শেখ হাসিনা কি বড় বেশি ঝুঁ’কি নিয়ে ফেলেছেন?

0

বিশেষ প্রতিবেদন:

এটা এখন স্পষ্ট, করোনার সঙ্গে বসবাস এবং করোনাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বেঁচে থাকার সিদ্ধান্তটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারই। প্রধানমন্ত্রী একজন দুরদর্শী রাজনীতিবিদ। তিনি শুধু দেশের নেতা নন, বিশ্বনেতাও বটে। কাজেই তিনি নিশ্চয়ই সবকিছু ভেবেচিন্তে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং জীবন-জীবিকার দোটানার মধ্যে তিনি জীবিকাকেই বেছে নিয়েছেন।

অবশ্য প্রধানমন্ত্রী যে করোনাকে অ’গ্রাহ্য করে সবকিছু স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ব্যাপারটি তেমন নয়। বরং তিনি ‘আপনার সুরক্ষা আপনার হাতে’- এই নীতিতে জনগণকে কিছু দায়িত্ব দিয়েছেন। জনগণের বেঁচে থাকার জন্য যেমন তার অর্থনৈতিক গতি দরকার, কাজ দরকার, দিনের পর দিন যেমন তার ঘরে বসে থাকা সম্ভব নয়, তেমনি তার নিজের সুরক্ষাও নিজের ওপর।

আর এজন্যই শেখ হাসিনা সবকিছু খুলে দেওয়ার একটি নতুন মডেল উপস্থাপন করেছেন জাতির সামনে। এই মডেল সফল করার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সরকারের ভূমিকা নয়, জনগণের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জানি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি শান্তিপূর্ণ দর্শন রয়েছে যেটা জনগণের ক্ষমতায়ন। যা সর্বসম্মতিক্রমে জাতির সামনে গৃহীত হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবন বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, তিনি জনগণকে সাথে নিয়েই সবকিছু করেছেন। লকডাউন তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের একটি বড় অনুষঙ্গ জনগণ। জনগণ যদি সচেতন থাকে, যদি সঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে, নিজের সুরক্ষার বিষয়গুলো প্রতিপালন করে, তাহলে হয়তো বাংলাদেশ করোনা পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেও করোনা আমাদের জন্য বড় ধরণের কোন হুম’কি তৈরি করতে পারবে না। আর যদি আমরা স্বাস্থ্যবিধি না মানি, নিজের সুরক্ষা ব্যবস্থার কথা না ভাবি, সচেতন না হই, তাহলে বাংলাদেশের জন্য বড় সং’কট অপেক্ষা করছে।

প্রধানমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কার্যত জনগণের হাতেই ক্ষমতা তুলে দিলেন এবং জনগণকেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দুতে আনলেন। যদিও এর ফলে প্রশ্ন উঠেছে, শেখ হাসিনা কি বড় ধরনের ঝুঁ’কি নিলেন?

সরকারের পক্ষ থেকে যে প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়েছে, তাতে স্বাস্থ্যবিধি মানার করণীয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশ্ন হলো, এসবই মেনে চলতে হবে জনগণকে। এখন জনগণ কতটা প্রস্তুত, কতটা দায়িত্ববান, কতটা সচেতন- তা দেখার বিষয়। এর আগেও দেখেছি, গত ২৬ মার্চ যখন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার পর আমরা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিইনি, সচেতন হইনি। বরং আমরা বিনোদন হিসেবে গ্রহণ করেছি ছুটিকে। বাজারে গেছি, কেনাকাটা করেছি, ব্যাংকে গিয়েছি, এখানে-সেখানে অযথা ঘোরাঘুরি করেছি। এখন আমরা যখন করোনার দ্বিতীয় পর্যায়ে, সরকার সবকিছু খুলে দিচ্ছে, তখন আমরা কতটা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পারবো সেটাই দেখার বিষয়।

সরকার জনগণের উপর এতবড় দায়িত্ব দিয়ে কি বেশি ঝুঁ’কি নিয়ে ফেলেছে? জনগণ যদি দায়িত্বশীল ও সচেতন না হয়, স্বাস্থ্যবিধি না মানে তাহলে ব্যর্থ হবে পুরো দেশ। সামাজিক সং’ক্রমণ দ্রুত বেড়ে যাবে। যদি সচেতন থাকি, দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিই, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি তবেই এই কঠিন পরিস্থিতি উৎরে যাওয়া সম্ভব। তাই শেখ হাসিনা সবাইকে দায়িত্ববান হতে বলছেন, জনগণের হাতে দেশের সুরক্ষার দায়িত্ব তুলে দিলেন, এটি কি জুয়াখেলা হয়ে গেল? বিশেষতঃ বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে মানুষ এখনো সচেতন নয়, যে দেশের মানুষ এখনো করোনার তোয়াক্কা করে না।

আমরা লক্ষ্য করেছি, করোনার শুরু থেকেই শেখ হাসিনা কঠিন কঠোর পথে যাননি। তিনি অন্যান্য দেশগুলোর মতো সারাদেশে একসাথে কারফিউ বা লকডাউন করেননি, তিনি পুলিশ দিয়ে পিটিয়ে মানুষকে ঘরে তোলার পদ্বতি গ্রহণ করেননি। তার প্রতিটি পদক্ষেপের দুটি দিক ছিলো; একটি হলো, জনগণ নিজেরা বুঝে কাজটি করুক। দ্বিতীয়ত, মানুষের যেন রুটি রুজির পথ বন্ধ না হয়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখা। এটি করতে গিয়ে সম্ভবত শেখ হাসিনা এই ঝুঁ’কিটি নিয়েছেন।

শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্তটা নিয়েছেন, সেটা সফল করা সরকারের একার কাজ না, এটা সম্ভবও না। এই যৌথ সিদ্ধান্ত। জনগণ ও সরকারের সমান অংশীদারিত্ব। সরকার নিজ দায়িত্ব পালন করলো, কিন্তু জনগণ নিজ কাজটুকু না করে, স্বাস্থ্যবিধি না মানে, নিজের সুরক্ষা না করে- তাহলে যে কোন অ’ঘটন ঘটতে পারে। এই যৌথ দায়িত্ব বন্টনের সিদ্ধান্তটি কি ঝুঁ’কিপূর্ণ হলো? সময়ই হয়তো এর উত্তর দেবে।

বাংলাইনসাইডার

শেয়ার করুন !
  • 1.2K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.net-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.net আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।

Leave A Reply

error: Content is protected !!