড়ে, তাহলে করোনার সং’ক্রমণ একটি দীর্ঘমেয়াদী পথে যাবে। অন্য দেশগুলো যেমন ৩ বা ৪ মাস পর করোনা থেকে মুক্তির পথ খুঁজেছিল, বাংলাদেশ সে পথে যাবেনা বরং পিক সময়ে চলতেই থাকবে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়তেবে। অন্যদিকে যারা ভাবছেন, এটি দূরদৃষ্টি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তাদের মতে, বাংলাদেশে করোনা সং’ক্রমণ বাড়লেও মৃ’ত্যুর হার অনেক কম। ফলে এমন একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ নেয়াই যায়। তাদের মতে, ক. এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি সচল হবে। বাংলাদেশ দ্রুত রপ্তানি আয় বৃদ্ধিসহ বিদেশের বাজার দখ’লের নতুন প্রতিযোগিতায় ভালো ফলাফল লাভ করবে। খ. এতে মানুষের মধ্যে সচেতনেতা বাড়বে। মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য নিজেরাই উদ্যোগী হবে। নিজের সচেতনেতাই সবচেয়ে বড় কথা।

৪. সরকার ভাবছে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিমধ্যে যে ধ্ব’স নেমেছে তা আস্তে আস্তে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। অর্থনীতির গতি সঞ্চার হলে দারিদ্রতা কমবে, কর্মহীন মানুষ কাজ ফিরে পাবে। বাংলাদেশে একটা গতি ফিরে আসবে। আর এতে করে জনজীবনে যে স্থ’বিরতা চলে এসেছিল, সেটি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে মানুষ, মনোবল ফিরে পাবে তারা।

৫. তাদের মতে, এর মাধ্যমে বাংলাদেশে করোনাকে অন্য দশটি রোগের মতোই বিবেচনা করা হবে। যা সারাবিশ্বের জন্য একটা মডেল হতে পারে। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈদের আগে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণেই ইঙ্গিত করেছিলেন, তিনি অর্থনীতির গতি বন্ধ রাখতে চান না। বাংলাদেশ গত ২ মাস ধরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিহীন রাখার মাধ্যমে বাংলাদেশের যে ক্ষ’তি হয়েছে, তা করোনায় ক্ষ’তির চেয়ে বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।

গভীরে দেখলে, বাংলাদেশের সামনে দুটি বিকল্প ছিলো; ১. করোনার সঙ্গে বসবাস, ২. করোনাকে ভ’য় পেয়ে ঘরে বসে থাকা। এই দুটি বিকল্পের মধ্যে বাংলাদেশ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ করোনার সঙ্গে বসবাসের নীতিকেই গ্রহণ করেছে। এর মূল্য কী দিতে হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।

তবে শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কি ভুল প্রমাণিত হবে নাকি দূরদর্শী সিদ্ধান্ত হিসেবে একটা রোল মডেল হবে সেটি সময়ই বলে দিবে। মূলতঃ প্রথম বিবেচনায় একে অবশ্যই একটি ব্যতিক্রমী ও সাহসী সিদ্ধান্ত বলাই যায়।

শেয়ার করুন !
  • 57
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply